নিউজ পোল ব্যুরো: শিক্ষা অর্জনের জন্য ইচ্ছাশক্তিই সবচেয়ে বড় সম্বল। তারই উদাহরণ মুর্শিদাবাদ (Murshidabad) জেলার রবিউল ইসলাম। জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধকতা (Physically Disabled) নিয়ে বড় হওয়া এই তরুণ আজ মুর্শিদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাসে (History) স্নাতকোত্তর (MA) পড়ছেন। তবে প্রতিদিন ক্লাস কিংবা পরীক্ষা দিতে যেতে হয় বাবার কোলে চড়ে। কোনো প্রতিকূলতার কাছে হার না মেনে তিনি এগিয়ে চলেছেন নিজের স্বপ্নপূরণের লক্ষ্যে।
মুর্শিদাবাদের ডোমকল (Domkal) থানার শিবনগর (Shibnagar) গ্রামের বাসিন্দা রবিউল এক সাধারণ কৃষক পরিবারের ছেলে। বাবা লুৎফুর রহমান একজন খেতমজুর (Farmer) এবং মা নাসরিন বানু বিদ্যালয়ের মিড ডে মিল প্রকল্পের রান্নার কাজ করেন। শৈশবে জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পর ধীরে ধীরে শুকিয়ে যায় তার পা দুটি। হাঁটাচলার শক্তি হারিয়ে ফেললেও পড়াশোনার প্রতি ভালোবাসা কখনও ম্লান হয়নি। রবিউলের শিক্ষা জীবন শুরু হয় ভগীরথপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে ভালো ফল করার পর ভর্তি হন ডোমকল কলেজে । ইতিহাসে অনার্স (Honours) নিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যান এবং ৭১ শতাংশ নম্বর পেয়ে স্নাতক (Graduation) পাশ করেন। এরপর তিনি মুর্শিদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তরে ভর্তি হন।
আরও পড়ুনঃhttp://Jalpaiguri Incident: পূণ্যস্নানে মর্মান্তিক ঘটনা, মৃত্যু ৮ বছরের শিশু
ডোমকল কলেজের দোতলায় ক্লাস করার সময়ও বাবার কোলে চেপে উঠতে হয়েছে রবিউলকে। এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার ক্ষেত্রেও সেই একই পরিস্থিতি। তবে মুর্শিদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ে (Murshidabad University) অধ্যাপকদের সহযোগিতায় কিছুটা সুবিধা পাচ্ছেন তিনি। প্রতিদিন বাবার পক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় না, তাই সপ্তাহে তিনদিন আসেন ক্লাস করতে। আর পরীক্ষার দিনগুলিতে তো বাবার কাঁধই তার একমাত্র ভরসা। বিশ্ববিদ্যালয় পড়ার পাশাপাশি রবিউল এক বছর ‘ডিএলএড’ (D.El.Ed) কোর্সও সম্পন্ন করেছেন। পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চাইলেও যাতায়াতের সমস্যা তার কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। ছোটবেলায় হুইলচেয়ার (Wheelchair) থাকলেও বাসে চড়ে বহরমপুর (Behrampore) যাওয়া সম্ভব ছিল না। তাই বর্তমানে বাবাই তার বাহন। তবে এই সমস্যার সমাধান চেয়ে তিনি ও তার পরিবার একটি তিন চাকার গাড়ির (Three-Wheeler) জন্য আবেদন করেছেন।
নিউজ পোল বাংলা ফেসবুক পেজের লিংক: https://www.facebook.com/share/p/1ETdojcQ2p/
রবিউলের একমাত্র স্বপ্ন একজন শিক্ষক (Teacher) হওয়া। তিনি চান তার মতো পিছিয়ে পড়া ও দরিদ্র ছাত্রছাত্রীদের পাশে দাঁড়াতে। তাদের পড়িয়ে স্বাবলম্বী করে তুলতে চান। তার বাবাও ছেলের এই স্বপ্নপূরণে পাশে থাকতে চান এবং যেকোনো মূল্যে রবিউলকে শিক্ষিত করার সংকল্প নিয়েছেন। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তার চলার পথের অন্তরায় হলেও রবিউলের আত্মবিশ্বাস ও অধ্যবসায় প্রমাণ করে দেয় ইচ্ছাশক্তির জোর থাকলে কোনো বাধাই বড় নয়।