Cyber Crime: প্রতারক নিজেই প্রতারণার স্বীকার

অপরাধ দেশ প্রযুক্তি

নিউজ পোল ব্যুরো: বাংলায় প্রবাদ আছে, ‘চোরের ওপর বাটপারি।’ প্রবাদ বাক্যের মতই ঘটনা ঘটলো সাইবার প্রতারকদের সঙ্গে। সাইবার জালিয়াতদের (Cyber Crime) হাতে প্রতারণার শিকার হওয়ার ঘটনা নতুন কিছু নয়। প্রতিদিনই হাজার হাজার মানুষ প্রতারকদের চক্রান্তে পড়ে সর্বস্ব খোয়ান। কিন্তু উত্তর প্রদেশের (Uttar Pradesh) কানপুর (Kanpur) শহরের এক যুবক দেখিয়ে দিলেন, বুদ্ধি খাটালে প্রতারকদেরও ফাঁদে ফেলা সম্ভব! ৬ মার্চ, ভূপেন্দ্র সিংয়ের কাছে একটি ফোন আসে। ফোনের অপর প্রান্ত থেকে এক ব্যক্তি নিজেকে সিবিআই (CBI) অফিসার পরিচয় দিয়ে বলে, “আপনি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে (Online Platform) অশ্লীল ভিডিও (Adult Content) দেখেছেন। এক মহিলা আপনার বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) দায়ের করেছেন। কয়েক মিনিটের মধ্যেই পুলিশ (Police) আপনার বাড়িতে পৌঁছে যাবে।” শুধু কথাতেই থামেননি প্রতারক।

আরও পড়ুনঃ Dumdum: দমদমে চাঞ্চল্য, উদ্ধার ঝুলন্ত দেহ

ভূপেন্দ্রকে হোয়াটসঅ্যাপে (WhatsApp) ৩২টি মর্ফ (Morphed) ভিডিও এবং ৪৮টি মর্ফ করা ছবি পাঠানো হয়। তবে ভূপেন্দ্র সঙ্গে সঙ্গেই বুঝতে পারেন যে এটি নিছক একটি প্রতারণার ফাঁদ। এবার তিনিও পরিকল্পনা করে প্রতারকদের একেবারে তাঁদের নিজের কৌশলেই ঘায়েল করার সিদ্ধান্ত নেন। ভূপেন্দ্র প্রথমেই আতঙ্কিত হওয়ার অভিনয় শুরু করেন। তিনি ফোনে ব্যাকুল কণ্ঠে বলেন, “আঙ্কেল, দয়া করে আমার মাকে এই বিষয়ে কিছু বলবেন না। আমি তাহলে খুব সমস্যায় পড়ে যাব।” প্রকৃতপক্ষে, ভূপেন্দ্রর মা কয়েক বছর আগেই মারা গিয়েছেন। কিন্তু প্রতারক তো তা জানে না! প্রতারক তখন বলেন, “দেখুন, এফআইআর হয়ে গিয়েছে। মামলা বন্ধ করতে হলে আপনাকে ১৬ হাজার টাকা দিতে হবে।”এ কথা শুনেই ভূপেন্দ্র নতুন গল্প ফাঁদতে শুরু করেন। ভূপেন্দ্র কয়েক সেকেন্ড চুপ থাকার পর কান্নাভেজা গলায় বলেন, “আমি চেষ্টা করছি টাকা জোগাড় করার, একটু সময় দিন আমাকে।”

পরের দিন আবার ফোন আসে। প্রতারক জানতে চায় টাকা কবে দেওয়া হবে। এবার ভূপেন্দ্র বলেন, “কয়েকদিন আগে আমি বাড়ি থেকে একটা সোনার চেন (Gold Chain) চুরি করেছিলাম। এক স্বর্ণকারকে (Jeweller) বিক্রি করার জন্য দিয়েছি। ৪০ হাজার টাকা পাবো, পুরো টাকাটাই আপনাকে দিয়ে দেব। কিন্তু স্বর্ণকার বলেছে, আগে ৩ হাজার টাকা দিতে হবে, তারপর সে পুরো টাকা দেবে। আমি তো ছাত্র, কোথা থেকে পাবো এত টাকা? আপনি যদি আমাকে ৩ হাজার টাকা দেন, তাহলে আপনাকেই প্রথমে টাকা ফেরত দেব।”প্রতারক একটুও সন্দেহ না করে সঙ্গে সঙ্গে ভূপেন্দ্রকে ৩ হাজার টাকা পাঠিয়ে দেন। এরপর ভূপেন্দ্র আরও ৫০০ টাকা চান, সেটাও পাঠিয়ে দেয় প্রতারক!

এখানেই শেষ নয়, এরপর ভূপেন্দ্র প্রতারকের সঙ্গে আরও এক ধাপ এগিয়ে যান। তিনি জানান, “স্বর্ণকার বলছে, বাবা-মাকে আনতে হবে, না হলে টাকা দেবে না।” এবার ভূপেন্দ্র তার এক বন্ধুকে স্বর্ণকারের চরিত্রে অভিনয় করান এবং প্রতারকের সঙ্গে কথাও বলান। প্রতারক এতে পুরোপুরি বিশ্বাস করে আরও ৪,৪৮০ টাকা পাঠিয়ে দেয়। এইভাবে মোট ১০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন ভূপেন্দ্র!

নিউজ পোল ফেসবুক পেজের লিংক: https://www.facebook.com/share/1EA79Afcw5/

এই ঘটনার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় (Social Media) প্রচুর আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকে ভূপেন্দ্রর বুদ্ধিমত্তার প্রশংসা করছেন। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে, সাধারণ মানুষ যেন প্রতারকদের পাল্টা ফাঁদে ফেলার চেষ্টা না করেন, কারণ এতে বিপদের আশঙ্কা থেকেই যায়। সাইবার প্রতারণার (Cyber Crime) সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। প্রতারকরা নিত্যনতুন কৌশল (New Tricks) ব্যবহার করে মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতানোর চেষ্টা করছে। তাই এমন ফোন কল (Fraud Call) এলে আতঙ্কিত না হয়ে প্রথমেই যাচাই করে নেওয়া উচিত। প্রয়োজনে পুলিশের সাইবার ক্রাইম শাখায় (Cyber Crime) অভিযোগ দায়ের করতে হবে। কিন্তু কানপুরের ভূপেন্দ্র যে বুদ্ধি খাটিয়ে প্রতারকদের নিজেই ফাঁদে ফেলে দিয়েছেন, তা সত্যিই বিরল ঘটনা।