নিউজ পোল ব্যুরো: ) সম্প্রতি দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফ্রেজারগঞ্জ থানার অন্তর্গত মৌসুনি দ্বীপ (Mousuni Island) এক চাঞ্চল্যকর ঘটনার সাক্ষী থাকল। কয়েকদিন ধরে স্থানীয় বাসিন্দারা লক্ষ্য করছিলেন, দ্বীপের লোকালয়ে একটি কুমির (Crocodile) ঘুরে বেড়াচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই, এত বড় শিকারির উপস্থিতি এলাকাবাসীদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি করে। এরপরই স্থানীয়রা ফ্রেজারগঞ্জ কোস্টাল থানায় (Frazerganj Coastal Police Station) খবর দেন।

স্থানীয় ও বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, কুমিরটি প্রথমে দ্বীপের একাধিক জলাশয়ের আশেপাশে ঘোরাফেরা করছিল। তবে বন দফতরের কর্মীরা (Forest Department) আসার আগেই কুমিরটি কাছেই স্থানীয় বাসিন্দা মানিক দাসের পুকুরে (Pond) নেমে যায়। এই খবর পাওয়ার পরই বনদপ্তরের একটি বিশেষ টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং শুরু হয় উদ্ধার অভিযান (Rescue Operation)। কুমিরটিকে ধরার জন্য বন দফতরের কর্মীরা বিশেষ ধরনের কুমির ধরার জাল (Crocodile Trap Net) ব্যবহার করেন। দীর্ঘক্ষণ চেষ্টার পর, অবশেষে সোমবার রাত প্রায় আটটা নাগাদ কুমিরটিকে সফলভাবে জালে তোলা সম্ভব হয়। উদ্ধার হওয়ার পর কুমিরটিকে বকখালি বন দফতরের অফিসে (Bakkhali Forest Office) নিয়ে যাওয়া হয়।
আরও পড়ুন: http://Jio Recharge: চমকপ্রদ অফার, একবার রিচার্জ করলেই ৯০ দিন IPL ফ্রি!
বন দফতরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, কুমিরটি সম্পূর্ণ সুস্থ কি না, তা নিশ্চিত করতে পশু চিকিৎসকদের দ্বারা একটি স্বাস্থ্য পরীক্ষা (Health Checkup) করানো হবে। যদি কুমিরটি সম্পূর্ণ সুস্থ থাকে, তবে তাকে বনাঞ্চলে নিরাপদ স্থানে (Safe Habitat) ছেড়ে দেওয়া হবে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মৌসুনি দ্বীপের বাসিন্দাদের মধ্যে কিছুটা আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। তবে বন দফতরের পক্ষ থেকে স্থানীয় মানুষদের আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, উদ্ধার অভিযান সফল হয়েছে এবং কুমিরটি আর বিপদের কারণ নয়। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়ানোর জন্য প্রশাসন দ্বীপের জলাশয় ও নদী সংলগ্ন এলাকাগুলিতে (Water Bodies & River Banks) নজরদারি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। এই ঘটনায় স্পষ্ট, মৌসুনি দ্বীপের মতো উপকূলীয় এলাকাগুলিতে (Coastal Areas) কুমিরের উপস্থিতি নতুন কিছু নয়। তবে প্রশাসনের তৎপরতা ও বন দফতরের কর্মীদের প্রচেষ্টায় বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।