নিউজ পোল ব্যুরো: রবিবার রায়পুরে আন্তর্জাতিক মাস্টার্স লিগে (International Masters League) সচিন তেন্ডুলকরের নেতৃত্বে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ভারতীয় দল। তবে এবারই প্রথম নয়। এর আগে যথাক্রমে রোড সেফটি ওয়ার্ল্ড সিরিজ ২০২০/২১, রোড সেফটি ওয়ার্ল্ড সিরিজ ২০২২ এবং ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অব লেজেন্ডস ২০২৪ এও শিরোপা জিতেছে ভারত।
আরও পড়ুনঃ Corbin Bosch: পিসিবির কড়া পদক্ষেপ, বিপাকে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স অলরাউন্ডার
শুধুমাত্র ২০২২/২৩ মরশুমে লেজেন্ডস লিগ ক্রিকেটে খাপ খুলতে পারেনি ভারত। তবে মনে রাখতে হবে, ওই প্রতিযোগিতাটিতে দেশ হিসাবে একমাত্র ভারতই অংশ নিয়েছিল। বাকি দুই দল ছিল যথাক্রমে এশিয়ান লায়ন্স এবং ওয়ার্ল্ড জায়ান্টস। সুতরাং উক্ত প্রতিযোগিতাটিকে সেই অর্থে বিশ্ব পর্যায়ের টুর্নামেন্ট কখনওই বলা চলে না। ইদানিংকালে অবসরপ্রাপ্ত ক্রিকেটারদের নিয়ে যে কয়টি বিশ্ব পর্যায়ের অর্থাৎ বহুদেশিক প্রতিযোগিতা আয়োজিত হয়েছে, প্রতিটিতেই চ্যাম্পিয়ন ভারত।
অথচ উল্লেখযোগ্য বিষয়, এমনটা মোটেই নয় যে এই প্রতিযোগিতাগুলিতে ভারতের প্রতিনিধিত্বকারী ক্রিকেটাররা যখন পেশাদারী ক্রিকেট খেলেছেন, সেই সময় তাঁরা প্রতিটি আইসিসি প্রতিযোগিতাতেই দেশকে চ্যাম্পিয়ন করেছেন। যুবরাজ সিংকে এক্ষেত্রে কিছুটা ব্যতিক্রম বলা যেতে পারে। ভারতকে ২০০৭ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং ২০১১ বিশ্বকাপ জেতাতে মুখ্য ভূমিকা নিয়েছিলেন যুবি। কিন্তু বাকিরা? এমনকি সচিনকেও এই তালিকায় রাখা যাবে না। আর বাকিদের মধ্যে কেউ কেউ তো কখনও সুযোগই পাননি জাতীয় দলের জার্সি গায়ে গলানোর। অথচ পেশাদারী ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়ানোর পর এঁদেরকে হারানো বাকি দেশের অবসরপ্রাপ্ত তারকাদের জন্য যেন এক অসম্ভব ব্যাপারে পরিণত হয়েছে।

বিশেষ করে সদ্যসমাপ্ত আন্তর্জাতিক মাস্টার্স লিগে (International Masters League) তো রীতিমত অপ্রতিরোধ্য ছিল ইন্ডিয়া মাস্টার্স (India Masters) দল। লিগ পর্বে একমাত্র অস্ট্রেলিয়া ৯৫ রানে হারায় ভারতকে। কিন্তু তার পরিবর্তে সেমিফাইনালে অজিদের ৯৪ রানে উড়িয়ে দিয়ে মধুর প্রতিশোধ নিয়েছেন সচিন-যুবরাজরা। আর রবিবারের ফাইনালে তো ক্যারিবিয়ান কিংবদন্তিরা দাঁড়াতেই পারেননি। তাঁদের দেওয়া ১৪৯ রানের লক্ষ্যমাত্রা ১৭ বল বাকি থাকতেই মাত্র ৪ উইকেট খুইয়ে তাড়া করে ফেলে ভারত। অম্বাতি রায়াডু ৫০ বলে করেন ৭৪। তার আগে বল হাতে দুরন্ত শাহবাজ নাদিম (৪-১-১২-২)।
সব মিলিয়ে ‘অবসরপ্রাপ্ত ভারতীয়দের টক্কর দেওয়া কার্যত অসম্ভব’ এই তত্ত্বই যেন আরও একবার নতুন করে প্রতিষ্ঠা পেল রবিবাসরীয় আন্তর্জাতিক মাস্টার্স লিগের (International Masters League) ফাইনালে। অবসরপ্রাপ্ত ভারতীয় ক্রিকেটারদের নিয়ে গড়া দল যে প্রতিযোগিতাতেই নামানো হোক না কেন, দেখে মনে হয় নিজেদের সময়ে বিশ্ব ক্রিকেটে তারাই ছিল একচ্ছত্র অধিপতি। তাই তাদেরকে হারানো অবসরের পরও অসম্ভব। অস্ট্রেলিয়াও পাত্তা পায় না এই ভারতের সামনে।
নিউজ পোল ফেসবুক পেজের লিংক: https://www.facebook.com/share/1EA79Afcw5/
শুধু কি তাই? এদের জেতার খিদেও অসম্ভব পর্যায়ের। রবিবারের ফাইনালেই তো ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলার টিনো বেস্টের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন যুবরাজ। শেষমেষ সামাল দিতে অধিনায়ক লারাকে আসরে নামতে হয়। সেই দৃশ্য দেখে কে বলবে, অবসরে চলে যাওয়া ক্রিকেটারদের নিয়ে নিছকই এক বিনোদনমূলক টুর্নামেন্ট চলছে? নাঃ রবিবারের পর আর একথা বললে অত্যুক্তি হবে না যে সচিন, যুবরাজ কিংবা পাঠান ভাইরা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছাড়ার পরই ২২ গজের প্রেমে আরও বেশি করে মজেছেন। আর তাতেই তাঁদের জেতার খিদে শতগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে।

এদিকে ইতিহাসের যে পুনরাবৃত্তি ঘটে তা আরেকবার প্রমাণিত। গত বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের দুই সপ্তাহের মধ্যেই যুবরাজ সিংয়ের নেতৃত্বে ইংল্যান্ডে ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অব লেজেন্ড জিতেছিল ভারত। আর এবার এক রবিবার রোহিত শর্মার নেতৃত্বে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়, আর ঠিক তার পরের রবিবারই সচিনের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক মাস্টার্স লিগ (International Masters League) জয়।