নিউজ পোল ব্যুরো: আইপিএল (IPL 2025) শুরু হতে না হতেই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু ইডেনের ২২ গজ (Eden Gardens)। ইডেনের পিচ (Eden Pitch) ঘিরে আলোচনা যেন থামছেই না। একের পর এক অভিযোগ আসছিল পিচ প্রস্তুতকারক সুজন মুখোপাধ্যায়ের (Sujan Mukherjee) বিরুদ্ধে। এতদিন চুপ থাকলেও এবার মুখ খুললেন বিতর্কের ‘নায়ক’। জানালেন কলকাতা নাইট রাইডার্সের (KKR) পক্ষ থেকে তাঁর (Pitch Curator) কাছে ‘পিচ’ পরিবর্তন নিয়ে সরকারীভাবে কোন আবেদনই আসেনি।
আরও পড়ুন: SRH vs LSG: হায়দ্রাবাদে মধুর প্রতিশোধ লখনউয়ের
ঘটনার সূত্রপাত ২২ মার্চ, গত শনিবার। আইপিএল ২০২৫ -এর উদ্বোধনী ম্যাচে ঘরের মাঠে (Eden Gardens) আরসিবির কাছে পর্যদুস্ত হতে হয় কেকেআরকে। ১৭ ওভারের মধ্যেই কেকেআরের দেওয়া ১৭৫ রানের টার্গেট তুলে ফেলেন সল্ট-কোহলিরা। আরসিবি বোলিংয়ের সামনে নাইটরা ৮ উইকেট হারালেও, নারিন-বরুনরা সেভাবে দাগ কাটতে পারেননি আরসিবি ব্যাটিংয়ের সামনে। সাংবাদিক বৈঠকে এসে শাহরুখের দলের অধিনায়ক অজিঙ্ক রাহানে বলে যান উইকেটে বল ঘুরলেই ভাল হয়। যদিও অভিযোগ বা সমালোচনার পথে হাঁটেননি তিনি। কি মুশকিলটা হয় তারপরেই। ইডেনের পিচ কিউরেটর সুজন মুখোপাধ্যায়কে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি মুখের উপর সাফ জানিয়ে দেন যে তিনি যতদিন দায়িত্বে থাকবেন ইডেনের উইকেট বদলাবে না। তিনি বলেন, “বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী পিচ নিয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি কোন নির্দেশ দিতে পারে না। ওদের স্পিনাররা তো চার উইকেট নিয়েছে। ক্রুণাল তিনটে এবং সুয়শ রাসেলকে বোল্ড করেছে। কেকেআর স্পিনাররা কি করছিলেন? আমি থাকতে পিচের চরিত্র বদলাবে না।“

কেকেআর ভক্তরা যে বক্তব্য ভালভাবে নেননি একেবারেই। ক্ষোভের আগুন জ্বলছিলই। যে আগুনে ঘি ঢালে গুয়াহাটির পিচ। নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে গুয়াহাটির স্পিনিং উইকেটে দাপট দেখায় কেকেআর স্পিনাররা। দু’টি করে উইকেট নেন মইন আলি এবং বরুণ চক্রবর্তী। ১৫১ রানে গুটিয়ে যায় রাজস্থান রয়্যালস। জবাবে কুইন্টন ডি ককের অপরাজিত ৯৭ রানের ইনিংসে ভর করে মরশুমের প্রথম জয় ছিনিয়ে নেয় কেকেআর। এরপরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন নাইট সমর্থকরা। যে ক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করে বিখ্যাত ধারাভাষ্যকার হর্ষ ভোগলে এবং প্রাক্তন কিউয়ি পেসার সাইমন ডুলের মন্তব্যে।

একটি জনপ্রিয় ক্রিকেট ওয়েবসাইটের আলোচনায় ভোগলে বলেন, “আমি যদি কেকেআর শিবিরে থাকতাম তাহলে পিচ কিউরেটরের বক্তব্যে অত্যন্ত হতাশ হতাম। আপনাকে বুঝতে হবে আমি ১২০ রানের পিচ (Eden Gardens) চাইছি না। ২৪০ রানের পিচও না। আমি শুধু চাইছি আমাকে এমন পিচ দিন যেখানে আমার বোলররা পারফর্ম করতে পারে। আইপিএলের মত টুর্নামেন্ট হোম অ্যাডভান্টেজের দাবি অন্যায্য নয়।“ ডুল আবার এত রাখঢাক না করে সোজাসুজি বলে দেন ইডেনের বদলে কেকেআরের অন্যত্র হোম ম্যাচ খেলা উচিৎ। প্রাক্তন কিউয়ি পেসার বলেন, “কিউরেটরের এত বড় বড় কথা মানায় না। খেলা বিশ্লেষণ করতে ওনাকে পয়সা দেওয়া হয় না। ফ্র্যাঞ্চাইজিকে পয়সা দিতে হয় মাঠে খেলার জন্য। মাঠ কর্তৃপক্ষ যদি তা মানবেন না বলেন তাহলে ফ্র্যাঞ্চাইজির উচিৎ অন্য কথা ভাবা।“

এরপরেই সমাজ মাধ্যমে ‘#ShameOnCAB’ ট্রেন্ড যুদ্ধ চালাতে থাকেন নাইট ভক্তরা। দেশে বিদেশে মুখ পুড়তে থাকে ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গলের। মুখ খোলেন প্রাক্তন কেকেআর তথা বঙ্গ উইকেট রক্ষক ব্যাটসম্যান শ্রীবৎস গোস্বামীও। নিজের ফেসবুক ওয়ালে অতীতেও ইডেনের পিচ (Eden Gardens) নিয়ে অসহযোগিতার অভিযোগ আনেন তিনি। অবশেষে চাপের মুখে পড়ে খানিক সুর নরম করেছেন সুজন মুখোপাধ্যায়। তিনি জানিয়েছেন, “কেকেআরের তরফে আমার কাছে কোন আবেদন জানানো হয়নি। প্রথম ম্যাচের আগে একজন কোচ আমায় পিচের বিষয়ে জিজ্ঞেস করেছিলেন, আমি বলেছিলাম স্পিনও হবে, তবে রানও আসবে। আমি কখনই কেকেআরকে কোনকিছুতে না করিনি। আমাদের মধ্যে কোন বিবাদ নেই। নিয়ম মেনে পিচ তৈরি করেছি আমি।“ সিএবি সভাপতি স্নেহাশীষ গাঙ্গুলি যদিও নিশ্চুপ পুরো ঘটনায়। এমনকি ‘সাইমন ডুল’ কে তিনি নাকি চেনেন না বলেও হাস্যকর দাবি করেছেন। তবে সূত্রের খবর মুখে কিছু না বললেও পিচের চরিত্র আমূল বদলে ফেলা সম্ভব না হলেও উইকেট যতটা সম্ভব শুকনো রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। কেকেআরের আগামী হোম ম্যাচ ৬ এপ্রিল, সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের বিরুদ্ধে। তার আগে নাকি অতিরিক্ত জল দেওয়া হবে না পিচে। ফলে উইকেট ড্রাই থাকলে সুবিধা পাবেন স্পিনাররা।
নিউজ পোল বাংলা ফেসবুক পেজের লিংক: https://www.facebook.com/share/1EA79Afcw5/
বিসিসিআইয়ের নিয়ম অনুযায়ী পিচ তৈরির ক্ষেত্রে ফ্র্যাঞ্চাইজির কিছু বলার থাকে না ঠিকই। কিউরেটরের বেতন সরাসরি ফ্র্যাঞ্চাইজি দেয়না ঠিকই। কিন্তু হোম ভেন্যু হিসেবে কোন মাঠ ব্যবহার করতে গেলে মোটা অংকের ‘ভাড়া’ গুনতে হয় ফ্র্যাঞ্চাইজিকে। যে টাকার এক পয়সাও কি ঢোকে না কিউরেটরের পকেটে? সুতরাং ঘরের মাঠে কিছু সুবিধা পাওয়া কথা বলে কোন ভুল করেনি নাইট রাইডার্স। ঘরের মাঠেই (Eden Gardens) যদি না পছন্দমত উইকেট পাওয়া গেল তাহলে কীসের ঘরের মাঠ? ২০২৩ সাল থেকে ইডেনের পিচ নিয়ে সন্তুষ্ট নয় কেকেআর। সেবার প্রায় প্রতি ম্যাচেই গড়ে ২০০ করে রান উঠছিল ইডেনের হাইরোড মার্কা উইকেটে। যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন তৎকালীন নাইট অধিনায়ক নিতীশ রানা। সুজন বাবু মনে করেন টি-২০ মানেই মানুষ ধুমধাড়াক্কা চার-ছয়ই দেখতে পছন্দ করেন শুধু। কিন্তু মানুষ যে ব্যাটে-বলে তুল্যমূল্য লড়াই দেখতেই বেশি পছন্দ করেন তা কি এবার বুঝতে পারছেন কিউরেটর মশাই?