নিউজ পোল ব্যুরো: কাঁধে ব্যথা (Shoulder Pain) আমাদের সবার জীবনে কখনও না কখনও হয়ে থাকে। অনেকেই এটাকে সাধারণ সমস্যা হিসেবে দেখে নেন, তবে কাঁধে ব্যথার একাধিক কারণ থাকতে পারে। খুব সাধারণভাবে মনে করা হয়, কাঁধের ব্যথা মানে ‘ফ্রোজেন শোল্ডার’ (Frozen Shoulder) বা কাঁধের পেশির কঠিনতা। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে, বিশেষত যদি কাঁধের ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে এটা ডায়াবিটিসের (Diabetes) মতো গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা নির্দেশ করতে পারে। তাই এই ব্যথাকে অবহেলা করা উচিত নয়। এবার আসুন, কীভাবে কাঁধে ব্যথা এবং ডায়াবিটিসের (Diabetes) মধ্যে সম্পর্ক আছে এবং কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত, তা নিয়ে বিস্তারিত জানি।
আরও পড়ুন:- Bird Flu Virus: বার্ড ফ্লু ভাইরাস শনাক্তে নতুন প্রযুক্তি
কাঁধের ব্যথা ও ডায়াবিটিসের (Diabetes) সম্পর্ক
অনেকের ধারণা, কাঁধে ব্যথা থাকলেই সেটা ফ্রোজেন শোল্ডার (Frozen Shoulder) হবে। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণায় বলা হয়েছে যে, কাঁধে ব্যথা শুধুমাত্র ফ্রোজেন শোল্ডারের কারণে হয় না, ডায়াবিটিস (Diabetes) বা রক্তে শর্করার (Blood Sugar) মাত্রা বেশি থাকলেও এই ধরনের ব্যথা হতে পারে। রক্তে শর্করার (Blood Sugar) মাত্রা বৃদ্ধি হলে, তা পেশির উপর প্রভাব ফেলে এবং কাঁধের পেশিতে শক্তি বা স্থিতিস্থাপকতা হারাতে শুরু করে, যা ব্যথার সৃষ্টি করে।
গবেষকদের মতানুযায়ী, ডায়াবিটিস (Diabetes) থাকার কারণে কাঁধের পেশির শক্তি (Muscle Strength) কমে যায় এবং এটির ফলে ‘অ্যাডহেসিভ ক্যাপসুলাইটিস’ (Adhesive Capsulitis) বা কাঁধের পেশি শক্ত হয়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে। এই অবস্থায় কাঁধে তীব্র ব্যথা (Pain) অনুভূত হয়, যা কাঁধ ঘোরাতে বা ব্যবহার করতে অসুবিধার সৃষ্টি করে। রক্তে শর্করার মাত্রা ১০০ মিলিগ্রামের বেশি হলে তাকে হাইপারগ্লাইসেমিয়া (Hyperglycemia) বলা হয়, যা ডায়াবিটিসের একটি পরিচিত লক্ষণ। এই অবস্থায় কাঁধের পেশির উপরে প্রভাব পড়ে এবং সেখানে ব্যথা বা টান ধরার মতো সমস্যা দেখা দেয়।
আরও পড়ুন:- অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার (pancreatic cancer) রুখতে ভারতীয় চিকিৎসকের সাফল্য

চিকিৎসকের কাছে কখন যাওয়া উচিত?
১. ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হলে: কাঁধের ব্যথা যদি ৭ দিন বা তার বেশি সময় ধরে চলে, তা হলে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।
২. ব্যথা হাতেও ছড়িয়ে পড়লে: কাঁধে তীব্র ব্যথা হলে যদি তা হাত বা আঙুলে চলে যায়, অথবা কোনো বস্তু ধরতে সমস্যা হয়, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
৩. কাঁধের পেশিতে টান বা শক্তি কমে গেলে: যদি কাঁধ ঘোরানোর সময় কষ্ট বা টান ধরার অনুভূতি হয়, অথবা পেশি শক্ত হয়ে যায়, তা হলে এটি একটি সতর্ক সংকেত হতে পারে।
৪. ডায়াবিটিস (Diabetes) আছে কিনা পরীক্ষা করুন: যদি আপনার রক্তে শর্করার (Blood Sugar) মাত্রা বেশি থাকে, বিশেষত যদি আপনি টাইপ ২ ডায়াবিটিস (Type 2 Diabetes) রোগী হন, তাহলে কাঁধে ব্যথা নিয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত।
নিউজ পোল বাংলা ফেসবুক পেজের লিঙ্ক:- https://www.facebook.com/share/164mWXbsyp/

চিকিৎসা এবং সুরক্ষা
কাঁধের ব্যথা (Shoulder Pain) ডায়াবিটিসের (Diabetes) কারণে হলে, ফিজিওথেরাপি (Physiotherapy) এবং কিছু নির্দিষ্ট ব্যথানাশক (Pain Relief) ওষুধের মাধ্যমে ব্যথা কমানো সম্ভব। তবে, ডায়াবিটিসের (Diabetes) লক্ষণ হিসেবে কাঁধে ব্যথা হওয়া মানেই ডায়াবিটিসের চিকিৎসা করতে হবে এমনটা ভাবা উচিত নয়। কাঁধে ব্যথা হলে নিজের চিকিৎসকের পরামর্শ (Doctor’s Consultation) ছাড়া কোনো ওষুধ খাওয়া উচিত নয়।
এছাড়া, ডায়াবিটিস (Diabetes) নিয়ন্ত্রণে রাখতে সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম (Exercise), এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম (Rest) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি কাঁধের ব্যথার পাশাপাশি অন্য কোনো লক্ষণ দেখা দেয়, যেমন শরীরের ভারসাম্য হারানো বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া প্রয়োজন।