Lizard Superstition: সত্যি কথা বললেই কেন টিকটিকি ডেকে ওঠে?

oftbeat বিজ্ঞান

নিউজ পোল ব্যুরো: আমাদের সমাজে অনেক ধরনের বিশ্বাস প্রচলিত আছে, তার মধ্যে অন্যতম হল—কথা বলার সময় যদি হঠাৎ টিকটিকি শব্দ করে (Lizard Superstition) ওঠে, তবে সেই কথা সত্য বলে ধরা হয়। বিশেষ করে, যখন কেউ ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন, তখন যদি “টিক টিক” শব্দ শোনা যায়, মানুষ সেটিকে নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী হিসেবে ধরে নেন। এই বিশ্বাসের সঙ্গে এক বিস্ময়কর লোককাহিনি জড়িয়ে রয়েছে, যার মূল চরিত্র হলেন প্রাচীন বাংলার এক বিদুষী নারী—খনা (Khona)। প্রচলিত লোককথা অনুসারে, খনার জন্ম বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের বারাসাতের দেউলি গ্রামে। তাঁর পিতা ছিলেন অনাচার্য। খনা ছিলেন অসাধারণ জ্ঞানী এবং জ্যোতির্বিদ্যায় (Astronomy) পারদর্শী। তাঁর বচন বা উক্তিগুলো এতটাই গভীর এবং প্রজ্ঞাপূর্ণ ছিল যে, সেগুলো আজও বাংলার কৃষিজীবী সমাজে প্রচলিত। খনার জীবনকাহিনির সঙ্গে জড়িয়ে আছে আরও এক বিখ্যাত জ্যোতির্বিদ—বরাহ (Varaha) ও তাঁর পুত্র মিহির (Mihir)।

আরও পড়ুন:- Singapuri Banana Origin: নামের বিভ্রান্তি, স্বাদে অনন্য!

উজ্জয়িনীর রাজা বিক্রমাদিত্যের রাজসভায় রাজজ্যোতিষী ছিলেন বরাহ। তাঁর পুত্র মিহিরের জন্মের পর বরাহ গণনা করে দেখেন, ছেলের আয়ু মাত্র এক বছর। হতাশ হয়ে তিনি মিহিরকে তামার পাত্রে শুইয়ে সমুদ্রের জলে ভাসিয়ে দেন। ভাগ্যক্রমে, সেই পাত্র গিয়ে পৌঁছায় সিংহল দ্বীপে (Sri Lanka), যেখানে রাজা শিশুটিকে উদ্ধার করে লালন-পালন করেন।পরবর্তীকালে, মিহিরের সঙ্গে খনার বিয়ে হয় এবং তাঁরা বঙ্গদেশে বসবাস করতে শুরু করেন। পরে তাঁরা উজ্জয়িনীতে এসে বরাহের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বরাহ যখন মিহিরের আয়ু গণনার ভুল প্রকাশ পেয়ে অবাক হয়ে যান, তখন তিনি খনার জ্ঞান সম্পর্কে চিন্তিত হয়ে পড়েন। একবার রাজা বিক্রমাদিত্য (Vikramaditya) এক জোৎস্নারাতে আকাশের দিকে তাকিয়ে জানতে চান, আকাশে ঠিক কতগুলো নক্ষত্র (Stars) রয়েছে? বরাহ ও মিহির এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেননি, কিন্তু খনা নির্ভুলভাবে সেই প্রশ্নের উত্তর দেন। রাজা খনার প্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে তাঁকে রাজসভার দশম রত্ন (Navaratna) হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেন।

আরও পড়ুন:- Walking Trees: ইকুয়েডরের জঙ্গলে গাছ কিন্তু হাঁটে!

কিন্তু পুত্রবধূর খ্যাতি বরাহ সহ্য করতে পারেননি। একজন নারী তাঁর পাণ্ডিত্যে বরাহকে ছাপিয়ে যাবে, এই ভাবনাই তাঁকে ব্যথিত করে। ক্রোধের বশে বরাহ আদেশ দেন যে, খনার জিভ কেটে ফেলা হবে। খনা তখন শান্তভাবে বলেন, “আমাকে ৭ দিন সময় দিন। এই সময়ের মধ্যে আমি সাধারণ মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু উপদেশ রেখে যেতে চাই।” এরপর টানা ৭ দিন ধরে খনা তাঁর জ্ঞানগর্ভ বাণী বলেন, যা পরে “খনার বচন” (Khonar Bachan) নামে পরিচিত হয়। এই বচনগুলো মূলত কৃষি (Agriculture), আবহাওয়া (Weather), জীবনধারা (Lifestyle) ও জ্যোতির্বিদ্যার ওপর ভিত্তি করে গঠিত। ৭ দিন শেষে বরাহের আদেশে খনার জিভ কেটে নেওয়া হয়। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে, সেই কাটা জিভ খেয়ে ফেলে একটি টিকটিকি (Tiktiki)। লোককথা বলে, এই টিকটিকি খনার সমস্ত জ্ঞান অর্জন করে। যদিও সে কথা বলতে পারে না, কিন্তু যখন সত্যি কথা বলা হয়, তখন সে “টিক টিক” শব্দ করে জানিয়ে দেয়। এভাবেই বর্তমানকালের সমস্ত টিকটিকি সেই প্রাচীন টিকটিকির উত্তরসূরি বলে মনে করা হয়।

নিউজ পোল বাংলা ফেসবুক পেজের লিঙ্ক:- https://www.facebook.com/share/164mWXbsyp/

বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে টিকটিকির ডাকা (Lizard Superstition) এবং সত্য কথা বলার মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই। এটি নিছকই একটি কাকতালীয় ঘটনা (Coincidence)। টিকটিকি সাধারণত তাপমাত্রার পরিবর্তন, পরিবেশগত কারণ বা শিকার ধরার সময় শব্দ করে। কিন্তু লোকসংস্কৃতিতে (Folklore) এই বিশ্বাস এতটাই গভীরভাবে প্রোথিত যে, আজও অনেক মানুষ মনে করেন, টিকটিকির ডাক সত্যের প্রতীক। খনার জীবন, তাঁর জ্ঞান ও তাঁর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা টিকটিকির উপাখ্যান একটি চমকপ্রদ লোকগল্প (Legend), যা বাংলার সংস্কৃতি ও বিশ্বাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বাস্তবিক অর্থে, খনার বচনগুলো আজও কৃষকদের জন্য কার্যকর, এবং টিকটিকির ডাক নিয়ে গড়ে ওঠা কাহিনি লোকজীবনের এক অনন্য অধ্যায়। বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা যা-ই বলুক, বাংলার মাটিতে টিকটিকির ডাক (Lizard Superstition) সত্যের প্রতীক হিসেবেই থেকে যাবে।