নিউজ পোল ব্যুরো: রাজ্য রাজনীতিতে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলল পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগরে। এখানে লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) মুখ থুবড়ে পড়লেও, আগামী ২৬ শে বিধানসভার আগে বিজেপি’র (BJP) ঘরে থাবা বসালো তৃনমূল। বৃহস্পতিবার সকালে রামনগর ২ ব্লকের পালধুই গ্রাম পঞ্চায়েতের চারজন বিজেপি প্রতীকে নির্বাচিত পঞ্চায়েত সদস্য, একাধিক বিজেপি নেতা ও ২০টির বেশি পরিবার তৃণমূলে যোগ দিলেন। তাদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন কাঁথি সাংগঠনিক জেলার যুব তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি তথা কাঁথি পুরসভার পুরপ্রধান সুপ্রকাশ গিরি।
আরও পড়ুনঃ Sandeshkhali: মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি রক্ষা, বরাদ্দ ৮ কোটি
এই দলবদলকে সামনে রেখে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে (Suvendu Adhikari) সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন সুপ্রকাশ গিরি। তার দাবি, “শুভেন্দুর গড় বলে কিছু নেই, তিনি নিজেই তার দলকে ধরে রাখতে পারছেন না। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে ৭৭টি আসন পাওয়া বিজেপির বিধায়ক সংখ্যা ক্রমশ কমছে। তার নিজের জেলাতেই তিনি কর্মীদের ধরে রাখতে পারছেন না, এটা তার সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা।” বিজেপির (BJP) দখলে থাকা পালধুই গ্রাম পঞ্চায়েতে এবার সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। সদ্য তৃণমূলে যোগ দেওয়া পঞ্চায়েত সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন মনোজিৎ মান্না, চৈতালি গিরি, সঞ্জয় গারু ও প্রিয়াঙ্ক মাইতি। এছাড়া বিজেপি নেতা গৌতম জানা সহ ২০টির বেশি পরিবার বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছে।

তৃণমূল নেতা সুপ্রকাশ গিরি বলেন, “বিজেপির ভাওতা রাজনীতি মানুষ বুঝে গিয়েছে। তারা শুধু বিভাজনের রাজনীতি করে, কিন্তু বাস্তবে মানুষের জন্য কিছুই করে না। মানুষ উন্নয়ন চায়, আর উন্নয়ন মানেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে (Assembly Election 2026) তৃণমূল বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ফিরবে।” বিজেপি (BJP) ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন সদ্য দলবদল করা নেতা ও পঞ্চায়েত সদস্যরা। মনোজিৎ মান্নার অভিযোগ, “বিজেপি পঞ্চায়েতের ক্ষমতায় থাকলেও কোনও উন্নয়ন হয়নি। গ্রামের পরিকাঠামো ভেঙে পড়েছে, সাধারণ মানুষ পরিষেবা পাচ্ছেন না।
নিউজ পোল ফেসবুক পেজের লিংক: https://www.facebook.com/share/1EA79Afcw5/
এই দলবদলকে গুরুত্ব দিতে নারাজ বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব। কাঁথি সাংগঠনিক জেলার বিজেপি সভাপতি সোমনাথ রায় (Somnath Roy) দাবি করেন, “তৃণমূল নেতারা ভুল বুঝিয়ে আমাদের কর্মীদের নিয়ে গিয়েছে। এলাকায় বিজেপি যথেষ্ট উন্নয়ন করেছে। যারা দল ছেড়েছেন, তারা পরবর্তীতে ফিরে আসবেন।” তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, শীঘ্রই পালধুই গ্রাম পঞ্চায়েতও তাদের দখলে আসবে এবং বিজেপির শক্ত ঘাঁটিগুলো একে একে ভেঙে পড়বে। তবে বিজেপির তরফে এখনও এই দলবদলের প্রতিক্রিয়ায় বিশেষ কোনও কৌশল নেওয়া হয়নি। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে, ততই এই দলবদলের রাজনীতি (Political Defection) তীব্র হবে। রামনগরের এই ঘটনাই তার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন দেখার, বিজেপি কি আদৌ এই ধাক্কা সামলে উঠতে পারে, নাকি আরও বড়সড় ভাঙনের মুখে পড়ে।