নিউজ পোল ব্যুরো: বিধানসভা থেকে ফের ওয়াকআউট করল বিজেপি (BJP)। দোল যাত্রায় হিন্দুদের উপর অত্যাচার ও নিপীড়ন, মুসলিম হামলার প্রতিবাদে সোমবার ওয়াকআউট করে বিজেপি। এদিন বিধানসভায় বিরোধী বিজেপি হিন্দুদের উপর আক্রমণের অভিযোগ তুলে সরকার পক্ষের বিবৃতি দাবি করে। সেই দাবিই বিধানসভার অধ্যক্ষ খারিজ করে দেওয়াতেই ওয়াকআউট করেন বিজেপি বিধায়করা। তারপরেই বিধানসভার বাইরে এসে বিজেপি বিধায়করা বিক্ষোভ দেখাতে পারেন।
সোমবার দোল ও হোলি উৎসবে রাজ্যের নানা জায়গায় অশান্তির ঘটনা নিয়ে আলোচনা দাবি করে বিধানসভায় প্রধান বিরোধী দল বিজেপির আনা মুলতুবি প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে রাজ্য বিধানসভার অধিবেশন আজ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধী পক্ষের মুখ্য সচেতক শঙ্কর ঘোষকে ওই মুলতুবি প্রস্তাবের আংশিক পাঠের অনুমতি দেন। শঙ্কর বাবু বলেন, “দোল উৎসবে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় যে অশান্তি হয়েছে তাতে মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়েছে। আলোচনার অনুমতি না দেওয়া হলে অন্তত সরকারপক্ষ বিধানসভায় যেন এনিয়ে বিবৃতি দেন শঙ্কর বাবু অধ্যক্ষের কাছে সেই দাবি জানান। অধ্যক্ষ পাল্টা বলেন, ইতিমধ্যেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উপর বিধানসভায় দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী নিজে বিবৃতি দিয়েছেন। সুতরাং পুনরায় এনিয়ে আলোচনার প্রয়োজন নেই।” একথা শুনেই বিজেপি সদস্যরা সভায় বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। সরকার হিন্দু বিরোধী বলে স্লোগান তোলেন তাঁরা। পাল্টা ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে উঠে দাঁড়িয়ে পাল্টা স্লোগান দিতে শুরু করেন সরকার পক্ষের একাধিক মন্ত্রী বিধায়ক। স্লোগান পাল্টা স্লোগানকে কেন্দ্র করে উত্তাপ ছড়ায়। বেশ কিছুক্ষন এরকম চলার পর শঙ্কর ঘোষের নেতৃত্বে বিজেপি সদস্যরা সভা থেকে ওয়াকআউট করে।
আরও পড়ুনঃ Droupadi Murmu: এই প্রথমবার, রাষ্ট্রপতি ভবনে একসঙ্গে আমন্ত্রিত বাংলার ৪২ জন সাংসদ
অন্যদিকে, বিধানসভার অন্দরে বিজেপি (BJP) পরিষদীয় দলের আজকের কর্মসূচি নিয়ে সরকারপক্ষ তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। সরকার পক্ষের মুখ্য সচেতক নির্মল ঘোষ, অরূপ বিশ্বাস, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বিজেপির বিরুদ্ধে ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতির অভিযোগ তুলে সরব হন। বিধানসভাকে ব্যবহার করে রাজ্যের সম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিঘ্নিত করার চেষ্টার জন্য বিজেপি সদস্যদের বিরুদ্ধে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা নেওয়ার তারা দাবি জানান। উল্লেখ্যযোগ্য বিষয় হল সরকারপক্ষের সুরে সুর মিলিয়ে বিজেপির ভূমিকার সমালোচনা করেন, আই এস এফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। তিনি রাজ্যে হিন্দু মুসলিম মৈত্রীর সম্পর্কের একাধিক নজির তুলে ধরে বলেন, “এই সম্প্রীতি বিঘ্নিত করতে সমাজে বিভেদের বিষবাষ্প ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। একটি সম্প্রদায়কে সহানুভূতি জানানোর নামে সামাজিক ভারসাম্যকে ধ্বংস করা হচ্ছে।” যারা এই সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করছে তাঁদের বিরুদ্ধে সম্বলিত ভাবে লড়াই করার ডাক দেন নওশাদ।
নিউজ পোল বাংলার ফেসবুক পেজের লিঙ্ক: https://www.facebook.com/share/1EA79Afcw5/