নিউজ পোল ব্যুরো: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় (CU) ডিজিলকার (Digilocker) ব্যবহারের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করছে যাতে ছাত্রছাত্রীদের তথ্য সংরক্ষণ করা যায়। এই উদ্দেশ্যে বৃহস্পতিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (Registrar) এবং অন্যান্য কর্মকর্তারা অনলাইনে সমস্ত কলেজের অধ্যক্ষদের সঙ্গে একটি বৈঠক (Meeting) করেন। তবে, বৈঠকে অংশগ্রহণ করেও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা ৯০ জন অধ্যক্ষ নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরার পর বৈঠক ত্যাগ করেন। অধ্যক্ষরা (Principal) বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে বহু পুরনো দাবি আছে যা এখনও নিষ্পত্তি করা হয়নি। তারা ডিজিলকার (Digilocker) ব্যবস্থার বিরুদ্ধে নন, তবে তারা মনে করেন এই ব্যবস্থা সকলের মতামত নিয়ে চালু হওয়া উচিত। এ কারণে তারা এর বিরোধিতা করছেন।
আরও পড়ুন:Recruitment Scam: নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় জামিন অয়ন শীলের
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের (Jadavpur University) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক (Professor) ওমপ্রকাশ মিশ্র, যিনি সিন্ডিকেটে সরকার মনোনীত প্রতিনিধি, বলেন, ‘‘কলেজগুলিই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণকেন্দ্র, এবং তাদের অধ্যক্ষরা সম্মানীয় ব্যক্তি। তাঁদের যখন উন্নতির জন্য সাক্ষাৎকারের আবেদন থাকে, তখন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে তা গুরুত্ব দিয়ে আলোচনায় বসতে হবে।’’
বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলাইন বৈঠকে ডিজিলকারের (Digilocker) পাশাপাশি অ্যাকাডেমিক ব্যাঙ্ক অফ ক্রেডিট (এবিসি) আইডি চালু করার বিষয়টিও আলোচিত হতো। তবে অধ্যক্ষেরা পূর্বে উত্থাপিত দাবিগুলির সমাধান না হওয়া পর্যন্ত কোনো নতুন সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার বিরোধিতা করেছিলেন। সারা বাংলা অধ্যক্ষ পরিষদ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের (CU) সম্পাদক মানস কবি জানান, ‘‘আমরা নতুন পদ্ধতির বিরোধী নই, কিন্তু এই বিষয়টি নিয়ে সশরীরে বৈঠক করতে হবে। অনেক পুরনো দাবি অমীমাংসিত রয়েছে, তাই তাদের আগে সমাধান করতে হবে।’’
আরও পড়ুন:Holi: রং হোক আনন্দের, থাকুন সুরক্ষিত
অধ্যক্ষদের সংগঠনের পক্ষ থেকে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারকে, যাতে তাদের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হয়। এসবের মধ্যে রয়েছে পরীক্ষা পদ্ধতির পরিবর্তন, পরীক্ষা কেন্দ্র নির্বাচনে আরো দায়িত্বশীল হওয়া, কলেজগুলির উপর অতিরিক্ত খরচ চাপানো বন্ধ করা, ইত্যাদি। তারা বলছেন, এসব দাবি পূর্ণ না হলে কোনো নতুন প্রকল্প চালু করা যাবে না। অধ্যক্ষদের একাংশ অভিযোগ করেছেন যে, প্রধানমন্ত্রী ইন্টার্নশিপ স্কিমে কলেজগুলিকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত তাদের সঙ্গে আলোচনা না করেই নেওয়া হয়েছে, যা ছোট ও মাঝারি কলেজগুলির জন্য সমস্যার সৃষ্টি করেছে।
নিউজ পোল বাংলা ফেসবুক পেজের লিঙ্ক:https://www.facebook.com/share/1XhiZuM5DK/
এছাড়া, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় (CU) সম্প্রতি একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে স্নাতকত্তোর স্তরের পরীক্ষার সাথে সম্পর্কিত কোনো কাজ স্টেট এডেড কলেজ টিচার (সিএসআর) বা চুক্তিভিত্তিক শিক্ষকদের দ্বারা করা যাবে না। এর পরেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের চার অধ্যক্ষ পদত্যাগ করেন। তাঁদের অভিযোগ, অধিকাংশ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই নিয়োগ নেই, এবং সেখানে অতিথি শিক্ষক ও রাজ্য সরকারি সহায়তাপুষ্ট শিক্ষক দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে, অথচ এমন বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হলো! বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সিন্ডিকেটের অধ্যক্ষদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেনি বলেও অভিযোগ রয়েছে। যদিও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত সংশোধন করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে, তবে এখনও পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি, যা অধ্যক্ষদের বিরোধিতার মূল কারণ।