নিউজ পোল ব্যুরো: পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের (Jagannath Temple Puri) প্রধান সেবায়েত (Chief Sevayat) হিসেবে আবারো নির্বাচিত হলেন রামকৃষ্ণ দাস মহাপাত্র ওরফে রাজেশ দ্বৈতপতি (Rajesh Daitapati)। নির্বাচনে ২৮ জন সদস্যর মধ্যে ১৫ জন তার প্রতিনিধি ছিলেন এবং তাদের মধ্যে ১৪ জনের ভোট পেয়ে তিনি বিপুল ব্যবধানে জয়ী হন। নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর রাজেশ দ্বৈতপতি বলেন, “জগন্নাথ দেবের মন্দির (Jagannath Temple) হল সারা বিশ্বের অষ্টম ঠাকুর (Eighth Wonder)। এই মন্দিরের দেখাশোনার গুরু দায়িত্ব আমাদের সেবায়েত ও দ্বৈতপতি ভাইয়েরা পালন করছেন।” নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরেই স্নানযাত্রা ও রথযাত্রা যাতে সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয়, সে বিষয়ে পরিকল্পনা শুরু হয়েছে। খুব শীঘ্রই একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হবে, যেখানে উপস্থিত থাকবেন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (District Magistrate), ওডিশা সরকারের (Odisha Government) প্রতিনিধিরা ও অন্যান্য প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।

আরও পড়ুন :- ED: প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পরিষদে প্রাক্তন ইডি প্রধান সঞ্জয় কুমার মিশ্র
এক সাক্ষাতকারে প্রশ্ন ছিল পুরী মন্দিরে(Jagannath Temple Puri) প্রতিদিন ভক্তদের ভিড় বাড়ছে। এই প্রসঙ্গে রাজেশ দ্বৈতপতি বলেন, “মন্দিরের ভেতরে ভক্তদের কোনো অসুবিধা হচ্ছে না, কিন্তু বাইরে থেকে দর্শন করতে গিয়ে তারা সমস্যায় পড়ছেন। আমি একটি প্রস্তাব দিয়েছি, যাতে স্নানযাত্রার সময় একটি উঁচু-নিচু মঞ্চ (Elevated Viewing Platform) তৈরি করা হয়। এতে ছয়টি লাইন থাকবে, যার ফলে দর্শনার্থীরা আরও ভালোভাবে ভগবান জগন্নাথকে দর্শন করতে পারবেন।” তিনি আরও জানান, আগের সরকারের কাছে এই প্রস্তাব দেওয়া হলেও কোনো কাজ হয়নি, তবে বর্তমান সরকার (Present Government) বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখবে বলে আশা করছেন। ভক্তদের সুবিধার জন্য মন্দিরের ভেতরে ছয়টি আলাদা লাইন (Queue System) করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে চারটি সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য এবং দুটি লাইন শুধু মহিলা ও বয়স্কদের (Women & Senior Citizens) জন্য থাকবে। তিনি বলেন, “আগে ভক্তরা রত্নবেদীর (Ratna Bedi) কাছে গিয়ে দর্শন করতে পারতেন, কিন্তু ভক্তদের সংখ্যা বাড়ায় এখন আর তা সম্ভব নয়। যদিও আমি একবার এই বিষয়ে প্রস্তাব দিয়েছিলাম, কিন্তু তা এখনই কার্যকর হচ্ছে না।”
নিউজ পোল বাংলা ফেসবুক পেজের লিঙ্ক:- https://www.facebook.com/share/164mWXbsyp/

মন্দিরে ভক্তদের বসে প্রসাদ গ্রহণের জন্য একটি বিশেষ ঘর (Dining Hall) তৈরি করা হচ্ছে। পাশাপাশি, মন্দিরের বাইরে একটি ওয়েটিং হল (Waiting Hall) নির্মাণ করা হবে, যেখানে অপেক্ষমাণ ভক্তরা বিভিন্ন দেবদেবীর মূর্তি, ১২ মাসের ১৩ পার্বণের (Festivals) চিত্র দেখতে পারবেন এবং শ্রী জগন্নাথ দেবের দর্শন লাভ করতে পারবেন। পশ্চিমবঙ্গের দিঘায় একটি নতুন জগন্নাথ মন্দির (Jagannath Temple, Digha) নির্মাণ প্রায় শেষের পথে। এই প্রসঙ্গে রাজেশ দৈতপতি জানান, “আমি ইতিমধ্যেই ৩-৪ বার দিঘার মন্দিরে গিয়েছি ও প্রশাসনিক বৈঠকে (Administrative Meeting) অংশ নিয়েছি। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এই কাজের গুরু দায়িত্ব আমাকে দিয়েছেন।” তিনি আরও বলেন, “পুরীর জগন্নাথ মন্দির তৈরি হতে হাজার হাজার বছর লেগেছে, কিন্তু মাত্র দুই বছরের মধ্যেই দিঘার মন্দির নির্মাণ প্রায় শেষের দিকে। এটি এক ঐতিহাসিক ঘটনা (Historical Event)।” দিঘার মন্দিরে পুরীর মতো সমস্ত আচার-অনুষ্ঠান পুরোপুরি অনুসরণ করা না গেলেও, যতটুকু সম্ভব, তা রক্ষা করা হবে। রাজেশ দ্বৈতপতি জানান, “পুরীর মতো দিঘায়ও কাঠ ও মাটির হাঁড়িতে প্রসাদ (Mahaprasad) রান্না হবে, মাসির বাড়ি (Maasi Bari) থাকবে, রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। তবে পুরীর সম্পূর্ণ রীতি অনুসরণ করা সম্ভব নয়, কিন্তু যতটা সম্ভব, ততটাই করা হবে।”

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
দিঘার মন্দিরের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য মাসিক বৈঠকের (Monthly Meeting) ব্যবস্থা করা হবে, যেখানে সেবায়েত ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন। তিনি বলেন, “সারা বিশ্বের মানুষ জানবে যে পুরীর পর বাংলার দিঘায় (Digha) আরও একটি জগন্নাথ মন্দির রয়েছে। এটি বাংলার গর্বের বিষয়।”