CSK vs MI: কাজে এল না ভিগ্নেশের লড়াই, ৪ উইকেটে মুম্ব‌ই বধ চেন্নাইয়ের

breakingnews আইপিএল ক্রিকেট ক্রীড়া

নিউজ পোল ব্যুরো: কে বলেছে শুধুমাত্র ঝুড়ি ঝুড়ি রান, ধুমধাড়াক্কা চার-ছয়েই আইপিএলের (IPL) মজা? বরং কখনও কখনও লো-স্কোরিং ম্যাচগুলো‌ই থ্রিলারকে হার মানায়। রবিবার আইপিএল ২০২৫ (IPL 2025) -এর প্রথম ডবল হেডারেই (IPL Double Header) যা দেখা গেল। প্রথম ম্যাচে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের (SRH vs RR) পাহাড়প্রমাণ ২৮৬ রানের জবাবে ২৪২ -এ আটকে গেল রাজস্থান রয়্যালস। অন্যদিকে দ্বিতীয় ম্যাচে দাপট দেখাল স্পিনাররা। মরশুমের প্রথম এল ক্লাসিকোই (CSK vs MI) মুম্বাইয়ের বিরুদ্ধে চেন্নাই জিতল ৪ উইকেটে।

আর‌ও পড়ুন: MS Dhoni : থালা তুসি গ্রেট হো, তোফা কবুল করো

চেন্নাই সুপার কিংসের ঘরের মাঠ চিপকে যেন আজকের (CSK vs MI) সন্ধ্যেটা লেখা হয়ে থাকল লেফ্ট আর্ম রিস্ট স্পিনারদের নামে। প্রথমে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ব্যাটিং ছাড়খার করলেন আফগানিস্তানের তরুণ স্পিনার নূর আহমেদ। দ্বিতীয় ইনিংসে দলকে জেতাতে না পারলেও সমান তালে লড়াই দিয়ে গেলেন নীতা আম্বানির দলের অনামী স্পিনার ভিগনেশ পুত্থু। দুজনের লড়াইয়ে জমে উঠল আইপিএলের সফলতম দুই দলের মহারণ।

টসে (CSK vs MI) জিতে প্রথমে ফিল্ডিং নিয়েছিলেন সিএসকে অধিনায়ক রুতুরাজ গায়কোয়ার। ইনিংসের শুরুতেই রোহিতকে ফেরান বাঁহাতি পেসার খলিল আহমেদ। ২০২৪ সালে টি-২০ বিশ্বকাপ জয়ের পর ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম ফরম্যাট থেকে অবসর নিয়েছেন ভারতীয় অধিনায়ক। প্রায় ১১ মাস পর টি-২০ তে নেমে শূন্য রানে ফিরলেন হিটম্যান এবং আইপিএলের ইতিহাসে ১৮ বার ‘ডাক’ করে এই তালিকায় যুগ্ম সর্বোচ্চ হিসেবে দীনেশ কার্তিক এবং গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে জুড়ল তাঁর নাম। রবিবার আর‌ও একটি নজির গড়েন রোহিত। আইপিএলের রেকর্ড বুকে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা ক্রিকেটারদের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এলেন তিনি (২৫৮)।

রোহিতের পরপর‌ই তৃতীয় ওভারের দ্বিতীয় বলে আর‌ও এক মুম্ব‌ই ওপেনার রায়ান রিকলেটনকে ফেরান খলিল। চোটের কারণে জাতীয় দল থেকে একসময় ছিটকে গিয়েছিলেন এই বাঁহাতি পেসার। মুম্ব‌ইয়ের বিরুদ্ধে (CSK vs MI) তিন উইকেট নিয়ে নির্বাচকদের বার্তা দিয়ে রাখলেন তিনি। এরপর একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে পল্টন বাহিনী। অধিনায়ক সূর্য কুমার যাদব থেকে তিলক ভার্মা ব্যর্থ সকলেই। চার ওভার বল করে মাত্র ১৮ রান দিয়ে মুম্ব‌ইয়ের মিডল অর্ডারে স্পিনের জাল বিস্তার করেন আফগানিস্তানের নূর আহমেদ। একটিও বাউন্ডারি দেননি তিনি। সূর্য কুমার যাদব, তিলক ভার্মা থেকে রবিন মিঞ্জ এবং নমন ধীর সকলেই তাঁর শিকার। এটিই মুম্ব‌ই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে কোন সিএসকে স্পিনারের করা সেরা বোলিং। খলিল আহমেদ এবং নূর আহমেদের ৭ উইকেট ছাড়া একটি করে উইকেট নেন নাথন এলিস এবং ২০১৫ সালের পর হলুদ জার্সিতে ফেরা রবিচন্দ্রন অশ্বিন। ১৮ ওভার শেষে ১২৮/৮ হয়ে যান সূর্যরা। তাদের হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন তিলক ভার্মা (৩১)। শেষে প্রাক্তন সি‌এসকে পেসার দীপক চাহার চালিয়ে খেলায় (১৫ বলে ২৮ অপরাজিত) ৯ উইকেট হারিয়ে ১৫৫ রান তোলে মুম্ব‌ই ইন্ডিয়ান্স।

১৫৫ রানের পুঁজি নিয়ে তেমন কিছুই করার ছিল না হার্দিক বিহীন মুম্ব‌ইয়ের কাছে। গত আইপিএলে স্লো ওভার রেটের কারণে এক ম্যাচ নির্বাসিত থাকায় চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে নামতে পারেননি তিনি। তাও একটা মরিয়া চেষ্টা চালালেন কেরলের হয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে একটিও ম্যাচ না খেলা বছর চব্বিশের ভিগ্নেশ পুত্থুর। ৪ ওভারে ৩২ রান দিয়ে পরপর ফেরালেন চেন্নাই অধিনায়ক রুতুরাজ গায়কোয়ার, শিবম দুবে এবং দীপক হুডাকে। ১১৬ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে খানিক চাপে পড়ে সি‌এসকে। কিন্তু রচিন রবীন্দ্রর পরিণত ব্যাটিংয়ে জয় তুলে নিতে বিশেষ অসুবিধা হয়নি চেন্নাইয়ের। তিনি অপরাজিত থাকেন ৪৫ বলে ৬৫ রান করে। তাঁর সঙ্গে যোগ্য সঙ্গ দিয়ে যান রুতুরাজ। ২৬ বলে ৫৩ রান করেন তিনি।

রবিবার (CSK vs MI) সারা দেশবাসী অপেক্ষা করেছিলেন ধোনির ব্যাটিং দেখবেন বলে। কে জানে এটাই হয়ত শেষ আইপিএল তাঁর। কিন্তু ব্যাট হাতে ধোনির ঝলক দেখা যায়নি। রবীন্দ্র জাদেজা রান‌আউট হয়ে ফিরতেই মাঠে এলেন তিনি। চিপকের শব্দব্রহ্মে তখন কান পাতা দায়। তখন জয়ের জন্য বাকি আর মাত্র চার রান। দুটি বল খেললেও বড় শটে গেলেন না মাহি। শেষ ওভারে ছক্কা মেরে ম্যাচ জেতানোর সুযোগ করে দিলেন তরুণ কিউয়ি ওপেনার রচিন রবীন্দ্রকে। তবে ব্যাট হাতে মাহির ঝলক দেখা না গেলেও উইকেটের পিছনে দেখা গেল ‘ভিনটেজ’ মাহির ঝলক। নূর আহমেদের বলে সূর্য কুমার যাদবকে বিদ্যুৎ গতিতে স্টাম্প আউট করেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। মাত্র ০.১২ সেকেন্ডে ভেঙে দেন উইকেট। তৃতীয় আম্পায়ার আউট ঘোষণা করার আগেই ডাগ আউটের দিকে হাঁটা লাগান সূর্য। কারণ বছর ৪৩ -এর ধোনি যে এখন‌ও বিদ্যুৎ -এর চেয়েও দ্রুতগতিসম্পন্ন তা তিনি খুব ভাল করেই জানেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

মুম্ব‌ই ইন্ডিয়ান্স ১৫৫/৯ (২০)

তিলক ভার্মা ৩১(২৫), দীপক চাহার ২৮(১৫)*

নূর আহমেদ ৪/১৮(৪), খলিল আহমেদ ৩/২৯(৪)

চেন্নাই সুপার কিংস ১৫৮/৬ (১৯.১)

রচিন রবীন্দ্র ৬৫(৪৫)*, রুতুরাজ গায়কোয়ার ৫৩(২৬)

ভিগ্নেশ পুত্থুর ৩/৩২(৪)