নিউজ পোল ব্যুরো: বালুরঘাট (Balurghat) শহরের অন্যতম ব্যস্ততম এলাকা সত্যজিৎ মঞ্চ (Satyajit Mancha) সংলগ্ন গলিতে ঘটে গেল এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। হঠাৎই মৌমাছির (Honeybee) আক্রমণে আহত হলেন প্রায় ১৫ জন পথচারী। আহতদের মধ্যে অন্তত ১০ জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: Jadavpur University: শিক্ষাঙ্গনে অরাজকতার বিরুদ্ধে ছাত্রদের মহামিছিল
জানা গিয়েছে, বালুরঘাটের (Balurghat) এই ব্যস্ততম গলিটি স্থানীয় মানুষের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি বালুরঘাট থানা মোড় থেকে বালুরঘাট হাসপাতালে যাওয়ার একটি শর্টকাট রাস্তা। প্রতিদিন বহু মানুষ এই রাস্তা ব্যবহার করেন, ফলে সেখানে মানুষের ভিড় লেগেই থাকে। ওই গলিতেই রয়েছে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তর (PHE Office)। দপ্তরের সামনের একটি গাছে দীর্ঘদিন ধরেই মৌমাছির চাক (Beehive) তৈরি হয়েছিল। স্থানীয়রা জানিয়েছিলেন, সেই চাকটিতে প্রচুর মৌমাছি বাস করত।
প্রত্যক্ষদর্শী পরিমল মহন্ত – এর থেকে জানা গিয়েছে, ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন এক বিশাল আকৃতির বাজ পাখি (Hawk) ওই মৌমাছির চাকের উপর বসে পড়ে। বাজ পাখির ওজনের চাপে কিংবা মধুর লোভে চাকটি নড়েচড়ে যায়। এতে ভীষণভাবে উত্যক্ত হয়ে ওঠে মৌমাছির দল। তারা গুঞ্জন করতে করতে দল বেঁধে উড়ে এসে পথচারীদের আক্রমণ করে। এই আকস্মিক মৌমাছির আক্রমণে পথচলতি বহু মানুষ আতঙ্কিত হয়ে ছোটাছুটি শুরু করেন। কিন্তু মৌমাছির কামড় এড়ানো সম্ভব হয়নি। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, মৌমাছির দংশনে বেশ কয়েকজন মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাদের মধ্যে ১৫ জন গুরুতর আহত হন এবং অন্তত ১০ জনকে দ্রুত বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

হাসপাতাল সূত্রে খবর, আক্রান্তদের মধ্যে অনেকের শরীরের বিভিন্ন অংশ ফুলে গেছে (Swelling), চুলকানি ও তীব্র ব্যথার (Severe Pain) সমস্যায় ভুগছেন অনেকে। চিকিৎসকেরা তাদের পর্যবেক্ষণে রেখেছেন এবং অ্যান্টি-অ্যালার্জিক ও ব্যথা নিরাময়কারী ওষুধ (Antihistamines & Painkillers) দেওয়া হয়েছে।
নিউজ পোল ফেসবুক পেজের লিংক: https://www.facebook.com/share/1EA79Afcw5/
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মৌমাছির চাকটি সরানোর জন্য বিশেষজ্ঞদের ডাকা হবে। যাতে ভবিষ্যতে এমন কোনও বিপদ না ঘটে, তার জন্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ঘটনায় বালুরঘাট শহরের মানুষ বেশ আতঙ্কিত হলেও প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিলে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।