নিউজ পোল ব্যুরো: আদিবাসী সমাজের (Indigenous society) (Acknowledgement) এক বিশেষ রীতি! তাদের নিজস্ব কোনো পরিচয় নেই। কারণ তাদের নামকরণের অধিকাংশ আদিবাসী পরিবারের শিশুদের নাম পরিচয়ের কোনো স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। তাই এবার আদিবাসী শিশুদের নিয়ে একটি সামাজিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যা “ছাটিয়ার” (Chhatiyar Festival) নামে পরিচিত। এই অনুষ্ঠান আদিবাসী সমাজের এক বিশেষ রীতি, যেখানে শিশুর জন্মের পর একটি সামাজিক অনুষ্ঠানের (Social event) মাধ্যমে তার নামকরণ ও পরিচয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। কিন্তু, দুঃস্থ বা অর্থনৈতিকভাবে Economicallyঅসচ্ছল পরিবারের শিশুরা এই অনুষ্ঠান থেকে বঞ্চিত থাকে। এমনই এক ঘটনা ঘটেছে রামপুরহাট ব্লকের হরিনাথপুর গ্রামে, যেখানে ১৮০ জন আদিবাসী শিশুর Indigenous childrenনামকরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আরও পড়ুন:BJP in WB Assembly: বিধানসভা থেকে ফের ওয়াকআউট বিজেপি বিধায়কদের
হরিনাথপুর, যা আদিবাসী জনগণের বসবাসের জন্য পরিচিত, সেখানে প্রায় সকল শিশুরই ডাকনাম ছিল, কিন্তু সামাজিক নামকরণ (Social naming) এবং সমাজভুক্ত (Socialized) হওয়ার স্বীকৃতি ছিল না। কিছু শিশুদের বাবা নেই, আবার কিছু পরিবারের আর্থিক অবস্থা ও দুর্বল ছিল, ফলে তারা ছাটিয়ার অনুষ্ঠান (Chhatiyar Festival) আয়োজনের সামর্থ্য রাখেনি। এই কারণে অনেক শিশু তাদের সমাজে সঠিকভাবে পরিচিত হতে পারছিল না। তবে, স্থানীয় সমাজসেবী এবং ব্যবসায়ী জহরুল ইসলাম এই সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ নেন এবং তিনদিন ব্যাপী এক জমকালো অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।
নিউজ পোল বাংলা ফেসবুক পেজের লিঙ্ক:https://www.facebook.com/share/1XhiZuM5DK/
এই অনুষ্ঠানের (Chhatiyar Festival) মাধ্যমে শিশুদের সামাজিক স্বীকৃতি দেওয়া হয় এবং তাদের সমাজভুক্ত করা হয়। শেষে রবিবার ছিল এক আনন্দময় ভূরিভোজ, যেখানে গ্রামের প্রায় সাতশো মানুষ একসঙ্গে খেতে বসে এবং ১৮০ জন শিশুকে সামাজিক স্বীকৃতি প্রদান করে। মেনুতে ছিল ভাত, ডাল, তরকারি, মাছ, চাটনি, মিষ্টি, দই এবং পাঁপড়। এই অনুষ্ঠানের খরচ সমস্তই জোগান দিয়েছিলেন জহরুল ইসলাম, যিনি এই উদ্যোগটি শুরু করেছিলেন। তিনি জানান, “এই অনুষ্ঠানটি আদিবাসী সমাজের ঐতিহ্য এবং রীতি বজায় রাখার একটি প্রচেষ্টা, এবং এর মাধ্যমে ১৮০ জন শিশুর সমাজে স্বীকৃতি পেয়েছে।”
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
এই উদ্যোগটি শুধু শিশুদের জন্য একটি নতুন জীবনের সূচনা হয়নি, বরং সমাজের মধ্যে একটি নতুন সম্পর্ক ও সমঝোতা তৈরি হয়েছে। একজন অভিভাবক, কীর্তি মুর্মু, জানান, “আমরা আর্থিকভাবে অভাবগ্রস্ত ছিলাম, তাই ছাটিয়ার আয়োজন করতে পারিনি। কিন্তু জহরুল সাহেবের সহায়তায় আমাদের শিশুরাও আজ সমাজের অংশ হলো।” এই ধরণের উদ্যোগে সমাজে আদিবাসী সংস্কৃতির প্রতি সম্মান এবং একে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়।