নীল-সাদা রঙ মুছে মালদহের পঞ্চায়েত কার্যালয়ের রঙ গেরুয়া!

জেলা রাজনীতি রাজ্য

রাজ্যের স্বীকৃত নীল- সাদা রঙ মুছে দিয়ে বিজেপি পরিচালিত পঞ্চায়েত কার্যালয়ের রঙ পরিবর্তন করে হল গেরুয়া! শনিবার থেকে তা নিয়ে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে মালদহের ভাবুক গ্রাম পঞ্চায়েতে। শাসক তৃণমূলের অভিযোগ, পঞ্চায়েত কার্যালয়কে পার্টি অফিস বানিয়ে ফেলেছে পদ্মশিবির। পাল্টা বিজেপির যুক্তি, সব সরকারি অফিসের রঙ নীল-সাদা করা কোন প্রশাসনিক নিয়ম?

প্রসঙ্গত, রাজ্যের পালাবদলের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ মতো সব সরকারি ভবনের রঙ বদলে নীল-সাদা করা হয়। সেই মতো ভাবুক পঞ্চায়েত ভবনের রঙও নীল-সাদাই করা হয়। এত তা দিন নীল-সাদাই ছিল। আচমকাই সেই ভবনের রঙ বদলে গেল গেরুয়ায়! এর পেছনের কারণ খুঁজতে গিয়ে জানা গেল, গত কয়েক বছর ধরে সংশ্লিষ্ট এলাকা বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। পঞ্চায়েত ভোটে মালদহ জুড়ে যখন সবুজ ঝড় উঠেছিল, তখন এই ভাবুক গ্রাম পঞ্চায়েত নিজেদের দখলে রেখেছে পদ্মশিবির। একক ভাবে ওই পঞ্চায়েতে ক্ষমতা দখল করে গেরুয়া শিবির। ১৯ আসন বিশিষ্ট ওই পঞ্চায়েতে বিজেপির সদস্য সংখ্যা ১১ জন। তৃণমূলের সদস্য সংখ্যা ৭, বাকি একজন নির্দলের।

এখন ভবনের রঙ বদল নিয়ে তৃণমূলের অভিযোগ, ক্ষমতার অপব্যবহার করে পঞ্চায়েতকে পার্টি অফিস বানাতে চাইছে বিজেপি। যা নিয়ে তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্যেরা জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করে জানিয়েছেন, গেরুয়া রঙ পরিবর্তন করে আগের মতো নীল-সাদা না হলে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। তৃণমূলের এক পঞ্চায়েত সদস্য জানান, ‘যদি গেরুয়া রঙ করতেই হয়, তবে রাজ্য থেকে সব টাকা নেওয়া বন্ধ করে দিন পঞ্চায়েত প্রধান।’ পাল্টা বিজেপির সদস্যদের দাবি, ‘পঞ্চায়েত স্বশাসিত সংস্থা। তাই সেখানে কেউ রঙ নির্ধারণ করে দিতে পারে না। তৃণমূল সরকারি জায়গায় নীল-সাদা রঙ করা নিয়ে রাজনীতি করে। কিন্তু ভাবুক অঞ্চলের মানুষের জন্য বিজেপি কাজ করে। পঞ্চায়েতের প্রত্যেকটি বুথে বিজেপির লিড ছিল যথেষ্টই। সেখানে শাসক দল অহেতুক রাজনীতির চেষ্টা করছে।’