নিউজ পোল ব্যুরো: ১২ই মার্চ ২০২৫, মধ্যমগ্রাম থানার (Madhyamgram Police Station) পুলিশ জ্যোতি প্রকাশ দাস নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে। আইন অনুযায়ী, গ্রেফতারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তকে আদালতে (Court) পেশ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু মধ্যমগ্রাম থানার পুলিশ সেই নিয়ম অনুসরণ করতে ব্যর্থ হয় এবং পাঁচ দিন পর, ১৭ই মার্চ, অভিযুক্তকে আদালতে উপস্থাপন করা হয়। পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয় যে, অভিযুক্ত জ্যোতি প্রকাশ দাস অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে প্রথমে বারাসাত মেডিকেল কলেজ (Barasat Medical College) এবং পরে আর জি কর মেডিকেল হাসপাতালে (RG Kar Medical College and Hospital) ভর্তি করা হয়েছিল। এই কারণ দেখিয়ে পুলিশ তাকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আদালতে হাজির করতে পারেনি।
আরও পড়ুন:- Tajpur: ‘সমুদ্র চুরি’ তাজপুরে! কী ব্যবস্থা প্রশাসনের
১৭ই মার্চ, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর, অভিযুক্তকে প্রথমে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে (Executive Magistrate Court) পেশ করা হয়। সেখান থেকে মামলাটি স্থানান্তর করা হয় বারাসাত এসিজিএম আদালতে (Barasat ACJM Court)। সন্ধ্যা ৮টা নাগাদ বারাসাত এসিজিএম কোর্টে মামলার শুনানি শুরু হয়। দীর্ঘ সময় ধরে শুনানি চলতে থাকে এবং অবশেষে রাত তিনটের সময় বিচারপতি অভিযুক্তকে ১০০০ টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে (Personal Bond) জামিন (Bail) মঞ্জুর করেন।বারাসাত আদালতের আইনজীবীরা (Barasat Court Lawyers) এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, মধ্যমগ্রাম থানার (Madhyamgram Police) গাফিলতির কারণেই এই মামলার শুনানি ও রায়দান মধ্যরাত পর্যন্ত গড়িয়েছে।

নিউজ পোল বাংলা ফেসবুক পেজের লিঙ্ক:- https://www.facebook.com/share/164mWXbsyp/
আইনজীবীদের বক্তব্য অনুযায়ী, যদি পুলিশ যথাযথ তদন্ত করে এবং অভিযুক্তকে সময়মতো আদালতে (Judiciary) হাজির করত, তাহলে রাত তিনটে পর্যন্ত বিচার প্রক্রিয়া চলতে হতো না। এ ঘটনায় পুলিশের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা এবং আদালতের (Barasat ACJM Court) দীর্ঘসূত্রিতার (Judicial Delay) কারণে মামলার নিষ্পত্তিতে অস্বাভাবিক সময় লেগেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অনেকেই মনে করছেন, এটি শুধুমাত্র একক ঘটনা নয়, বরং পুলিশ প্রশাসনের সাধারণ অব্যবস্থাপনারই (Police Negligence) প্রতিফলন।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুলিশের গাফিলতির কারণে আদালতের কার্যক্রমে দেরি হলে তা শুধুমাত্র একদিনের সমস্যা নয়, বরং পুরো বিচারব্যবস্থার (Judicial System) ওপর চাপ সৃষ্টি করে। এ ধরনের ঘটনাগুলি বিচার ব্যবস্থার কার্যকারিতা (Judicial Efficiency) ও পুলিশের দায়িত্ববোধ নিয়ে প্রশ্ন তোলে।এখন দেখার বিষয়, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক স্তরে (Administrative Level) কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় কিনা। নাকি এটি শুধুমাত্র আরেকটি উদাহরণ হিসেবে থেকে যাবে, যেখানে পুলিশের বিলম্বিত কার্যকলাপের জন্য আদালতের (Barasat ACJM Court) বিচারকদের (Judges) মধ্যরাত পর্যন্ত শুনানি করতে হলো। এই ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করে যে, সময়মতো আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হলে বিচারব্যবস্থা (Justice System) ব্যাহত হতে পারে এবং তাতে সবার জন্যই ভোগান্তির সৃষ্টি হয়। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, যা ভবিষ্যতে আরও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে।