বিশ্বদীপ ব্যানার্জি: একটা বাচ্চাকে ছোট থেকেই একটু একটু করে সাবলম্বী করে তুলতে হয়। প্রথমে তাকে বাজার-হাটে পাঠানো। তারপর ইলেকট্রিক বিল জমা দিতে শেখানো। ব্যাঙ্ক থেকে টাকা তুলতে শেখানো ইত্যাদি ইত্যাদি। এভাবেই একটু একটু করে একজন অভিভাবক তাঁর বাচ্চাকে স্বাবলম্বী করে তোলেন। কিন্তু কিছু কিছু অভিভাবক থাকেন তারা ভয় থেকেই হোক বা অন্য কোনও কারণে বাচ্চাকে দিয়ে কোনো কাজ করান না। যার জেরে বাচ্চাও স্বাবলম্বী হতে পারে না। পরিণাম দেখা যায় তখন যখন উক্ত অভিভাবক চোখ বোজেন। স্বাবলম্বী হতে না পারা তাঁর সন্তান তখন অথৈ জলে পড়ে। মহেন্দ্র সিং ধোনিকে (MS Dhoni) কি সেই শ্রেণীর অভিভাবকের মধ্যে ফেলা যায়?
আরও পড়ুনঃ On This Day: ২৩ মার্চ এবং একটি অভিশাপ
নাঃ ধোনিকে (MS Dhoni) অবশ্য আর পাঁচজন এই জাতীয় অভিভাবকের মত দোষী সাব্যস্ত করা যায় না। কারণ, এমনটা মোটেই নয় যে ধোনি ইচ্ছাকৃতভাবে বাচ্চাদের সাবালক হতে দেন না। আসলে অভিভাবক হিসেবে নিজেকে এমনই এক উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছেন যে বাচ্চা নিজে থেকেই সাবালক হওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। মনে করে, মাথার উপর তো এমন একজন হোতা আছেন। তাহলে আমি আর বেকার চাপ নিয়ে মরি কেন? ২০২২ সালে যেমনটা দেখা গিয়েছিল রবীন্দ্র জাদেজার সঙ্গে। আর গত মরশুমে রুতুরাজ গাইকোয়াড়ের সঙ্গেও। রবিবারের চিপকে যদিও রুতুরাজের নেতৃত্বে ততটাও আড়ষ্টতা চোখে পড়েনি। থালার ছাতার নিচে থেকেও বোলিং চেঞ্জ, ফিল্ড প্লেসমেন্ট সবই করলেন ঠিক ঠিক সময়ে। আসলে এটাও তো ঠিক যে মেঘে মেঘে তাঁরও বেলা নেহাত কম হল না। তাই সাবলীল নেতৃত্বের পর ব্যাট হাতেও তুললেন ঝড় (২৬ বলে ৫৩)। এছাড়া ওপেন করতে আসা রচিন রবীন্দ্রও শেষপর্যন্ত অপরাজিত রয়ে গেলেন ৬৫ রানে।

তবু সবাইকে ছাপিয়ে রবিবাসরীয় চিপকের সমস্ত স্পটলাইটটুকু ছিনিয়ে নিলেন ওই বছর ৪৩ -এর বৃদ্ধই। ভাবা যায়, রবীন্দ্র জাদেজা চেন্নাই সুপার কিংসেরই (Chennai Super Kings) প্রতিনিধি। এদিকে তিনি যখন আউট হয়ে ফিরছেন, উল্লাসে ফেটে পড়ছে গোটা চিপক! জয়ের জন্য তখনও কিন্তু বাকি ৪। গ্যালারিজুড়ে হলুদ সমুদ্র বারবার চোখে পড়া সত্ত্বেও গুলিয়ে যাচ্ছিল, খেলাটা সত্যি সত্যিই চিপকে হচ্ছে নাকি ওয়াংখেড়েতে! যদিও দৃশ্যপট একেবারেই নতুন নয়। বছর বছর সেই তো একই চিত্রনাট্যের সাক্ষী থাকছে ক্রিকেট দুনিয়া। এমনকি এদিনও মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের (Mumbai Indians) নয়া আবিষ্কার বিঘ্নেশ পুথুরের (৩/৩২) স্পিন ভেলকিতে যখন একে একে মুখ থুবড়ে পড়লেন নেতা রুতুরাজ, শিবম দুবে এবং দীপক হুদা; প্রতিবারই আশায় বুক বেঁধেছে চিপক। শুধুমাত্র প্রিয় থালাকে একটিবার দেখার আশায়।

নিউজ পোল বাংলা ফেসবুক পেজের লিংক:
https://www.facebook.com/share/1EA79Afcw5/
আশা শেষমেষ পূরণ হল ১৯ তম ওভারের তৃতীয় বলে। যদিও মাহির (MS Dhoni) ব্যাট থেকে এল না কোনও রান। তবে অপরাজিত থেকে গেলেন দুটি বল খেলে। তার আগে অবশ্য নূর আহমেদের বলে সূর্য কুমার যাদবকে স্টাম্পড করে দেখিয়ে দিয়েছেন আজও তিনি বিদ্যুতের মতই ক্ষিপ্র। দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানো আর কি! যেগুলি না হলে কিছুটা যেন অবিচারই করা হত দর্শকদের সঙ্গে।