‘সুশান্ত ঘোষ গুন্ডা হ্যায়’, ইসলিয়ে মার দিয়া: আফরোজ

অপরাধ কলকাতা রাজনীতি রাজ্য শহর

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কসবার তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষকে খুনের চেষ্টার ঘটনায় মূল চক্রান্তকারীকে গ্রেফতার করল কলকাতা পুলিশ। তাঁর নাম আফরোজ ওরফে গুলজার। আজ শনিবার বর্ধমানের গলসি থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। বাইক নিয়ে সে বিহারে পালিয়ে যাচ্ছিল বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। বিহারের জামুইতে তাঁর বাড়ি। এই ঘটনার পরিকল্পনা তিনিই করেছিলেন বলে পুলিশের হাতে ধরা পড়ার পর সে কথা স্বীকার করেন আফরোজ খান ওরফে গুলজার।

জানা গেছে কসবার বাসিন্দা আফরোজের তৃণমূল কাউন্সিলরের ওপর ক্ষোভ ছিল। তার জন্য সে সুশান্ত ঘোষকে খুন করার পরিকল্পনা করেছিল। গলসি থানা থেকে বেরোনোর সময় তিনি বলেন, ‘সুশান্ত ঘোষ গুণ্ডা হ্যায়! মেরা জমি দখল কিয়া হ্যায় তো মারা হ্যায়।’

পুলিশ সূত্রে খবর, দক্ষিণ কলকাতার রুবি হাসপাতাল লাগোয়া আনন্দপুর এলাকার গুলশান কলোনিতে থাকেন আফরোজ। সেখানে তাঁর জমি-বাড়ি রয়েছে। সেই জমি নিয়েই বিবাদ শুরু হয় স্থানীয় এক প্রোমোটারের সঙ্গে। জেরায় পুলিশকে আফরোজ জানিয়েছেন, ওই প্রোমোটার সুশান্তের অনুগামী। কাউন্সিলরের ‘ভয় দেখিয়ে’ সম্প্রতি তাঁর জমি দখল করে ফ্ল্যাট বানানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন তিনি। তা মেনে নিতে পারেননি আফরোজ। তখনই সুশান্তকে খুন করার পরিকল্পনা করেছিলেন বলে জেরায় পুলিশকে জানিয়েছেন তিনি।

উল্লেখ্য, শুক্রবার সন্ধ্যায় নিজের বাড়ির সামনেই সুশান্তকে গুলি করে খুনের চেষ্টা করে যুবরাজ সিং নামে এক ব্যক্তি। স্কুটিতে চড়ে এসে পয়েন্ট ব্ল্যাক রেঞ্জ থেকে গুলি করার চেষ্টা করেন তিনি। তবে বন্দুক লক হয়ে যাওয়ায় গুলি বের হয়নি। ভাগ্যের জেরে বেঁচে যান সুশান্ত ঘোষ। এরপর ঘাবড়ে গিয়ে যখন সে স্কুটিতে চড়েই ফের পালাতে যায় তখন সুশান্ত এবং তাঁর অনুগামীরাই ধরে ফেলেন আততায়ীকে। ধৃতের নাম যুবরাজ সিং। এরপর তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পুলিশের জেরায় সে জানায় তাঁর বাড়ি বিহারে। স্থানীয় এক ব্যক্তিই তাঁকে খুন করার বরাত দিয়েছিলেন। বিহার থেকে ভাড়া করা হয়েছিল ওই ‘শুটার’কে। যুবরাজই জানান আফরোজের নাম। তখন থেকেই তাঁর গতিবিধির ওপরে নজরদারি শুরু করেন তদন্তকারীরা। তবে কেন সে সুশান্তকে খুনের পরিকল্পনা করেছিল, তা স্পষ্ট ছিল না পুলিশের কাছে। শনিবার আফরোজ ধরা পড়তেই খুনের চেষ্টার নেপথ্যে কী কারণ তা খানিক পরিষ্কার হয়েছে বলেই মনে করছেন তদন্তকারী অফিসাররা।
শুক্রবার রাত থেকেই আফরোজের গতিবিধির ওপর নজর রেখেছিল কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দারা। আফরোজের খোঁজে চারদিকে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। বিভিন্ন জায়গার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা শুরু হয়। শনিবার হাওড়া পার হওয়ার সময়ই টোল প্লাজার সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ে আফরোজ। দেখা যায় বাইক নিয়ে পালানোর চেষ্টা করছেন তিনি। আফরোজের বাইকের নম্বর খুঁজে বার করে বর্ধমান পুলিশকে সতর্ক করে কলকাতা পুলিশের তদন্তকারী দল। বর্ধমান রেঞ্জের ডিআইজি ও পূর্ব বর্ধমানের পুলিশ সুপারের কাছে বার্তা পাঠানো হয়। সেই সতর্কবার্তা পাওয়ার পরেই পূর্ব বর্ধমানের পুলিশ সুপার সায়ক দাস ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কে নাকা তল্লাশি করার নির্দেশ দেন থানাগুলিকে।

নাকা চেকিংয়ের সময় গলসি থানার উড়োচটিতে আফরোজের বাইকটি চিহ্নিত করে পুলিশ। তখনই বাইকটি থামানো হয়। আরোহীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায়, বাইক নিয়ে আফরোজ বিহারের জামুইয়ে পালানোর চেষ্টা করছিলেন। সেখানেই তাঁর বাড়ি। এর পর তাঁকে পাকড়াও করে নিয়ে যাওয়া হয় গলসি থানায়। বাজেয়াপ্ত করা হয় বাইকটিও। খবর দেওয়া হয় লালবাজারে। সেখান থেকেই কলকাতা পুলিশের একটি দল গলসিতে এসে ধৃতকে নিয়ে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেয়।

অপরদিকে, মেয়র ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গে আজ সুশান্ত ঘোষ দেখা করার পর মেয়র বেরিয়ে জানান, ‘সুশান্ত আন্দোলন করা ছেলে। ও ভয় পায়নি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওকে ফোন করেছিলেন। পুরো দল ওর পাশে রয়েছে।’ সুশান্ত ঘোষ জানান, ‘ঘটনার আকস্মিকতায় আর রাজনীতি করবেন কিনা ভাববেন বলে জানিয়েছিলেন। কিন্তু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফোন করেছেন। অনেকে দেখা করেছেন। সিদ্ধান্ত নিয়েছি রাজনীতিতেই থাকব। কারণ এই ধরনের দুর্বৃত্তের বিরুদ্ধে লড়তে হবে।’ তবে আফরোজ খান বলে যাকে গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁকে তিনি চেনেন না। এর সঙ্গে রাজনীতি জড়িত আছে বলেও তিনি মনে করেন না। তিনি বলেন, ‘পুলিশ তদন্ত করছে তাতেই সব জানা যাবে।’