নিউজ পোল ব্যুরো: রাজ্যের স্বাস্থ্য বিমা প্রকল্প স্বাস্থ্যসাথী (Swasthya Sathi) নিয়ে নতুন তথ্য প্রকাশ করল রাজ্য সরকার। এই প্রকল্পের আওতাভুক্ত কতজন মানুষ উপকৃত হয়েছেন, কোন বছরে কত টাকা ব্যয় হয়েছে, এবং বর্তমানে কতগুলি হাসপাতালে এই পরিষেবা পাওয়া যাচ্ছে— এই সব তথ্য শুক্রবার বিধানসভায় তুলে ধরলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য (Chandrima Bhattacharya)।
আরও পড়ুনঃ Train Cancelled : ফের বাতিল একাধিক ট্রেন, নিত্যযাত্রীদের জন্য বড় ধাক্কা
বিধানসভার আলোচনায় আমতার বিধায়ক সুকান্ত পাল (Sukanta Pal) একটি প্রশ্ন করেন স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে। তার উত্তরে মন্ত্রী জানান, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত এই প্রকল্পে মোট ৮ কোটি ৭২ লক্ষ ৫৭ হাজার ৬০৭ জন নাম নথিভুক্ত করেছেন। এই বিপুল সংখ্যক মানুষ স্বাস্থ্যসাথীর সুবিধা পাচ্ছেন, যা রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবার একটি বড় সাফল্য বলে মনে করছে সরকার।
রাজ্য সরকার ২০২১-২২ থেকে ২০২৩-২৪ এই তিন অর্থবর্ষে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের জন্য বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করেছে। মন্ত্রীর দেওয়া হিসাব অনুযায়ী—
- ২০২১-২২ অর্থবর্ষে ব্যয় হয়েছে ২২৬৩.০১ কোটি টাকা
- ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে খরচ হয়েছে ২৬৩০.৫৬ কোটি টাকা ।
- ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে রাজ্য সরকারের ব্যয় ২৬৯৪.৬৪ কোটি টাকা
এই তিন বছরে রাজ্যের বাজেট থেকে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের জন্য মোট খরচ হয়েছে ৭৫৮৮.২১ কোটি টাকা।
২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে এই প্রকল্পের অধীনে ২১ লক্ষ ২৮ হাজার ৮৩৪ জন মানুষ স্বাস্থ্য পরিষেবা পেয়েছেন। অর্থাৎ, প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক মানুষ এই প্রকল্পের সুবিধা নিচ্ছেন। রাজ্যের দাবি, স্বাস্থ্যসাথী কার্ড (Swasthya Sathi Card) থাকার ফলে বহু মানুষ বিনামূল্যে উন্নত চিকিৎসা পাচ্ছেন।
নিউজ পোল ফেসবুক পেজের লিংক: https://www.facebook.com/share/1EA79Afcw5/
বর্তমানে রাজ্যে মোট ২৯১৪টি হাসপাতাল (Hospitals) এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত। এই সরকারি এবং বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড ব্যবহার করে রোগীরা চিকিৎসা করাতে পারেন। মন্ত্রী জানিয়েছেন, কার্ডের সঙ্গে দেওয়া একটি নির্দিষ্ট ফোন নম্বর (Helpline Number)-এ ফোন করে যে কোনও সমস্যার সমাধান পাওয়া যায়। সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প আরও বিস্তৃত করা হবে। আরও বেশি হাসপাতালকে এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করা হবে এবং পরিষেবার মানোন্নয়ন করা হবে। স্বাস্থ্যসাথীর মতো জনমুখী প্রকল্প রাজ্যের সাধারণ মানুষের চিকিৎসার দায়িত্ব আরও সুসংহত করছে বলে মনে করছে সরকার।
রাজ্যের এই স্বাস্থ্য বিমা প্রকল্প গরিব ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের মাধ্যমে রোগীরা নগদহীন (Cashless) চিকিৎসার সুবিধা পাচ্ছেন, যা চিকিৎসার খরচের বোঝা অনেকটাই কমিয়ে দিচ্ছে।