নিউজ পোল ব্যুরো: কলকাতা মিউনিসিপাল কর্পোরেশনের (KMC) ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন তথা CITU (Center of Indian Trade Unions)-এর পক্ষ থেকে আজ বুধবার কলকাতা পৌর ভবনের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি (protest program) গ্রহণ করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে পেনশন (pension) বন্ধ, নিয়োগ (recruitment) স্থগিত, চুক্তিভিত্তিক শ্রমিকদের (contractual workers) বেতন প্রদানে বিলম্ব, এবং পদোন্নতির (promotion) ক্ষেত্রে অনিয়মের প্রতিবাদে এই কর্মসূচি সংগঠিত হয়। বর্তমানে কলকাতা কর্পোরেশন চরম আর্থিক সংকটে (financial crisis) রয়েছে বলে অভিযোগ ইউনিয়নের। নতুন কোনো নিয়োগ দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত রাখা হয়েছে। চুক্তিভিত্তিক শ্রমিকদের বেতন সময়মতো পরিশোধ করা হচ্ছে না, শুধুমাত্র আশ্বাস দিয়ে দিন কাটানো হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে পেনশনভোগীদের পাওনা আটকে রাখা হয়েছে, যা প্রবীণ কর্মীদের আর্থিকভাবে বিপদে ফেলে দিয়েছে।
আরও পড়ুন:- Suvendu Adhikari: ‘বুঝে নেব’, শুভেন্দুকে হুঁশিয়ারি হুমায়ুনের

শুধু তাই নয়, বছরের পর বছর ধরে কর্মীদের প্রাপ্য পদোন্নতিও আটকে রাখা হয়েছে। ফলে, কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে। এই সমস্ত ইস্যুর সমাধানের দাবিতে আজ CITU ইউনিয়নের পক্ষ থেকে কলকাতা পৌর ভবনের (KMC) সামনে জোরালো বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়। বিক্ষোভের মূল উদ্দেশ্য ছিল কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের (Firhad Hakim) কাছে ডেপুটেশন (deputation) জমা দেওয়া। কিন্তু আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেছেন, মেয়র নিজেই এই পরিস্থিতি এড়াতে ২৪ তারিখ পর্যন্ত অনুপস্থিত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মেয়রের এই আচরণকে ‘সংবিধানের আড়াল নিয়ে পালানো’ বলে কটাক্ষ করেছে আন্দোলনরত কর্মচারীরা। CITU নেতাদের অভিযোগ, মেয়র ফিরহাদ হাকিম এই সমস্যাগুলোর সমাধান না করে শুধুমাত্র রাজনৈতিক অজুহাত খুঁজে বের করছেন। দীর্ঘদিন ধরে পৌর কর্মচারীদের ন্যায্য দাবি উপেক্ষিত হচ্ছে, অথচ প্রশাসন কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।
নিউজ পোল বাংলা ফেসবুক পেজের লিঙ্ক:- https://www.facebook.com/share/164mWXbsyp/
শ্রমিক ইউনিয়নের দাবি, যত দ্রুত সম্ভব নিয়োগ চালু করতে হবে, পেনশন বকেয়া মিটিয়ে দিতে হবে এবং চুক্তিভিত্তিক শ্রমিকদের বেতন প্রদানে আর কোনো দেরি করা যাবে না। এছাড়াও, যেসব কর্মীদের পদোন্নতির অধিকার রয়েছে, তাদের প্রাপ্য স্বীকৃতি দিতে হবে। কিন্তু প্রশাসনের দিক থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যদি দাবিগুলো পূরণ না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আরও বড় আন্দোলনের পথে হাঁটবে তারা।এই বিক্ষোভ কর্মসূচি দেখিয়ে দিল, কলকাতা মিউনিসিপাল কর্পোরেশনের (KMC) কর্মচারীদের অসন্তোষ চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। এখন দেখার বিষয়, পৌর প্রশাসন এই দাবি মেনে নেওয়ার জন্য কতটা উদ্যোগী হয় এবং মেয়র কবে নাগাদ সরাসরি এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দেন।