বিশ্বদীপ ব্যানার্জি: ২৩! অভিশপ্ত ২৩! কী হল? এটুকু দেখেই হকচকিয়ে গেলেন তো? নিশ্চিতভাবেই মনে প্রশ্ন জাগছে, একটা ক্রিকেটীয় লেখার শুরুতে এমন ভুতুড়েমার্কা একটা উপমা কেন? হ্যাঁ, ভুতুড়েমার্কাই বটে। লেখকরা ভূতের গল্প লিখতে গিয়েই এমন ধরণের নামকরণ করে থাকেন। আর এই উপমাটিও অনুপ্রাণিত আধুনিক ভৌতিক সাহিত্যের অন্যতম কুশীলব মানবেন্দ্র পালের একটি ভৌতিক উপন্যাস থেকেই। ‘অভিশপ্ত ৩৭’ এই উপন্যাসের নাম। আসলে, আজকের এই ২৩ মার্চ দিনটিই (On This Day) যে সচিন-সৌরভ-রাহুলদের কাছে যে কোনও হরর স্টোরির চাইতে বেশি বৈ কম কিছু নয়। শুধুমাত্র এ নিয়েই হয়ত একটা টানটান সাইকো-থ্রিলার লিখে ফেলা যায়।
আরও পড়ুনঃ Mumbai Indians : পেশাদারিত্বকে ছাপিয়ে আবেগের বাষ্পে ভরপুর ‘মুম্বই পল্টন’
অবশ্য ২৩ সংখ্যাটি যে ভারতীয় ক্রিকেটের (Indian Cricket) সর্বত্রই কালো হরফে লেখা, তা মোটেই নয়। রোহিত শর্মার (Rohit Sharma) নেতৃত্বে সদ্য তৃতীয়বারের মত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি (Champions Trophy) জিতে নিয়েছে টিম ইন্ডিয়া। এর আগে ২০১৩ সালে মহেন্দ্র সিংহ ধোনির (MS Dhoni) নেতৃত্বে ভারতের দ্বিতীয় ২০১৩ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়, সে তো জুন মাসের এই ২৩ তম দিনেই। সুতরাং, তেইশমাত্রেই তেপান্তরের মাঠ নহে। কিন্তু কিন্তু কিন্তু… হ্যাঁ একাধিক কিন্তু সহযোগেই বলে ফেলতে হচ্ছে যে, সংখ্যাটির পাশে একবার শুধু ‘মার্চ’ শব্দটি বসিয়ে দিলেই আর নিস্তার নেই। নিমেষের মধ্যেই সেই মন ভারাক্রান্ত করে দেওয়া প্রশ্নটা উঠে আসা তখন একেবারেই অবধারিত। বিষণ্ণ চিত্ত আর ছলছলে চোখ ছাড়া আসমুদ্র হিমাচলকে উপহারস্বরূপ আর ঠিক কিই বা দিতে পেরেছে এই ২৩ শে মার্চ?
এতক্ষণ ধরে এই যে ভণিতা করা হল, যাঁরা একটু আধটু ক্রিকেটের খবর রাখেন, তাঁরা যা বোঝার এতক্ষণে বুঝেই গিয়েছেন। সমঝদারো কে লিয়ে ইশারাই কাফি। তবে যারা নবীন, তাদের ধোঁয়াশাটা হয়ত এখনও কাটেনি। ভাবছে, ২৩ মার্চ! সে আবার অভিশপ্ত হতে যাবে কোন দুঃখে? আর তাছাড়া, সদ্য একদিন আগেই শুরু হয়েছে এ বছরের আইপিএল। আর আজকের এই ২৩ মার্চের সন্ধ্যাতেই (On This Day) তো আরও একবার আইপিএল ইতিহাসে সবথেকে হাইভোল্টেজ দ্বৈরথের সাক্ষী থাকতে চলেছে ক্রিকেট দুনিয়া। চিপকে মুখোমুখি হতে চলেছে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স এবং চেন্নাই সুপার কিংস!

অগত্যা টাইম মেশিনে সেট করতেই হচ্ছে অতীতের দুই বহুল চর্চিত তারিখ। ভারতীয় ক্রিকেটের ‘ব্ল্যাক লেটার ডেজ’ বলার পরেও যাদের জন্য ফের বিশেষণ খুঁজতে ছুটতে হয়। ২৩ মার্চ, ২০০৩ এবং ২৩ মার্চ, ২০০৭। পুরোপুরি ৪টি বছরের ব্যবধানে বিশ্বের দুই প্রান্ত— দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গ এবং ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগোর পোর্ট অব স্পেন। বিশ্বকাপের মঞ্চে ভিন্ন দুই মহানায়কের দেখানো অভিন্ন একটি স্বপ্নের অপমৃত্যুর সাক্ষী থেকেছিল ভারতীয় ক্রিকেট। সৌরভ চন্ডীদাস গঙ্গোপাধ্যায় (Sourav Ganguly) এবং রাহুল শরদ দ্রাবিড় (Rahul Dravid)।
হ্যাঁ, পরিসংখ্যান অবশ্য সৌরভকে দ্রাবিড়ের চাইতে বেশ কয়েক কদমই এগিয়ে রাখবে। সেটাই স্বাভাবিক। একেবারে চরম আনকোরা সৈন্যবাহিনী নিয়েও বাংলার মহারাজ যেখানে কুরুক্ষেত্রটা প্রায় জিতেই নিয়েছিলেন, সেখানে প্রায় তৈরী দল হাতে পাওয়া সত্ত্বেও গ্রুপ লিগের গন্ডিটা পর্যন্ত টপকাতে পারেননি মিস্টার ডিপেন্ডেবল।
নিউজ পোল বাংলা ফেসবুক পেজের লিংক:
https://www.facebook.com/share/1EA79Afcw5/
কিন্তু তাতে কী? ২৩ -এর এজলাসে যে দুজনের জন্যই যে সমান বিচার বরাদ্দ। দুজনেই সমান অভাগা। তাই তো, সমস্ত সীমারেখাই মুছে যায় পন্টিং-গিলক্রিস্ট-ম্যাকগ্রা সম্বলিত অপ্রতিরোধ্য অজি ব্রিগেড এবং জয়সূর্য-সাঙ্গাকারা-চামারা সিলভাদের শ্রীলঙ্কার মাঝে। ২৫৫ -এর লক্ষ্যমাত্রাকেও মনে হয় ৩৬০ -এর মতই দুর্ভেদ্য।
ফলতঃ আজ যথাক্রমে ২২ এবং ১৮ বছর পরেও দিনটা (On This Day) অভিশাপের আরেক নাম। আবার এখন তো ১৯-ও লেজুড় হয়েছে ২৩ -এর। ২৩ মার্চ আর ১৯ নভেম্বর এখন দুই মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ। তবে নবীনদের কথা হচ্ছিল। একদিক থেকে দেখতে গেলে এটা অবশ্যই তাদের সৌভাগ্য যে ২৩ -এর গেরোয় পড়তে হয়নি। আইপিএলের উন্মাদনা তাদের ভুলিয়ে দিয়েছে ২৩ মার্চের যন্ত্রণা। কিন্তু বাকিদের? একই দিনে একটা বিশ্বজয়ও ভোলাতে পারবে কি?