নিউজ পোল ব্যুরো: অরেঞ্জ আর্মি (Orange Army) এল, দেখল এবং হত্যালীলা চালালো — শুরুটা এভাবে করলে ভুল হবে না বোধহয় একেবারেই। কারণ সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ (Sunrisers Hyderabad) গতবার ঠিক যেখানে শেষ করেছিল সেখান থেকেই শুরু করল রবিবার (SRH vs RR)। মাঝে যেন শুধু কেকেআরের (KKR) সঙ্গে গত মরশুমের ফাইনালটা (IPL 2024 Final) ছিল অঘটন! এদিন দুপুরেও ঘরের মাঠে বিধ্বংসী মেজাজে পিঙ্ক আর্মিদের (Rajast Royals) ৪৪ রানে গুড়িয়ে দিল তারা। দুরন্ত শতরানে ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টকে (Indian Team Management) কড়া বার্তা দিয়ে রাখলেন ‘অবাধ্য’ ইশান কিষাণ (Ishan Kishan)।
আরও পড়ুন: On This Day: ২৩ মার্চ এবং একটি অভিশাপ
টস (SRH vs RR) জিতে হায়দ্রাবাদকে আগে ব্যাট করতে পাঠিয়েছিলেন রাজস্থানের অন্তর্বর্তীকালীন অধিনায়ক রিয়ান পরাগ। প্রথমে ব্যাট করে ৩০০ রানের যতটা সম্ভব কাছাকাছি তুলে বিপক্ষের মনোবল মাটিতে মিশিয়ে দাও একেবারে এই নীতি নিয়েই খেলতে নামে প্যাট কামিন্সের দল। এদিনও যার অন্যথা হল না। অভিষেক শর্মা বড় রান (১১ বলে ২৪) না করতে পারলেও অজি ওপেনার ট্র্যাভিস হেড যথেষ্ট মাথাব্যথা দিলেন ফারুকী-থিকসানাদের। ৩১ বলে ৬৭ রান করেন হেড। সংগ্রহে নটি ৪ এবং তিনটি ৬।

গত মরশুমে তিনবার ২৫০ রান পার করেছিল হায়দ্রাবাদ আর মোট ছ’বার দুশো রান। রবিবারও (SRH vs RR) ২৮৬ রান তুলল তারা। টি-২০ ক্রিকেটের ইতিহাসে সবথেকে বেশিবার ২৫০ -এর বেশী স্কোরের রেকর্ড এখন তাদের দখলে। শুরু থেকেই চালিয়ে খেলেন অরেঞ্জ আর্মির ব্যাটাররা। উইকেট পড়লেও থেমে থাকেন না। এদিনও পাওয়ার প্লেতে এল এক উইকেট হারিয়ে ৯৪ রান। অভিষেক শর্মা ফিরে যাওয়ার পর ক্রিজে আসেন ইশান কিষাণ। বোর্ডের চুক্তি থেকে বাদ পড়েছেন বছর দুয়েক হল। নির্বাচকদের খাতায় তিনি ‘অবাধ্য।‘ ২০২৩ সালে অসাধারণ পারফরম্যান্সের সুবাদে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে ভারতীয় টেস্ট দলে জায়গা করে নিয়েছিলেন। কিন্তু প্রথম একাদশে সুযোগ না পাওয়ায় ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে ছুটি নেন তিনি। কিন্তু দেশে না ফিরে দুবাইয়ে এক অনুষ্ঠানে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। এখান থেকেই শুরু। কেন তিনি দেশে ফিরে ঘরোয়া ক্রিকেটে যোগ দেননি এই অভিযোগে বোর্ডের চুক্তি থেকে বাদ পড়েন ঝাড়খণ্ডের উইকেট রক্ষক ব্যাটসম্যান। তারপর থেকে রাহুল দ্রাবিড় জমানায় শেষ হয়ে গুরু গম্ভীরের জমানা শুরু হলেও জাতীয় দলের দরজা খোলেনি কিষাণের কাছে।

গত আইপিএলটাও ভাল যায়নি কিষাণের। মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে ১৪ ম্যাচে ৩২০ রান করেছিলেন তিনি। মাত্র একটি অর্ধ-শতরান এসেছিল তাঁর ব্যাট থেকে। চলতি মরশুমে তাঁকে দলে ধরেও রাখেনি নীতা আম্বানির দল। রবিবার (SRH vs RR) এসবকিছুরই যেন জবাব দিল তাঁর ব্যাট। ১৮তম আইপিএলের প্রথম শতরানকারী হিসেবে রেকর্ড বুকে নাম লেখালেন ‘অভিমানী’ কিষাণ। ৪৭ বলে ১০৬ রানের অপরাজিত ইনিংসটি সাজালেন ১১টি বাউন্ডারি এবং ৬টি ওভার বাউন্ডারি দিয়ে। তবে হায়দ্রাবাদের দলীয় রীতি মেনে যেই এলেন হাত খুলে খেললেন। তা সে নীতিশ রেড্ডি (১৫ বলে ৩০) হোক বা হেনরিক ক্লাসেন (১৪ বলে ৩৪)। এমনকি অভিষেকে নজর কাড়লেন মধ্যপ্রদেশের তরুণ ব্যাটার অনিকেত ভার্মাও (৩ বলে ৭)। সকলে মিলে ৬ উইকেট হারিয়ে ২৮৬ রান তুললেন বোর্ডে। যা আইপিএলের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ টোটাল। প্রথমে রয়েছে গতবছর আরসিবির বিরুদ্ধে করা তাদেরই ২৮৭/৩। রাজস্থানের হয়ে লজ্জার রেকর্ড গড়লেন ইংলিশ পেসার জোফ্রা আর্চার। আইপিএলে সবথেকে বেশি রান দেওয়ার নজির গড়লেন তিনি। চার ওভারে খরচ করলেন ৭৬ রান। উইকেটের ভাঁড়ার শূণ্য। রয়্যালসদের হয়ে তিন উইকেট নেন তুষার দেশপান্ডে এবং দুই উইকেট নেন থিকসানা।

২৮৭ রান (SRH vs RR) তাড়া করে জিততে পারলে ইতিহাস গড়তে পারতেন সঞ্জু স্যামসনরা। কিন্তু যা মুখের কথা ছিল না। দ্বিতীয় ওভারেই যশস্বী জয়সওয়াল (১) এবং অধিনায়ক রিয়ান পরাগকে (৪) ফিরিয়ে দেন চেন্নাই থেকে আসা সিমরজিৎ সিং। ব্যর্থ হন কেকেআর থেকে আসা নীতিশ রানাও (১১)। সঞ্জু স্যামসন এবং উইকেট রক্ষক ধ্রুব জুরেল মিলে ১১১ রানের জুটি গড়ে খানিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করলেও তা জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না কখনই। শেষের দিকে শিমরন হেটমায়ার (২৩ বলে ৪২) এবং নবাগত শুভম দুবে (১১ বলে ৩৪ অপরাজিত) চালিয়ে খেলে দলের স্কোর ২৪২ -এ পৌঁছান। হায়দ্রাবাদ জয়ী হয় ৪৪ রানে। দলের হয়ে দুটি করে উইকেট নেন সিমরজিৎ সিং এবং হর্ষল প্যাটেল। একটি করে উইকেট পেয়েছেন মহম্মদ শামি এবং অ্যাডাম জাম্পা। সবমিলিয়ে আইপিএল ২০২৫ পেয়ে গেল তার প্রথম সেঞ্চুরিয়নকে এবং প্রথম ডবল হেডার ডে’র প্রথম ম্যাচেই রবিবাসরীয় দুপুর জমিয়ে দিল অরেঞ্জ আর্মি।

অন্যদিকে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ডবল হেডারের দ্বিতীয় ম্যাচে আইপিএলের ‘এল ক্লাসিকো’ ‘র মঞ্চে চেন্নাই সুপার কিংসের ঘরের মাঠে ১৩ ওভারে ৯৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। একের পর এক ব্যর্থ রোহিত-সূর্যরা। বছর কুড়ির আফগান লেফ্ট আর্ম রিস্ট স্পিনার নুর আহমেদের ঘূর্ণিতে নাজেহাল পল্টন বাহিনী। ৩ উইকেট নিয়েছেন তিনি। ২ উইকেট নিয়ে শুরুতেই আঘাত হানেন বাঁহাতি পেসার খলিল আহমেদ।
নিউজ পোল বাংলা ফেসবুক পেজের লিংক: https://www.facebook.com/share/1EA79Afcw5/
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ ২৮৬/৬ (২০)
ইশান কিষাণ ১০৬(৪৭)*, ট্র্যাভিস হেড ৬৭(৩১)
তুষার দেশপান্ডে ৩/৪৪(৪), মাহিশ থিকসানা ২/৫২(৪)
রাজস্থান রয়্যালস ২৪২/৬ (২০)
ধ্রুব জুরেল ৭০(৩৫), সঞ্জু স্যামসন ৬৬(৩৭)
হর্ষল প্যাটেল ২/৩৪(৪), সিমরজিৎ সিং ২/৪৬(৩)