নিউজ পোল ব্যুরো: শিক্ষা ব্যবস্থায় কুড়মালি ভাষাকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে আদিবাসী কুড়মি সমাজ মঙ্গলবার ঝাড়গ্রামের ডিআই (DI) অফিসে ডেপুটেশন প্রদান করল। এদিন ঝাড়গ্রাম (Jhargram protest) শহরের হিন্দু মিশন ময়দান থেকে শুরু হওয়া এক বিশাল মিছিল শেষ হয় জেলা শিক্ষা দপ্তরের সামনে, যেখানে সংগঠনের প্রতিনিধিরা তাদের দাবি পেশ করেন।

আদিবাসী কুড়মি সমাজ দীর্ঘদিন ধরেই কুড়মালি ভাষাকে প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়ে আসছে। তাদের দাবি, কুড়মালি ভাষা বহুদিনের প্রাচীন ভাষা, এবং এটি পশ্চিমবঙ্গের ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া সহ বিভিন্ন জেলায় প্রচলিত। কিন্তু এখনো পর্যন্ত সরকারি শিক্ষাব্যবস্থায় এই ভাষার গুরুত্ব স্বীকৃতি পায়নি। ফলে নতুন প্রজন্ম নিজের মাতৃভাষায় শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এই দাবিকে সামনে রেখে মঙ্গলবার দুপুরে ঝাড়গ্রামের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কুড়মি সম্প্রদায়ের মানুষজন একত্রিত হন। ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, গবেষক এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ মিছিলে অংশ নেন। তারা বিভিন্ন ব্যানার ও পোস্টার নিয়ে শ্লোগান তোলেন—যে তাদের মাতৃভাষায় শিক্ষা চাই।হিন্দু মিশন ময়দান থেকে মিছিল শুরু হয়ে ঝাড়গ্রাম শহরের প্রধান রাস্তা পরিক্রমা করে জেলা ডিআই অফিসের সামনে পৌঁছয়। সেখানে আদিবাসী কুড়মি সমাজের নেতারা তাদের দাবি তুলে ধরেন এবং জেলা শিক্ষা দপ্তরের আধিকারিকদের হাতে স্মারকলিপি প্রদান করেন।

আদিবাসী কুড়মি সমাজের ঝাড়গ্রাম জেলা সভাপতি তরুণ মাহাতো (Tarun Mahato) বলেন,”কুড়মালি ভাষা আমাদের পরিচয়ের প্রতীক। এটি আমাদের সংস্কৃতি, (Jhargram protest)আমাদের অস্তিত্বের সঙ্গে জড়িত। অথচ আমাদের ভাষাকে সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থায় এখনো স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। আমরা চাই, অবিলম্বে প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত কুড়মালি ভাষায় পঠন-পাঠনের ব্যবস্থা করা হোক।”
আরও পড়ুন: http://Government Holidays: ছুটির মজা নিতে চান? মার্চে অফিস ও স্কুল বন্ধ একাধিক দিন!

আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট করেছেন যে, এই ডেপুটেশন শুধুমাত্র প্রথম ধাপ। যদি সরকার তাদের দাবি না মেনে নেয়, তাহলে তারা বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন। কুড়মালি ভাষাকে রাজ্যের সরকারি স্কুলগুলোর পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য তারা লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। কুড়মালি ভাষার প্রচার ও সংরক্ষণের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই আন্দোলন চলছে। সরকার যদি দ্রুত পদক্ষেপ না নেয়, তবে এই আন্দোলন আরও বৃহৎ আকার ধারণ করবে।