BJP: হোলি নিয়ে বিজেপি বিধায়কের বিতর্কিত দাবি

দেশ রাজনীতি

নিউজ পোল ব্যুরো: এই বছর দোলযাত্রা (Holi) এবং পবিত্র রমজান (Ramadan) একসঙ্গে একই মাসে পড়েছে, আর তারই মধ্যে বিতর্কের সূচনা‌ করেছেন বিহারের বিজেপি বিধায়ক হরিভূষণ ঠাকুর (Hari Bhushan Thakur)। শুক্রবার জুম্মার (Jumma) দিনেই পড়েছে হোলি, আর এই পরিস্থিতিতে মুসলিম সম্প্রদায়ের উদ্দেশে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন তিনি। তার দাবি(Bihar BJP MLA), হোলির দিনে মুসলিমদের ঘরের বাইরে না বেরোনোই উচিত। এই মন্তব্য ঘিরে বিহারের রাজনীতিতে তুমুল চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিহারের বিসফি (Bisfi) বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক হরিভূষণ ঠাকুর সোমবার এক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “গোটা বছরে মুসলিমরা ৫২টি জুম্মাবার পান, কিন্তু হোলি একবারই আসে। তাই তাদের অনুরোধ করব, হিন্দুদের শান্তিতে হোলি খেলতে দেওয়া হোক। যদি কারও রঙ লাগার আপত্তি থাকে, তাহলে তিনি ঘরের মধ্যেই থাকুন। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য এটাই সঠিক পথ।”

আরও পড়ুন:- ED summons: ভূপেশ বাঘেলের ছেলেকে ইডির তলব

তিনি আরও দাবি করেন, “মুসলিমরা বড়ই দ্বিমুখী (double standard)। হোলির আবির বিক্রি করে তারা আয় করতে কোনও আপত্তি করে না, কিন্তু গায়ে রঙ লাগলেই তারা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।” বিধায়কের (Bihar BJP MLA) এই মন্তব্যকে ঘিরে বিরোধী দলগুলি বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দেগেছে। রাষ্ট্রীয় জনতা দল (RJD)-এর নেতা তেজস্বী যাদব (Tejashwi Yadav) কটাক্ষ করে বলেন, “একজন বিধায়ক কীভাবে এমন মন্তব্য করতে পারেন? মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার (Nitish Kumar) কি তাঁর বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেবেন?” তবে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার সরাসরি কোনও মন্তব্য করেননি। তবে বিতর্ক প্রশমিত করতে বিহার সরকারের সংখ্যালঘু কল্যাণ মন্ত্রক (Bihar Minority Welfare Ministry) একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। মঙ্গলবার সংখ্যালঘু কল্যাণ মন্ত্রী জামা খান (Jama Khan) বলেন, “বিহারে ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখা আমাদের সকলের কর্তব্য। হোলি সম্প্রীতির উৎসব, তাই সবাইকে মিলেমিশে এই উৎসব পালন করা উচিত।”

নিউজ পোল বাংলা ফেসবুক পেজের লিঙ্ক:- https://www.facebook.com/share/164mWXbsyp/

বিহারে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন (Bihar Assembly Election) সম্ভবত এই বছরের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হবে। তার আগেই বিজেপি বিধায়কের এই মন্তব্য রাজ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। বিরোধীরা বিজেপির সাম্প্রদায়িক রাজনীতির অভিযোগ তুলছে, আর বিজেপির পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই মন্তব্য নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। এখন দেখার বিষয়, বিধায়ক হরিভূষণ ঠাকুরের (Bihar BJP MLA) এই মন্তব্যের ফলে বিহারের রাজনৈতিক সমীকরণ কতটা বদলায় এবং রাজ্য সরকার এই ইস্যুতে কোনও পদক্ষেপ নেয় কি না।