নিউজ পোল ব্যুরো: প্রবল শিলা বৃষ্টির তাণ্ডবে বিপর্যস্ত ঝাড়গ্রামের (Jhargram) বেশ কয়েকটি গ্রাম। রবিবার রাতে হঠাৎ শুরু হয় শিলাবৃষ্টির। আর তার জেরে পায়রাগুড়ি, পাথরপদা, পেটবিন্দী সহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে চাষের এবং বহু কাঁচা বাড়ির (Mud Houses) কাঠামো ভেঙে পড়ে। শিলার আঘাতে মাঠভর্তি ফসল (Crops) নষ্ট হয়ে গেছে, যা দেখে দিশেহারা কৃষকেরা (Farmers)। এমন অবস্থায় প্রশাসনের (Administration) হস্তক্ষেপ এবং উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের (Compensation) দাবিতে সোমবার সকাল থেকেই চন্দ্রী রাজ্য সড়ক অবরোধ (Road Blockade) করেন এলাকার বাসিন্দারা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হঠাৎ করেই ঝোড়ো হাওয়ার (Storm) সঙ্গে প্রবল শিলাবৃষ্টি শুরু হয়। বিশাল আকারের শিলার আঘাতে (Hailstorm Damage) মাঠে দাঁড়িয়ে থাকা ধান, আলু, সরষে সহ একাধিক ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কিছু জমির ফসল মাটির সাথে মিশে গেছে, আবার কিছু গাছ ভেঙে পড়েছে। কৃষকদের মতে, এত বড় ক্ষতি সামাল দেওয়া তাঁদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব। শুধু চাষ জমিই নয়, এই শিলাবৃষ্টির কারণে বহু মাটির বাড়ির ছাউনি (Thatched Roofs) ভেঙে পড়েছে, দেওয়ালে ফাটল ধরেছে, কোথাও আবার ঘর পুরোপুরি ভেঙে গেছে। বহু মানুষ এখন ভাঙা বাড়ির নিচে আশ্রয় নিয়ে আছেন, অনেকে আবার খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছেন।
আরও পড়ুন:http://Suvendu Adhikari: দিলীপ ঘোষকে পূর্ণ সমর্থন শুভেন্দুর

সোমবার সকালে এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক এবং সাধারণ বাসিন্দারা হাতে প্ল্যাকার্ড (Placards) নিয়ে চন্দ্রী রাজ্য সড়কে নেমে পড়েন। তাঁরা স্লোগান দিতে থাকেন প্রশাসনের বিরুদ্ধে। তাঁদের স্পষ্ট দাবি— সরকার (Government) যতক্ষণ পর্যন্ত উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের আশ্বাস (Relief Fund Assurance) না দিচ্ছে, ততক্ষণ তাঁরা অবরোধ তুলে নেবেন না। এই অবরোধের ফলে ব্যস্ততম এই রাজ্য সড়কে ব্যাপক যানজট তৈরি হয়। যাত্রীবাহী বাস , ব্যক্তিগত গাড়ি (Private Vehicles) এবং পণ্যবাহী ট্রাক সবকিছুই দীর্ঘক্ষণ আটকে পড়ে। অফিসগামী মানুষ এবং স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীদের চরম দুর্ভোগের মুখে পড়তে হয়।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ঝাড়গ্রাম থানার (Jhargram) পুলিশ বাহিনী। তাঁরা গ্রামবাসীদের বোঝানোর চেষ্টা করেন, যাতে তাঁরা অবরোধ তুলে নেন। তবে বিক্ষোভকারীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যতক্ষণ না প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে, ততক্ষণ তাঁদের প্রতিবাদ (Protest) চলবে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মতে, তাঁদের অবস্থা এখন চরম সংকটজনক। কৃষি ঋণ (Agricultural Loan) নিয়ে তাঁরা ফসল ফলিয়েছিলেন, কিন্তু শিলাবৃষ্টির কারণে সেই ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। এখন যদি সরকার থেকে কোনও রকম সাহায্য (Financial Aid) না পাওয়া যায়, তবে তাঁদের জীবনধারণ কঠিন হয়ে পড়বে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাপা উত্তেজনা (Tension) বিরাজ করছে। এখন দেখার, প্রশাসন কত দ্রুত ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যে এগিয়ে আসে।
নিউজ পোল বাংলার ফেসবুক পেজের লিঙ্ক:https://www.facebook.com/share/p/1AK22Covy2/