Recruitment Scam: সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে CID তদন্ত , নির্দেশ হাইকোর্টের

আইন রাজনীতি রাজ্য শিক্ষা

নিউজ পোল ব্যুরো: নিয়োগ দুর্নীতির (Recruitment Scam) অভিযোগে এবার তৃণমূলের শিক্ষক নেতা সিরাজুল ইসলামের (Sirajul Islam) বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দিল কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta High Court)। রাজ্যের শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির (Teacher Recruitment Corruption) বিষয়ে আদালতে দায়ের হওয়া মামলায় তাঁর নাম উঠে আসে। কিন্তু এতদিন তাঁর বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। সেই কারণেই আদালত পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং সরাসরি CID তদন্তের নির্দেশ দেয়।

আরও পড়ুনঃ Shantiniketan Dol Utsav 2025: শান্তিনিকেতনে কোথাও দোল খেলার নিষেধাজ্ঞা নেই: পুলিশ

বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু (Justice Biswajit Basu) বৃহস্পতিবার আদালতে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি জানতে চান, কেন এতদিন সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে FIR দায়ের হয়নি এবং কেন তাঁকে রক্ষা করার চেষ্টা করা হচ্ছে? আদালতের এই প্রশ্নের পরই পাঁচ মিনিটের মধ্যে হাওড়া সদর থানায় (Howrah Sadar Police Station) সিরাজুলের বিরুদ্ধে FIR দায়ের করা হয়। আগামী ২৮ মার্চ মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। সেই দিন আদালতে তদন্তের অগ্রগতি রিপোর্ট পেশ করতে হবে CID-কে।

রাজ্যের কর্মশিক্ষা (Work Education) ও শারীরশিক্ষা (Physical Education) বিভাগে বেআইনি শিক্ষক নিয়োগের (Illegal Teacher Recruitment) অভিযোগ নিয়ে মামলা করেছিলেন এক চাকরিপ্রার্থী সোমা রায় (Soma Roy)। হাই কোর্ট ওই মামলায় তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে এবং গোটা রাজ্যে বেআইনি শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেয়। সেই তদন্তের রিপোর্টেই উঠে আসে সিরাজুল ইসলামের নাম। অভিযোগ, তিনি নিয়োগ দুর্নীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন, কিন্তু রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে এতদিন তাঁর বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তৃণমূলের শিক্ষক সংগঠনের (TMC Teacher Cell) গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকেও তিনি দুর্নীতিতে লিপ্ত ছিলেন বলে দাবি মামলাকারীর।

নিউজ পোল ফেসবুক পেজের লিংক: https://www.facebook.com/share/1EA79Afcw5/

সিরাজুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন। ২০০১ সালে কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে তাঁর চাকরি চলে যায়। তাঁর বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির (Molestation) অভিযোগও ছিল, যা আদালতে বৃহস্পতিবার উল্লেখ করেন মামলাকারীর আইনজীবী ফিরদৌস শামিম (Firdous Shamim)। সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে FIR দায়ের করতে চায়নি পুলিশ, এমন অভিযোগও আদালতে উঠে আসে। মামলাকারীর পক্ষ থেকে বলা হয়, রাজনৈতিক চাপে পড়েই পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ নেয়নি।

সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তাঁকে তৃণমূলের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, তাঁর রাজনৈতিক যোগসূত্রের কারণেই তাঁকে রক্ষা করা হচ্ছিল। তবে হাইকোর্টের কড়া অবস্থানের পর পুলিশকে নড়েচড়ে বসতে হয়েছে। আগামী ২৮ মার্চের শুনানিতে আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকেই নজর থাকবে সকলের।