নিউজ পোল ব্যুরো: প্রয়াত প্রাক্তন ভারতীয় অলরাউন্ডার (Indian All-rounder) সৈয়দ আবিদ আলি (Syed Abid Ali)। বুধবার এই খবর জানিয়েছেন তাঁর আত্মীয় রেজা খান (Reza Khan)। উত্তর আমেরিকা ক্রিকেট লিগও (North America Cricket League) সমাজ মাধ্যমে (Social Media) এই খবর ঘোষণা করেছে। দীর্ঘদিন ধরেই বার্ধক্য জনিত সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৮৩। তবে ভারত ছেড়ে অনেকদিনই আমেরিকার বাসিন্দা তিনি। ক্যালিফোর্নিয়ার ট্যাসিতে (Tarcy, California) থাকতেন। সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন ১৯৭১ সালের ওভাল টেস্টের (India vs England, 1971 Oval Test) নায়ক।
আরও পড়ুন: Chuni Goswami: “চুনী, তুমি বাঘের বাচ্চা, লড়ে যাও শ**, ছাড়বে না”
কিছুদিন আগেই প্রয়াত হয়েছেন মিলিন্দ রেগে এবং পদ্মাকর শিভালকর। এবার চলে গেলেন আবিদও (Syed Abid Ali)। মূলত অল-রাউন্ডার ছিলেন তিনি। ১৯৬৭ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে টেস্ট অভিষেক ঘটেছিল তাঁর। অ্যাডিলেডে অভিষেকেই ৬ উইকেট নিয়েছিলেন মিডিয়াম পেসার আবিদ। দেশের হয়ে ২৯টি টেস্ট এবং ৫টি একদিনের ম্যাচ খেলেছেন। যদিও ১৯৬৭ থেকে ১৯৭৪ পর্যন্ত ৯ বছরের টেস্ট কেরিয়ার ঢাকা পড়ে যায় সেই সময়কার ভারতীয় স্পিনারদের দাপটে। খুব বেশি বল করার সুযোগই পেতেন না বিষাণ সিং বেদী, এরাপল্লি প্রসন্ন, চন্দ্রশেখরদের ভীড়ে। তা সত্ত্বেও তাঁর উইকেট টু উইকেট বোলিং ২.৮৫ ইকোনমি রেটে এনে দিয়েছিল ৪৭ টি টেস্ট উইকেট। সেরা বোলিং জীবনের প্রথম টেস্টেই অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ৬/৫৫। একদিনের ক্রিকেটে ৭ টি উইকেট ছিল তাঁর।

যেকোন জায়গায় ব্যাট করতে পারতেন আবিদ (Syed Abid Ali)। কখনও ওপেনার, কখনও মিডল অর্ডার আবার কখনও লোয়ার অর্ডার — টিমের প্রয়োজনে কখনও না বলেননি তিনি। সবথেকে বড় বিষয় অসাধারণ দ্রুত দৌড়াতে পারতেন তিনি। সেই যুগে রানিং বিট্যুইন দ্য উইকেটে তাঁর সমতুল্য কেউ ছিল না বললেই চলে। রান তাড়া করার সময় ওপেন করতে নামানো হয় তাঁকে দ্রুত সিঙ্গলস নিয়ে চাপ কমানোর জন্য। অসামান্য ফিল্ডারও ছিলেন তিনি। চোখধাঁধানো সব থ্রো করতেন আউটফিল্ড থেকে সেই সময়েও। টেস্ট ক্রিকেটে ৩২টি ক্যাচ রয়েছে তাঁর। টেস্টে ২০.৩৬ গড়ে ৬টি অর্ধশতরান সহ ১০১৮ রান রয়েছে তাঁর। সর্বোচ্চ ৮১ এসেছিল অভিষেক টেস্ট সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সিডনিতে। একদিনের ক্রিকেটে তাঁর রান সংখ্যা ৯৩। সর্বোচ্চ ৭০।
নিউজ পোল বাংলা ফেসবুক পেজের লিংক: https://www.facebook.com/share/1EA79Afcw5/
ঘরোয়া ক্রিকেটে হায়দ্রাবাদের হয়ে ২১২টি প্রথম শ্রেণীর ম্যাচ খেলেন আবিদ (Syed Abid Ali)। নিয়েছিলেন ৩৯৭টি উইকেট। সেরা বোলিং ৬/২৩। ব্যাট হাতে করেন ৮৭৩২ রান। শতরান ছিল ১৩টি এবং ৪১টি অর্ধশতরান। সর্বোচ্চ অপরাজিত ১৭৩। তবু এতকিছু সত্ত্বেও থেকে গেছেন সেই সাইড হিরো হয়েই। সময়ের থেকেও এগিয়ে ছিলেন যিনি নিঃশব্দে চলে গেলেন। দেশ থেকে বহুদূরে সকল খ্যাতির আড়ালে-আবডালে। ১৯৬৮ সালে ক্রাইস্টচার্চে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্টে একবার নো-বল দেওয়া হয়েছিল তাঁর বোলিংয়ে। অভিযোগ ছুঁড়ে বল করেছিলেন তিনি। যা আদতে ইচ্ছে করেই করেছিলেন তিনি। কারণ সেই ম্যাচে কিউয়ি পেসার গ্যারি বার্টলেটের বিরুদ্ধে ভারতীয় দল বারংবার অভিযোগ জানায় যে তাঁর বোলিং সন্দেহজনক। ৬ উইকেট নিয়েছিলেন বার্টলেট। ৬ উইকেটে ভারতকে হারায় নিউজিল্যান্ড। সেই ঘটনার প্রতিবাদেই জেনেশুনে চাকিং করেছিলেন আবিদ। এই ছিলেন আবিদ। ভারতীয় ক্রিকেটে পশ্চিমি আধিপত্য নিয়ে বরাবর আক্ষেপ ছিল তাঁর। সেই আক্ষেপ নিয়েই হয়ত চলে গেলেন না ফেরার দেশে ইংল্যান্ডের মাটিতে ভারতের প্রথম টেস্ট সিরিজ জয়ের অন্যতম নায়ক।