নিউজ পোল ব্যুরো: ২০২৪ সালের অগাস্ট মাসে বাংলাদেশে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর থেকেই ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্কে অবনতি হয়েছে। তবে শুধু সম্পর্কে নয় বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিও বেশ জটিল হয়ে উঠেছে। প্রতেবশী দেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর নির্যাতন নিয়েই সরব হয়েছে ভারত। এই এবার বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসকে চিঠি (Narendra Modi’s Message to Yunus) দিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। যা নিয়ে রিতিমত চর্চা শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশ যখন রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে রয়েছে তখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইউনূসকে লেখা চিঠি কূটনৈতিক আলোচনায় আলোড়ন তুলেছে। মঙ্গলবার বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস। ১৯৭১ সালের আজকের দিনে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে। সেই উপলক্ষে বাংলাদেশের জনগণকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন চিঠি দিয়েছেন মোদী। সেই সঙ্গেই ইউনুসকে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছে নমো। বাংলাদেশে ভারতীয় হাইকমিশনের শেয়ার করা এক বার্তায় মোদী লিখেছেন, “বাংলাদেশের জাতীয় দিবস উপলক্ষে আমি আপনাকে এবং বাংলাদেশের জনগণকে আমার শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। এই দিনটি আমাদের ভাগ করা ইতিহাস এবং ত্যাগের প্রমাণ হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে, যা আমাদের দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্বের ভিত্তি স্থাপন করেছে।” দুই জাতির মধ্যে গভীর সম্পর্কের স্বীকৃতি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী লিখেছেন, “বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আমাদের সম্পর্কের জন্য একটি পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করে চলেছে, যা বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিকশিত হয়েছে এবং আমাদের জনগণের জন্য বাস্তব সুবিধা বয়ে এনেছে। আমরা শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সমৃদ্ধির জন্য আমাদের সাধারণ আকাঙ্ক্ষা দ্বারা পরিচালিত এবং একে অপরের স্বার্থ এবং উদ্বেগের প্রতি পারস্পরিক সংবেদনশীলতার উপর ভিত্তি করে এই অংশীদারিত্বকে এগিয়ে নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
আরও পড়ুনঃ Mamata Banerjee: মমতার বক্তৃতা শুনতে ‘হাউসফুল’ অক্সফোর্ডের সভাঘর, বাড়ছে ওয়েটিং লিস্টও
মোদীর বার্তার পাশাপাশি, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুও বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিনকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক প্রতিবেদনগুলি ইঙ্গিত দিয়েছে যে, বাংলাদেশ একটি নাটকীয় রাজনৈতিক পরিবর্তনের দিকে এগিয়ে যেতে পারে। সম্ভাব্য সামরিক দখল নিয়ে জল্পনা চলছে। সূত্র জানিয়েছে, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের নেতৃত্বে বাংলাদেশি সেনাবাহিনী এই সপ্তাহের শুরুতে একটি জরুরি বৈঠক ডেকেছে। পাঁচজন লেফটেন্যান্ট জেনারেল এবং আটজন মেজর জেনারেল সহ শীর্ষ পদস্থ কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি ক্রমবর্ধমান অবিশ্বাসী দেশকে স্থিতিশীল করার ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর সম্ভাব্য ভূমিকার উপর আলোকপাত করা হয়েছিল। আর
এই অস্থিরতার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনুস, যার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নেতৃত্ব ক্রমবর্ধমান সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছে। উত্তেজনা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তাঁর ক্ষমতা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। এই প্রসঙ্গে জানিয়ে রাখা রাখা ভালো, বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস থাইল্যান্ডে বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকার করতে চেয়েছেন। এমনকি বৈঠক নিয়ে ঢাকার তরফে দিল্লিকে আনুষ্ঠানিক ভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছিল। সেই সাক্ষাৎ হয় কিনা এটাই এখন দেখার। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে ইউনুসকে মোদীর চিঠি (Narendra Modi’s Message to Yunus) রাজনৈতিকভাবে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল।
নিউজ পোল বাংলার ফেসবুক পেজের লিঙ্ক: https://www.facebook.com/share/p/17cBAHrRV5/