Mumbai Indians : পেশাদারিত্বকে ছাপিয়ে আবেগের বাষ্পে ভরপুর ‘মুম্বই পল্টন’

আইপিএল ক্রিকেট ক্রীড়া

বিশ্বদীপ ব্যানার্জি: মহেন্দ্র সিং ধোনি (MS Dhoni) আর চেন্নাই সুপার কিংসের (Chennai Super Kings) অধিনায়ক নন। কিন্তু দলটার সর্বাধিনায়ক তিনিই। তিনি ক্যাপ্টেন নন তো কী হয়েছে? লিডার তিনিই। অধিনায়ক রুতুরাজ গাইকোয়াড়ের (Ruturaj Gaikwad) পথ প্রদর্শক তিনিই। কিন্তু গত আইপিএলে (IPL 2024) হার্দিক পাণ্ডিয়ার (Hardik Pandya) মুম্বই ইন্ডিয়ান্সে (Mumbai Indians) ৫টি ট্রফি জয়ী রোহিত শর্মা (Rohit Sharma) মোটেই ছিলেন না পথ প্রদর্শক। লিডার বা সর্বাধিনায়ক তো ছিলেনই না। সেসবই স্বয়ং অধিনায়ক হার্দিক পাণ্ডিয়া।

আরও পড়ুনঃ KKR vs RCB: কলকাতার বুকে আরসিবি থুড়ি ‘কোহলি’ ঝড়

এমনি এমনি তো আর মুকেশ আম্বানি (Mukesh Ambani) ভারতবর্ষের সবথেকে ধনী ব্যক্তি নন। তাঁর দলে আবেগের কোনও জায়গা থাকবে না, সেটাই স্বাভাবিক। পুরোটাই পেশাদারিত্ব। তবে পেশাদারিত্বে অভিজ্ঞতারও একটা প্রয়োজন আছে। ২০২৪ -এর আইপিএল চলাকালীন একবারও মনে হয়নি যে ৫ বারের ট্রফিজয়ী অধিনায়কের অভিজ্ঞতাকে খুব একটা কাজে লাগিয়েছেন পাণ্ডিয়া। বরং রোহিতকে তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে বাউন্ডারি লাইনে ফিল্ডিং করতে পাঠানোর অভিযোগ পর্যন্ত রয়েছে পাণ্ডিয়ার নামে।

২০২৪ আর ২০২৫ এর মধ্যে ফারাকটা আকাশ-পাতাল বললেও যেন কম বলা হয়। ট্রফির বিচারে এই মুহূর্তে ভারতের দ্বিতীয় সফলতম অধিনায়ক রোহিত শর্মা। মজার বিষয়, তিনি ভারত অধিনায়ক হিসেবে যে দুটি আইসিসি ট্রফি জিতেছেন, দুটিই এসেছে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স (Mumbai Indians) কর্তৃপক্ষ তাঁকে আইপিএলে নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর। মাত্র ৯ মাসের ব্যবধানে ভারত অধিনায়ক রোহিতের জোড়া সাফল্য তাঁর হাত থেকে মুম্বই পল্টনের ব্যাটন ছিনিয়ে নেওয়া মুকেশ আম্বানির ফ্র্যাঞ্চাইজির উদ্দেশ্যে যোগ্য জবাব বা কোনও রকম বার্তা কি না তা অবশ্য অন্য প্রসঙ্গ। তবে আইপিএলের ঢাকে কাঠি যখন পড়েই গিয়েছে তখন প্রেস কনফারেন্সে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ফেলে আসা ভুলো মনের হিটম্যানের মাথায়ও আসবে না দু-একটি বিষয়?

এক বছরেরও কম ব্যবধানে দেশকে পরপর দুটি আইসিসি ট্রফিতে চ্যাম্পিয়ন করা অধিনায়কের এবারেও ভারতীয় ক্রিকেটের মহোৎসবের মঞ্চে অধিনায়ক নন। খেলবেন একজন সাধারণ ক্রিকেটার হিসেবেই। আর খেলবেন সেই হার্দিক পাণ্ডিয়ার নেতৃত্বে। যাঁর নিজেরও গত এক বছরের সময়টা একটা উপন্যাসের থেকে কম কিছু নয়। একদিকে যেমন ব্যক্তিগত জীবনে আচমকাই বিনা মেঘে বজ্রপাত, অন্যদিকে রোহিতের আসনে বসে পড়ায় রাতারাতি গোটা দেশের চোখে ‘ভিলেন’ বনে যাওয়া। গত মরশুমে হার্দিকের একাধিক হঠকারী সিদ্ধান্তে দল যখন ডুবছে, ঘরের মাঠে দর্শকদের বিদ্রূপ বাণে মুহুর্মুহু বিদ্ধ হতে হয়েছে তাঁকে। শেষ পর্যন্ত এমন অবস্থা হয় যে হার্দিকের হয়ে স্বয়ং রোহিতকেই হাতজোড় করতে হয় অনুরাগীদের কাছে। আবার সেই হার্দিকই রোহিতের জোড়া আইসিসি ট্রফি জয়ের অন্যতম কারিগর। ২৯ জুন তাঁর শেষ ছটা বলই নিশ্চিত করেছিল ভারতের বিশ্বজয়।

নিউজ পোল বাংলা ফেসবুক পেজের লিংক: https://www.facebook.com/share/1EA79Afcw5/

আগামী দু’মাস পর ফের রোহিতের নেতৃত্বেই খেলবেন হার্দিক। অবশ্য রবিবার চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে মরশুমের প্রথম ম্যাচে তিনি থাকছেন না। কিন্তু যিনি মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের (Mumbai Indians) হয়ে টস করতে নামবেন সেই সূর্য কুমার যাদবই (Surya Kumar Yadav) বা কম কীসে? গত ২৯ জুন তাঁর অবিশ্বাস্য ক্যাচই তো অধিনায়ক রোহিতকে এনে দিয়েছিল প্রথম আইসিসি শিরোপা। উল্টোদিকে রোহিতের অবসর ঘোষণায় যে মানুষটিকে গো হারা হারিয়ে সূর্য কুমার ভারতের টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক হয়েছেন তাঁর নাম হার্দিক পাণ্ডিয়া। সবমিলিয়ে এবারের আইপিএল (IPL 2025) যেন এক অভূতপূর্ব মাহেন্দ্রক্ষণ। মুকেশ আম্বানি কি খোঁজ রাখেন যে, তাঁর আবেগহীন দলের অন্দরমহলে কতটা আবেগের বাষ্প জমাট বেঁধেছে?