নিউজ পোল ব্যুরো: লেকটাউন দক্ষিণদাঁড়ি (Lake Town Dakshindari) এলাকা শুক্রবার এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনার সাক্ষী থাকল। এদিন সকাল ৭টা নাগাদ রেল ব্রিজ (rail bridge) থেকে ঝাঁপ দিয়ে এক মহিলার মৃত্যু হয়েছে(Rail Accident)। পুলিশ সূত্রে খবর, মৃতার নাম সুষমা প্রসাদ (Sushma Prasad)। তার বাড়ি নেহেরু কলোনি (Nehru Colony) এলাকায়।
আরও পড়ুন:- Space Station: স্পেস স্টেশন তৈরি হচ্ছে কলকাতায়! জানতে হলে বিস্তারিত পড়ুন
সূত্রের খবর, শুক্রবার সকালে সুষমা প্রসাদ ও তার স্বামী উল্টোডাঙা (Ultadanga) থেকে ট্রেনে আসেন। এরপর তারা রেললাইন ধরে দক্ষিণদাঁড়ির দিকে হাঁটছিলেন। ঠিক সেই সময় দক্ষিণদাঁড়ি পাঁচ নম্বর ব্রিজ (Dakshindari Bridge No. 5) সংলগ্ন এলাকায় হঠাৎ ট্রেন চলে আসে। ট্রেনের হর্ন (train horn) শুনে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন বছর আটত্রিশের মহিলা। তিনি ভেবে বসেন যে, এক নম্বর লাইনে ট্রেন ঢুকে পড়েছে। প্রাণ বাঁচানোর জন্য তিনি ব্রিজের ফাঁকা অংশ দিয়ে নিচে লাফ দেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তিনি ট্রেনের নীচে চলে যান। ঘটনার পর স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। লেকটাউন থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। মহিলাকে রক্তাক্ত অবস্থায় (Rail Accident) উদ্ধার করে আরজি কর হাসপাতালে (RG Kar Hospital) নিয়ে যাওয়া হয়। তবে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

নিউজ পোল বাংলা ফেসবুক পেজের লিঙ্ক:- https://www.facebook.com/share/164mWXbsyp/
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ট্রেনটি দুই নম্বর লাইনে ছিল, কিন্তু হর্ন বাজানোর ফলে ভুল বোঝাবুঝি হয়। আতঙ্কিত হয়ে মহিলা ব্রিজ থেকে ঝাঁপ দেন, যার ফল মারাত্মক হয়। জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনার (Railway Accident) সময় মহিলার সঙ্গে ছিলেন তার স্বামী। হাঁটার গতি কিছুটা ধীর থাকায় তিনি কিছুটা পিছিয়ে পড়েছিলেন, আর ততক্ষণে তার স্ত্রী উঠে পড়েছিলেন রেলব্রিজে। ঠিক সেই মুহূর্তেই ঘটে দুর্ঘটনাটি। যদিও রেলের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
প্রসঙ্গত, সুষমাদেবী একা নন, প্রতিদিন বহু মানুষ সময় বাঁচানোর জন্য এই বিপজ্জনক রেলব্রিজের পথ ধরেন। কিন্তু এই পথ পাড়ি দিতে গিয়ে প্রতিনিয়ত জীবন হাতে নিয়ে চলতে হয় তাদের। সামান্য অসাবধানতা বা সময়ের ভুলচুক হলেই ঘটে যেতে পারে বড় কোনও দুর্ঘটনা। এই পরিস্থিতিতে, দক্ষিণদাঁড়ি রেলব্রিজে সাধারণ মানুষের অবাধ চলাচল বন্ধ করতে কড়া পদক্ষেপের দাবি তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের মতে, প্রতিদিন এত মানুষের জীবন ঝুঁকির মধ্যে থাকা সত্ত্বেও উপযুক্ত বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। দ্রুত যদি কোনও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয়, তবে আরও প্রাণহানির আশঙ্কা থেকে যাবে বলে মনে করছেন সকলে।