নিউজ পোল ব্যুরো: নদী কখনো সোজা পথে চলে না, তার যাত্রাপথ চিরকালই অগোছালো। পাহাড় তাকে বুকে আগলে রাখে, যেন প্রকৃতির কোনো স্নেহশীল অভিভাবক। দোবান উপত্যকা (Doban Valley), প্রকৃতির এই নিভৃত কোণ, তার এমনই এক নিদর্শন। সবুজে মোড়া, শান্তি ও নির্জনতায় ভরা এই গন্তব্যটি (offbeat destination) সত্যিকারের প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এক স্বর্গ। দোবানের নিস্তব্ধতা, পাহাড়ের মায়াবী সৌন্দর্য এবং দুটি নদীর মিলনসঙ্গম একে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। নেপালি ভাষায় ‘দো’ শব্দের অর্থ দুই এবং ‘বান’ শব্দের অর্থ বন্ধন। এই নামের তাৎপর্য লুকিয়ে রয়েছে রংপো (Rangpo) এবং ঋষি (Rishi) নদীর মিলনস্থলে। পাহাড় ও নদীর মাঝে অবস্থিত দোবান উপত্যকা পশ্চিমবঙ্গের কালিম্পং (Kalimpong) মহকুমার অন্তর্গত হলেও এখানে পৌঁছতে গেলে পূর্ব সিকিম (East Sikkim) হয়ে আসতে হয়। শহরের কোলাহল থেকে দূরে নির্জনতায় হারিয়ে যেতে চাইলে এটি আদর্শ গন্তব্য।
আরও পড়ুন:- Offbeat Kashmir: এই বসন্তে কাশ্মীর ভ্রমণ? মিস করবেন না এই তিনটি অপূর্ব উপত্যকা!
দোবান (Doban valley) এমন এক জায়গা যেখানে প্রকৃতিকে শুধুমাত্র দেখা যায় না, অনুভব করা যায়। পাহাড়ের কোল ঘেঁষে বয়ে চলেছে স্বচ্ছ স্ফটিকের মতো জল, নদীর নরম বালি আর সবুজ ঘাসে খালি পায়ে হাঁটলেই শরীর-মন শান্ত হয়ে আসে। এই উপত্যকার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ নিস্তব্ধতা (serenity)। এখানে এসে এক অদ্ভুত নিরবতা অনুভব করা যায়, যেখানে শুধুই শোনা যায় অচেনা পাখির ডাক আর নদীর ধীর গতির শব্দ। সন্ধ্যা নামার পর এই জায়গার সৌন্দর্য আরও মোহনীয় হয়ে ওঠে। আকাশে জ্বলজ্বল করা অগণিত তারার আলো, জোনাকির মৃদু ঝিলিক আর পাহাড়ের গায়ে পড়া চাঁদের আলোকছটা এক অনন্য আবহ তৈরি করে। শহরের কৃত্রিম আলোর দূষণ থেকে দূরে থাকার কারণে এখানে আকাশ এতটাই পরিষ্কার থাকে যে মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিও (Milky Way Galaxy) স্পষ্টভাবে দেখা যায়।

নিউজ পোল বাংলা ফেসবুক পেজের লিঙ্ক:- https://www.facebook.com/share/164mWXbsyp/
কীভাবে যাবেন? (How to Reach Doban)
নিউ জলপাইগুড়ি (New Jalpaiguri – NJP) স্টেশন হল দোবান পৌঁছানোর জন্য সবচেয়ে কাছের রেলস্টেশন। এখান থেকে দোবানের দূরত্ব প্রায় ৮৫ কিলোমিটার, যা গাড়িতে তিন থেকে চার ঘণ্টার পথ। নিউ জলপাইগুড়ি থেকে সরাসরি গাড়ি বুক করা যায় বা শেয়ার গাড়িতেও যাওয়া সম্ভব। প্রথমে রংপো (Rangpo) পর্যন্ত পৌঁছাতে হবে। সেখান থেকে সার্ভিস জিপ (shared jeep) ধরে রেনক (Rhenock) যাওয়ার পথে রোরাথাং ব্রিজে (Rorathang Bridge) নামতে হবে। সেখান থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার হাঁটা লাগবে নদীর চর ধরে। হাঁটতে না চাইলে রংপো থেকে সরাসরি গাড়ি বুক করেও যেতে পারেন। এই পথে কাঠের সাঁকো পেরোলেই পৌঁছে যাবেন দোবান উপত্যকায়।
কোথায় থাকবেন? (Where to Stay in Doban)
প্রাকৃতিক পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দোবান উপত্যকার মাঝে কিছু কটেজ (cottages) ছড়িয়ে রয়েছে, যা পর্যটকদের থাকার জন্য আদর্শ। কটেজগুলির চারপাশে পাহাড় ও নদীর অপূর্ব দৃশ্য উপভোগ করা যায়। যেহেতু এটি একটি অফবিট ডেস্টিনেশন, তাই আগে থেকেই বুকিং করে যাওয়া উত্তম।
কেন দোবানে যাবেন? (Why Visit Doban?)
১) নিস্তব্ধ প্রকৃতির কোলে সময় কাটানো: শহরের কোলাহল থেকে দূরে সম্পূর্ণ শান্তিতে কিছুদিন কাটানোর জন্য আদর্শ জায়গা।
২) অ্যাডভেঞ্চার ও ট্রেকিং (Adventure & Trekking): যারা অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমী, তাদের জন্য নদীর ধার ধরে হাঁটা বা ছোটখাট ট্রেকিংয়ের সুযোগ রয়েছে।
৩) আকাশ পর্যবেক্ষণ (Stargazing): এখানে রাতের আকাশ এতটাই পরিষ্কার যে তারাভরা আকাশ উপভোগ করা যায়।
৪)ফটোগ্রাফির জন্য স্বর্গ (Photography Paradise): প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, নদীর স্বচ্ছ জল, পাহাড়ের রঙিন ছায়া—সব মিলিয়ে ফটোগ্রাফারদের জন্য এক আদর্শ স্থান।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
দোবান উপত্যকা (Doban Valley) এমন এক জায়গা যেখানে গেলে প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম হওয়া যায়। এখানে এসে সময় যেন থমকে যায়, মন যেন নির্ভার হয়ে ওঠে। যারা সত্যিকারের অফবিট ডেস্টিনেশন খুঁজছেন, শহরের কোলাহল থেকে মুক্তি চান, তাদের জন্য দোবান নিঃসন্দেহে এক উপযুক্ত ঠিকানা। একবার এখানে গেলে, প্রকৃতির টানে আবার ফিরে আসতে ইচ্ছে করবেই।