নিউজ পোল ব্যুরো: কন্যাশ্রী প্রকল্পের (Kanyashree) আওতায় কিছু ভুয়ো আবেদনপত্র (Fake application form) জমা দেওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে, যা নিয়ে ব্যাপক তদন্ত শুরু হয়েছে। অনেক আবেদনকারী মেয়েরই বিয়ে হয়েছে দুই বা তিন বছর এবং বেশ কিছু মেয়ে এখন মা। সূত্রের খবর, মেয়েগুলি অবিবাহিত থাকার ভান করে কন্যাশ্রী (Kanyashree) প্রকল্পের টাকা নিতে চেয়েছিলেন। ঘটনাটি ঘটেছে হরিশ্চন্দ্রপুর ২ ব্লকের মশালদহ এলাকায়।
বৃহস্পতিবার, হরিশ্চন্দ্রপুর ২ ব্লকের যুগ্ম বিডিও সোনম ওয়াংদি লামা এবং তাঁর দল জগন্নাথপুর উচ্চ মাদ্রাসায় কন্যাশ্রী (Kanyashree) প্রকল্পের আবেদনপত্র পরীক্ষা করেন। তারা তালগাছি ও কারকরিয়া গ্রামে গিয়ে আবেদনকারীদের বাড়িতে গিয়ে তথ্য (Information) যাচাই করেন এবং সেখানে একাধিক ভুয়ো আবেদনপত্র (Fake application form) খুঁজে পান। বিডিও আবেদনের তথ্য যাচাইয়ের পর সেগুলি বাতিল করে দেন।
আরও পড়ুন:TMC: অভিষেকের কাছে নালিশ, বিস্ফোরক অভিযোগ তৃণমূল ব্লক সভাপতির
রাজ্য সরকার ‘কন্যাশ্রী প্রকল্প’ চালু করেছে যাতে ১৩ থেকে ১৮ বছরের অবিবাহিত মেয়েরা তাদের পড়াশোনার জন্য প্রতি বছর ১০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা (Financial assistance) পায় এবং ১৮ বছর পর অবিবাহিত থাকলে এককালীন ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়। কিন্তু কিছু মেয়ে বিয়ে করে অবিবাহিত থাকার ভান করে এই টাকা পাওয়ার জন্য আবেদন করে যা তাদের পরিবার স্বীকার করেছে।
নিউজ পোল বাংলা ফেসবুক পেজের লিঙ্ক:https://www.facebook.com/share/1XhiZuM5DK/
অভিযোগ, কিছু পঞ্চায়েত এবং ব্লক কর্মী এই প্রকল্পের টাকা পাওয়ার জন্য মানুষের কাছে ২০-২৫ হাজার টাকা চুরি করে। এর মধ্যে ব্লকের এক কর্মী জড়িত ছিল এবং ফিল্ড ভেরিফিকেশনে গিয়ে টাকা সংগ্রহ করে মিথ্যে রিপোর্ট (Report) জমা দিয়েছেন। বিডিও তাপস কুমার পাল জানিয়েছেন, অভিযুক্ত কর্মীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে জগন্নাথপুর উচ্চ মাদ্রাসার এক ছাত্রী সুকতারা খাতুনের খালা বেদারা খাতুন জানিয়েছেন, তার ভাগ্নি তিন বছর আগে বিয়ে করেছেন এবং দুই বছরের একটি সন্তান রয়েছে। তিনি কন্যাশ্রী প্রকল্পে আবেদন করেছিলেন। কিছুদিন আগে, ব্লক ও পঞ্চায়েত কর্মীরা তাঁদের কাছে এসে টাকা নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ৫ হাজার টাকা দাবি করেন। তারা ৩ হাজার টাকা দিয়েছেন।
সাবনাজ খাতুন নামে এক ছাত্রীর অভিযোগ, তিনি দুই বছর আগে বিয়ে করেছেন এবং এখন বাবার বাড়িতে থাকেন। তিনি কন্যাশ্রী প্রকল্পের জন্য আবেদন করতে গিয়ে দুই ব্যক্তির কাছ থেকে ৩৫০০ টাকা দিয়েছিলেন।
মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মহম্মদ সাহাবুদ্দিন জানিয়েছেন, পঞ্চায়েত থেকে অবিবাহিত সার্টিফিকেট নিয়ে কন্যাশ্রী প্রকল্পে আবেদন করা হয় এবং স্কুল কর্তৃপক্ষ সব নথি রাজ্য সরকারের পোর্টালে আপলোড করে। তবে বিয়ের পর কিছু আবেদন বাতিল করা হয়েছে এবং তদন্ত প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
বিডিও সোনম ওয়াংদি লামা জানিয়েছেন, তিনি ১৬টি কন্যাশ্রী আবেদনপত্রের তথ্য পরীক্ষা করেছেন, যার মধ্যে ১৪টি ভুয়ো ছিল। একটি ব্লক কর্মীর বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।