নিউজ পোল ব্যুরো: বিমানযাত্রা (Flight Journey) এখন আর সবার কাছে অপরিচিত কিছু নয়। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত শ্রেণির জন্য প্লেনে ওঠা এখন কিছুটা সুলভ হলেও, এটা এখনও একটা স্বপ্নের মতোই। আকাশে উড়তে গিয়ে মেঘের বুক চিরে যাওয়ার রোমাঞ্চ অনেকের কাছে আজও অবিস্মরণীয় এক অভিজ্ঞতা। কিন্তু এই যাত্রা যে একেবারে নির্দোষ নয়, তা জানলে হয়তো আপনার বিশ্বাসই হবে না। আজ আমরা এমনই কিছু অবাক করা কাহিনী জানবো যা প্লেনের ভিতরে ঘটে থাকে, আর সেইসব ঘটনা গুলোর সাক্ষী হতে হয় বিমানসেবিকা বা এয়ার হস্টেসদের (Air Hostess)।
আরও পড়ুনঃ Holi 2025: রঙের উৎসবের নেপথ্যে সাদা পোশাক
এয়ার হস্টেসের (Flight Attendant) কাজ শুধুমাত্র যাত্রীদের খাবার পরিবেশন করা বা সুরক্ষা নির্দেশনা দেওয়া নয়, তাদের প্রতিদিনকার অভিজ্ঞতা অনেকটাই ভিন্ন। প্রায় প্রতিটি যাত্রাতেই তারা এমন কিছু পরিস্থিতির মুখোমুখি হন, যা মোটেও সহজ নয়। সম্প্রতি, মারিকা মিকুসোভা (Marika Mikusova), একজন অভিজ্ঞ এয়ার হস্টেস, নিজের অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছেন তাঁর বই ‘ডায়েরি অফ আ ফ্লাইট অ্যাটেন্ড্যান্ট’ (Diary of a Flight Attendant)-এ। বইটির মাধ্যমে তিনি তুলে ধরেছেন এমন কিছু গল্প যা কখনও আপনি ভাবতেও পারবেন না।

বিমানে ঘটে যাওয়া অদ্ভুত ঘটনাগুলি:
প্যাকেট ভর্তি প্রস্রাব এবং পায়ের গন্ধ (Weird incidents: Urine packet and foot odor)।
মারিকা জানান, তার কাজের শুরু থেকেই তিনি এমন কিছু অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছেন, যা তাকে অবাক করে দিয়েছে। যেমন, প্লেনের ভিতর অনেক যাত্রী এমন আচরণ করেন, যার ফলে এয়ার হস্টেসদের গা গুলিয়ে ওঠে। তিনি বলেন, এমন ঘটনা ঘটেছে যেখানে যাত্রীরা প্লেনের মধ্যে প্রস্রাব (Urine) করে ফেলেছিলেন। তুরস্কের তিন যাত্রী একবার প্লেনে প্রস্রাব করে ফেলেছিল এবং তা প্লাস্টিকের একটি ব্যাগে ভরে সিটের তলায় রেখে চলে গিয়েছিল। কিন্তু সিটের তলা থেকে প্লাস্টিকের ব্যাগ ফেটে যাওয়ার ফলে গোটা প্লেনটাই প্রস্রাবে ভরে যায়!

একটা কথা প্রচলিত আছে যে, “যা চকচক করে, তা সোনা নয়।” অনেকেই মনে করেন যে প্লেনের ভিতরের সবকিছু ঝকঝকে এবং পরিষ্কার থাকে। কিন্তু সত্যটা মোটেও তেমন নয়। মারিকা জানিয়েছেন, অধিকাংশ সময়ই প্লেনের সাফাইকর্মীরা (Cleaning Crew) পর্যাপ্ত সময় পান না প্লেন পরিষ্কার করার জন্য। তাদের কাছে সময় এত কম থাকে যে, বেশিরভাগ সময়েই সিটের কভার (Seat Covers) পরিবর্তন করা হয় না, কিংবা সিটে খাবারের দাগ (Food Stains) পড়েও সেগুলো ঠিকভাবে পরিষ্কার করা হয় না। অনেক সময় দেখা যায়, সিট ভিজে গেছে কিংবা অন্য কিছু লেগে গেছে, এবং সাফাইকর্মীরা তা ঠিক করতে পারে না, কারণ সুপারভাইজারের চাপের কারণে দ্রুত কাজ করতে হয়। সেই জন্য তারা সিটের ওপর কেবল একটি মোটা ব্ল্যাংকেট (Blanket) পেতে দেন, যাতে যাত্রীরা তা না দেখতে পান।
নিউজ পোল ফেসবুক পেজের লিংক: https://www.facebook.com/share/1EA79Afcw5/
মারিকা মিকুসোভা এবং অন্যান্য এয়ার হস্টেসদের গল্প আমাদের মনে করিয়ে দেয়, প্লেনের ভিতর আমাদের যাত্রার সময় যে পরিবেশ দেখে আমরা অভ্যস্ত, তা খুব সহজ নয়। সেখানে নানা ধরনের পরিস্থিতি, অস্বস্তি এবং অসহ্য ঘটনা ঘটতে পারে, যার জন্য এয়ার হস্টেসরা ত্যাগ স্বীকার করেন। আর তাদের এই কঠোর পরিশ্রমের জন্যই আমরা নিরাপদ এবং আরামদায়ক বিমানযাত্রা উপভোগ করতে পারি।