নিউজ পোল ব্যুরো: পর্যটন কেন্দ্র তাজপুর (Tajpur) এখন নতুন বিতর্কের কেন্দ্রে। অভিযোগ উঠেছে, প্রশাসনিক বিধিনিষেধ অগ্রাহ্য করে সমুদ্রের উপরই গড়ে উঠছে বেআইনি হোটেল (Hotel) ও গার্ডওয়াল (Guard Wall)। পরিবেশ আইন ও কোস্টাল রেগুলেশন জোন আইনকে উপেক্ষা করে দিনের আলোয় চলছে এই নির্মাণ। স্থানীয়দের প্রশ্ন, এতদিন ধরে এই অবৈধ কার্যকলাপ কীভাবে চলছিল? কারা রয়েছে এর নেপথ্যে? বিষয়টি নিয়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে গোটা তাজপুর।
আরও পড়ুন: Illegal Arms Smuggling: বেআইনি অস্ত্র সহ গ্রেফতার বিজেপি নেতা
আইন অনুসারে, জোয়ারের জল যেখানে পৌঁছায়, সেখান থেকে অন্তত ২০০ মিটার (200 meters) দূরে নির্মাণকাজ করার নিয়ম। কিন্তু তাজপুরে সেই নিয়ম যেন কোনো বাধাই নয়! সৈকতের ধারেই উঠছে লজ (Lodge) ও হোটেল, যেখানে জোয়ারের ঢেউ এসে আছড়ে পড়ছে তাদের দেওয়ালে। এমনকি, কিছু স্থানে গার্ডওয়াল (Guard Wall) তৈরি করে সমুদ্রের স্বাভাবিক প্রবাহ রুদ্ধ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, সিলামপুর (Silampur), দক্ষিণ পুরুষোত্তমপুর (Dakshin Purushottampur) ও সোনামুই মৌজায় নিচু জলাভূমি ভরাট করে তৈরি হচ্ছে একের পর এক অবৈধ নির্মাণ। অথচ প্রশাসন এতদিন নিরব দর্শকের ভূমিকায় ছিল বলে অভিযোগ তুলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সোমবার, বেআইনি নির্মাণের অভিযোগের ভিত্তিতে মন্দারমণি উপকূল থানা অভিযান চালিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, এতদিন ধরে প্রশাসন কী করছিল? কয়েক মাস ধরে সমুদ্র দখল করে নির্মাণ চললেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি কেন? উল্লেখ্য, মাসখানেক আগেই জাতীয় পরিবেশ আদালত মন্দারমণির ১৪৪টি বেআইনি হোটেল ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিল। যদিও সেই নির্দেশ এখনও কলকাতা হাইকোর্ট -এ বিচারাধীন রয়েছে। তা সত্ত্বেও তাজপুরে নতুন করে বেআইনি নির্মাণ হচ্ছে, যা প্রশাসনের কার্যকারিতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
তাজপুর হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের (Tajpur) সম্পাদক শ্যামল দাস জানিয়েছেন, ‘‘আমরা বারবার প্রশাসনকে জানিয়েছি, কিন্তু কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বেআইনি নির্মাণ দেখার দায়িত্ব আমাদের নয়, সেটা প্রশাসনের কাজ।’’ অন্যদিকে, রামনগর ১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি নিতাইচরণ সার (Nitaicharan Sar) বলেছেন, ‘‘সমুদ্র দখল করে হোটেল ও গার্ডওয়াল তৈরির খবর আমাদের কাছে এসেছে। এসব নির্মাণ পঞ্চায়েতের অনুমোদিত নয়। যারা বেআইনি নির্মাণ করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’
নিউজ পোল বাংলার ফেসবুক পেজের লিঙ্ক: https://www.facebook.com/share/1EA79Afcw5/
অবশেষে, পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক (District Magistrate)পূর্ণেন্দু মাজি (Purnendu Maji) গোটা বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে নীরব থাকার সুযোগ নিয়েই এই বেআইনি নির্মাণ মাথাচাড়া দিয়েছে। পরিবেশবিদদের মতে, এই ধরনের অবৈধ নির্মাণ শুধু আইনি লঙ্ঘন নয়, এটি সমুদ্রের প্রাকৃতিক ভারসাম্যের জন্যও ভয়ঙ্কর হুমকি। গার্ডওয়াল তৈরি করে সমুদ্রের স্বাভাবিক জোয়ার-ভাটা বন্ধ করলে উপকূলীয় পরিবেশে বড় বিপর্যয় আসতে পারে।