নিউজ পোল ব্যুরো: কেরলের তিরুঅনন্তপুরমে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হল বিখ্যাত আট্টুকাল পোঙ্গল উৎসব (Attukal Pongala)। এটি এক বিশেষ পূজা, যেখানে লক্ষ লক্ষ মহিলা ভক্ত অংশ নেন, ফলে গোটা এলাকা ভক্তদের উপস্থিতিতে গমগম করে ওঠে। কেবলমাত্র কেরল নয়, ভিন রাজ্য এমনকি বিদেশ থেকেও বহু ভক্ত এই পবিত্র আয়োজনে যোগ দিতে আসেন। এই উৎসবকে উত্তর ভারতের কুম্ভ মেলার (Kumbh Mela) সঙ্গে তুলনা করা হয় এবং একে বলা হয় ‘মহিলাদের শবরীমালা’ (Women’s Sabarimala)। প্রধানত মহিলারাই এতে অংশগ্রহণ করেন, তবে ১২ বছরের কম বয়সী ছেলেদেরও অনুমতি রয়েছে। দশ দিনব্যাপী এই আয়োজনে শেষ দিনে ভক্তরা মাটির বা ধাতব পাত্রে চাল, গুড় ও নারকেল কোরা দিয়ে পোঙ্গল রান্না করেন এবং তা দেবীর উদ্দেশ্যে নিবেদন করেন। এই উৎসবের সঙ্গে প্রাচীন তামিল মহাকাব্য ‘চিলপ্পদিকরম’ (Silappadikaram)-এর সংযোগ রয়েছে।
আরও পড়ুন:- BJP Leader: প্রতিবেশীর হাতে খুন বিজেপি নেতা

এই বিশাল উৎসবের (Attukal Pongala) সময় এলাকার মানাক্কাদ জুমা মসজিদ (Manacaud Juma Masjid) এবং সেন্ট স্টিফেন্স মেট্রোপলিটান ক্যাথিড্রাল (St. Stephen’s Metropolitan Cathedral) উদারতা ও সহমর্মিতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। মসজিদ কর্তৃপক্ষ ভক্তদের সুবিধার্থে তাদের পার্কিং এলাকা খুলে দেয়। সেইসঙ্গে, গাড়ি চালকদের বিশ্রামের ব্যবস্থা, পানীয় জলের সরবরাহ, মহিলাদের জন্য আলাদা শৌচাগারও (Sanitation Facilities) তারা ব্যবস্থা করেছে। শুধু তাই নয়, উৎসবের ভিড় সামলাতে নিয়োজিত পুলিশ কর্মীদের জন্যও মসজিদের একটি ঘর খুলে দেওয়া হয়, যাতে তারা বিশ্রাম নিতে পারেন। অন্যদিকে, সেন্ট স্টিফেন্স ক্যাথিড্রালও (Church) পোঙ্গল ভক্তদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেয়। বিশ্রামের স্থান, পানীয় জল ও শৌচাগারের সুযোগ তারা প্রদান করেছে। পাশাপাশি, ভেল্লয়ম্বলমের সেন্ট টেরেজা অব লিজিয়োর (St. Thérèse of Lisieux) স্বেচ্ছাসেবকরা ভক্ত মহিলাদের জন্য ঘোল পরিবেশন করেছেন, যাতে তারা গরমে একটু স্বস্তি অনুভব করেন।
নিউজ পোল বাংলা ফেসবুক পেজের লিঙ্ক:- https://www.facebook.com/share/164mWXbsyp/
এবারের আট্টুকাল পোঙ্গল উৎসব (Attukal Pongala) এমন এক সময়ে পড়েছে, যখন মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা রমজান (Ramadan) মাস পালন করছেন। মানাক্কাদ জুমা মসজিদের এক প্রতিনিধি জানান, রোজার কারণে তারা দিনের বেলা ভক্তদের খাবার পরিবেশন করতে পারেননি। তবে, পোঙ্গলের আগের সন্ধ্যায় ইফতারের (Iftar) সময় মন্দিরে আগত ভক্তদের জন্যও খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এভাবে আট্টুকাল পোঙ্গল শুধুমাত্র এক ধর্মীয় উৎসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং এটি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতির সেতুবন্ধ গড়ে তোলার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।