নিউজ পোল ব্যুরো: কলকাতার রাজনীতিতে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়েছে। গতকাল সেন্ট্রাল কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে বিজেপি নেতা (BJP Leader) অনুপম ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে বিতর্কিত পোস্টার পড়েছিল। এবার সেই একই ধরণের পোস্টার দক্ষিণ কলকাতার (South Kolkata) পর্ণশ্রী (Parnasree) অঞ্চলে দেখা গেল। রবীন্দ্রনগর (Rabindranagar) বাসস্ট্যান্ডের কাছাকাছি একাধিক জায়গায় এই পোস্টার লাগানো হয়েছে। এতে সরাসরি বিজেপির দক্ষিণ কলকাতা জেলার সভাপতি (district president) এবং সাধারণ সম্পাদকের নাম উল্লেখ করে সাংগঠনিক দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে।
আরও পড়ুন: Ayon Sil: আবেদন খারিজ, জামিন পেলেন না নিয়োগ দুর্নীতিতে অভিযুক্ত অয়ন শীল
বিতর্কিত পোস্টারে লেখা ছিল, “টাকা, গাড়ি, মোবাইল দিন, দক্ষিণ কলকাতায় পদ নিন। যোগাযোগ করুন জেলার সভাপতি এবং জেলার সাধারণ সম্পাদক। এই পোস্টারের মাধ্যমে দাবি করা হয়েছে যে, দক্ষিণ কলকাতায় বিজেপির (BJP Leader) দলীয় পদ পাওয়ার জন্য আর্থিক লেনদেন ও উপহারের বিনিময়ে পদ দেওয়া হচ্ছে। এই পোস্টার প্রকাশ্যে আসার পর বিজেপির অন্দরেই ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধী দলগুলি ইতিমধ্যেই এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দাগতে শুরু করেছে। তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) নেতা-কর্মীরা বলছেন, “এটাই বিজেপির আসল চেহারা। এখানে যোগ্যতার কোনো মূল্য নেই, শুধু টাকা দিলেই পদ পাওয়া যায়।”
তবে বিজেপি নেতৃত্ব এই অভিযোগ সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছে। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি একটি ষড়যন্ত্র এবং দলে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার জন্য কেউ পরিকল্পিতভাবে এই পোস্টার লাগিয়েছে।

এটি প্রথমবার নয়, গতকালই সেন্ট্রাল কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় বিজেপি নেতা অনুপম ভট্টাচার্যের (BJP Leader Anupam Bhattacharya) বিরুদ্ধে একই ধরনের পোস্টার দেখা গিয়েছিল। সেই পোস্টারগুলিতে দলের মধ্যে স্বজনপোষণ ও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হয়েছিল। পরপর দু’দিন ধরে এই ধরনের পোস্টার পড়ায় বিজেপির দক্ষিণ কলকাতা শাখার সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দল স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
নিউজ পোল বাংলার ফেসবুক পেজের লিঙ্ক: https://www.facebook.com/share/1EA79Afcw5/
রাজনৈতিক মহলের মতে, বিজেপির অন্দরেই কোন্দল চরমে উঠেছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনায় দেখা গেছে, রাজ্য বিজেপির বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে মতপার্থক্য বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পোস্টার বিতর্ক সেই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বেরই প্রকাশ বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে, বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্ব এই বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন এবং দোষীদের খুঁজে বের করার জন্য তদন্তের দাবি তুলেছেন। তবে এই বিতর্কের জেরে বিজেপির দক্ষিণ কলকাতা শাখার ভাবমূর্তি যে প্রশ্নের মুখে পড়েছে, তা বলাই বাহুল্য। এই ঘটনার পর বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব কী পদক্ষেপ নেবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।