Water Conservation: জল সংরক্ষণে পশ্চিমবঙ্গের মডেল, প্রশংসায় সোনম ওয়াংচুক

দেশ রাজ্য

নিউজ পোল ব্যুরো: সম্প্রতি গুরগাঁওতে এক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সোনম ওয়াংচুক। সেখানে পরিবেশ সংরক্ষণ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তাঁর মতে, ‘‘জল সংরক্ষণ (Water Conservation) আজকের দিনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলির মধ্যে একটি। পশ্চিমবঙ্গ সরকার যেভাবে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে, তা প্রশংসনীয়।’’

আরও পড়ুনঃ Water Crisis : জলসংকটে জঙ্গলমহলের পাতাজুবা গ্রাম

পশ্চিমবঙ্গে ২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস সরকার গঠনের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) জল সংকট মোকাবিলায় ‘জল ধরো জল ভরো’ প্রকল্প শুরু করেন। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ছিল বৃষ্টির জল সংরক্ষণ (Rainwater Harvesting) এবং ভূগর্ভস্থ জলের স্তর পুনরুদ্ধার করা। রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে বিশেষত কালনা-২, বর্ধমান-২, মঙ্গলকোট, মেমারি, পূর্বস্থলীর মতো এলাকায় ভূগর্ভস্থ জলের স্তর বিপজ্জনকভাবে নিচে নেমে গিয়েছিল। এই প্রকল্পের মাধ্যমে সেখানে জলস্তর উন্নত হয়েছে, যা সংকটজনক অবস্থা থেকে ‘সেমি-ক্রিটিক্যাল’ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জল সংরক্ষণের (Water Conservation) এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে কৃষিকাজ (Agriculture) ও পানীয় জলের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।

পরিবেশ সংরক্ষণের প্রসঙ্গে সোনম ওয়াংচুক আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু তুলে ধরেন—বায়ু দূষণ (Air Pollution)। তাঁর মতে, ‘‘তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ (Third World War) ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে, তবে এটি দেশ বা জাতির মধ্যে নয়, বরং মানুষের সঙ্গে প্রকৃতির লড়াই।’’

উল্লেখ্য, প্রতি বছর শুধুমাত্র বায়ু দূষণের কারণেই বিশ্বে প্রায় ৭০ লক্ষ মানুষ মারা যাচ্ছেন, যার মধ্যে ভারতে এই সংখ্যা ২৫ লক্ষের বেশি। সোনম ওয়াংচুকের মতে, ‘‘প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে এত মানুষ প্রাণ হারাননি, যত মানুষ এখন পরিবেশ দূষণের কারণে মারা যাচ্ছেন।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘জল সংরক্ষণ যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই নবায়নযোগ্য শক্তির (Renewable Energy) ব্যবহার বাড়ানো এবং সবুজায়ন (Afforestation) বাড়াতে হবে, যাতে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সুস্থভাবে বাঁচতে পারে।’’

নিউজ পোল ফেসবুক পেজের লিংক: https://www.facebook.com/share/1EA79Afcw5/

সোনম ওয়াংচুকের মতো একজন পরিবেশবিদের কাছ থেকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এই উদ্যোগ প্রশংসিত হওয়া নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। জল সংরক্ষণ (Water Conservation) ও পরিবেশ রক্ষার মতো উদ্যোগগুলোকে আরও বিস্তৃত করতে হবে, যাতে জলবায়ু পরিবর্তন (Climate Change) ও পরিবেশ দূষণের বিরুদ্ধে আমরা কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারি। ভবিষ্যতের প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে এই ধরনের প্রকল্পের গুরুত্ব অপরিসীম।