Fake Medicine: ফের আমতায় উদ্ধার রক্তচাপের জাল ওষুধ!

জেলা রাজ্য

নিউজ পোল ব্যুরো: ফের জাল ওষুধ (Fake Medicine) উদ্ধার হাওড়ার (Howrah) আমতায়! এবার আমতা থেকে উদ্ধার হওয়া প্রেসারের ওষুধের রিপোর্ট জমা করেছে ড্রাগ কন্ট্রোল ডিরেক্টরেট (Drug Control Directorate)। রাজ্যে এই রিপোর্ট নিয়ে ইতিমধ্যেই চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে, কারণ রিপোর্ট অনুযায়ী, ওই প্রেসারের ওষুধটি পুরোপুরি নকল।

আরও পড়ুন:India-Mauritius Relation: মরিশাসে উষ্ণ অভ্যর্থনা পেলেন মোদী

উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ‘টেলমা এএম ৪০’ ওষুধটি ছিল এই নকল চক্রের অংশ। এরই মধ্যে জানা গেছে যে, কালোবাজারি (Black market) মাধ্যমে এই ওষুধটি বিক্রি হচ্ছিল। এর প্রস্তুতকারী সংস্থাকে চিঠি পাঠিয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল, মূল ওষুধের কোন কোন উপাদান নকল করা হয়েছে। সংস্থার তরফে ড্রাগ কন্ট্রোল ডিরেক্টরেটকে (Drug Control Directorate) বিস্তারিত জানানো হয়েছে।

ওই জাল প্রেসারের ওষুধটির (Fake Medicine) ব্যাচ নম্বর ০৫২৪০৩৬৭ (05240367), যা আসল ওষুধের ব্যাচ নম্বরের সঙ্গে পুরোপুরি মিলে যাচ্ছে। অর্থাৎ, ব্যাচ নম্বরটি জাল করা হয়েছিল। তবে কিউআর কোড স্ক্যান করলে “Could not Verified” দেখা যাচ্ছে। এছাড়াও, ওষুধের গায়ে লেখা নামের বানানেও ভুল রয়েছে। এমনকি ইন্ডিয়ান ফার্মাকোপিয়া কমিশনের মানদণ্ড অনুসারে, এই ওষুধের গুণগত মানও সঠিক নয়।

আরও পড়ুন:Ladki Bahin Yojana: মহারাষ্ট্রে মহিলা ভাতা প্রকল্পে সমালোচনার ঝড়

এখন পর্যন্ত হাসপাতালগুলোকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। রাজ্য ড্রাগ কন্ট্রোলের (Drug Control) পক্ষ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সমস্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং বেসরকারি হাসপাতালগুলিকে, যে কোনো ওষুধ গ্রহণের আগে তাদের স্টোরে আসা ওষুধের কিউআর কোড (QR code) স্ক্যান করতে হবে। কোডের ফলস্বরূপ যদি সদর্থক পাওয়া যায়, তবেই জনসাধারণের কাছে তা বিক্রি করা যাবে। সেই সঙ্গে, হোলসেল এবং রিটেল চেনগুলিকেও এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, তারা সাপ্লাই চেইনে আসা কোনো ওষুধ বিক্রি করার আগে কিউআর কোড স্ক্যান করে নিশ্চিত হয়ে নেবেন।

এছাড়া, হাওড়ার আমতায় নামী ওষুধ প্রস্তুতকারকের নামে ভুয়ো কিউআর কোড ব্যবহারের মাধ্যমে জাল ওষুধের (Fake Medicine) কারবার চলছিল। ২১ ফেব্রুয়ারি, সেই সংস্থার গোডাউনে হানা দিয়ে ১৭ লক্ষ টাকার জাল ওষুধ উদ্ধার করে রাজ্যের ড্রাগ কন্ট্রোল আধিকারিকরা। এটি প্রথম ঘটনা নয়, এর আগে কলকাতায় প্রায় ৬.৫ কোটি টাকার নকল জীবনদায়ী ওষুধ উদ্ধার হয়েছিল। সেই সময়ও সেন্ট্রাল ড্রাগ কন্ট্রোল সতর্কবার্তা জারি করেছিল। প্রায় ৪৪ প্রকারের নিম্নমানের ওষুধ দেশের বিভিন্ন বাজারে ছড়িয়ে পড়েছে, যেগুলির উপাদানে ভেজাল রয়েছে।

ড্রাগ কন্ট্রোল দফতর সূত্রে খবর, ২০২৩ সালে কেন্দ্রীয় সরকার ৩০০টি গুরুত্বপূর্ণ ওষুধের গুণমান বজায় রাখার জন্য এসব ওষুধের উপর কিউআর কোড লাগানোর নির্দেশ দেয়। সেই অনুযায়ী, ওষুধ কোম্পানিগুলি তাদের ওষুধের উপর কিউআর কোড লাগিয়েছিল। তবে সম্প্রতি একটি নামী কোম্পানির উচ্চ রক্তচাপের ওষুধের কিউআর কোড জাল হতে দেখা যায়। ওই কোম্পানি এটি জানিয়ে রাজ্য ড্রাগ কন্ট্রোলে অভিযোগ জানিয়েছিল।

নিউজ পোল বাংলা ফেসবুক পেজের লিঙ্ক:https://www.facebook.com/share/1XhiZuM5DK/

এরপর, রাজ্য ড্রাগ কন্ট্রোল তদন্ত শুরু করে এবং ওষুধ কোম্পানির অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে। তদন্তে জানা যায়, এই জাল ওষুধ বিহার থেকে আনা হয়েছিল এবং আমতার মান্না এজেন্সি নামক একটি সংস্থা রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় এসব জাল ওষুধ সরবরাহ করেছে। পরে, ড্রাগ কন্ট্রোল আধিকারিকরা আমতায় ওই এজেন্সির গোডাউনে হানা দিয়ে বিপুল পরিমাণ জাল ওষুধ উদ্ধার করেন এবং সংশ্লিষ্ট মালিককে গ্রেফতার করা হয়। ওই এজেন্সি প্রায় ১ কোটি ৮৬ লক্ষ টাকার জাল ওষুধ বাজারে সরবরাহ করেছে।