Nepal : গণতন্ত্রের প্রয়োজন নেই! রাজতন্ত্র ও হিন্দু রাষ্ট্রের দাবিতে অগ্নিগর্ভ নেপাল, জারি কার্ফু

আন্তর্জাতিক

নিউজ পোল ব্যুরো: গণতন্ত্র চাই না! ফিরিয়ে দাও রাজতন্ত্র! চাই হিন্দু রাষ্ট্র। হ্যাঁ, ঠিক এই দুই দাবিই উঠল ভারতের প্রতিবেশী রাষ্ট্র নেপালে (Nepal)। শনিবার সেদেশে রাজধানী কাঠমান্ডু এবং তার সংলগ্ন এলাকায় রাজা জ্ঞানেন্দ্রর সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় দুজনের মৃত্যু ঘটেছে। পাশাপাশি আহত শতাধিক মানুষ। এর ফলে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে দেশজুড়ে। সূত্রের খবর, কাঠমান্ডু সহ একাধিক শহরে জারি করা হয়েছে কার্ফু।

আরও পড়ুন: Bangladesh : চিনের সঙ্গে বড় চুক্তি ইউনূসের, টাকার অভাব হবে না বাংলাদেশের?

এসবের শুরুটা হয়েছিল গত ১৯ ফেব্রুয়ারি। একটি ভিডিওতে দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন জ্ঞানেন্দ্র। এরপরই রাতারাতি তাঁর প্রতি মানুষের সমর্থন বেড়ে যায় গোটা দেশে।‌ এরপর মার্চের শুরুতে জ্ঞানেন্দ্র নেপালের পশ্চিমাঞ্চল সফর শেষ করে কাঠমান্ডুর বিমানবন্দরে পৌঁছানো মাত্রই তাঁকে স্বাগত জানাতে নামে মানুষের ঢল। এসময় তাঁকে ঘিরে রাজতন্ত্র ফিরিয়ে আনার স্লোগান ওঠে। পাশাপাশি হিন্দু রাষ্ট্রের দাবিতেও সোচ্চার হয় মানুষ।

জানা গিয়েছে, রাজতন্ত্রের সমর্থকরা ছাড়াও গণতন্ত্রের পক্ষে থাকা নেপালি কংগ্রেসের একাংশও প্রতীকী রাজতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে চাইছেন। এরই মধ্যে নেপালের (Nepal) প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা মাওবাদী নেতা প্রচণ্ড পাল্টা সভা করে প্রকাশ্যে হুঁশিয়ারি দেন রাজতন্ত্রপন্থীদের উদ্দেশ্যে। এরপর থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে জানা গিয়েছে। অন্যদিকে পুলিশের অভিযোগ, রাজা জ্ঞানেন্দ্রকে ফেরানোর দাবিতে উন্মত্ত জনতা শুক্রবার সরকারী ভবনে ভাঙচুরের পাশাপাশি একাধিক গাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিয়েছিল। এই সময় দেশের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ।

নিউজ পোল ফেসবুক পেজের লিংক: https://www.facebook.com/share/1EA79Afcw5/

সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এতটাই হাতের বাইরে চলে যায় যে জারি করতে হয় কার্ফু। জানা গিয়েছে, শনিবারও রাজধানী কাঠমান্ডু এবং বিভিন্ন শহরে সেনা টহল দিচ্ছে। উল্লেখ্য, ২০০১ সালে নেপালের (Nepal) সিংহাসনে বসেছিলেন জ্ঞানেন্দ্র। তবে ২০০৬ সালেই ক্ষমতা হারান তিনি। এরপর ২০০৮ নাগাদ ২৪০ বছরের রাজতন্ত্রকে হটিয়ে নেপালে প্রতিষ্ঠা করা হয় গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা। এরপর ২০১৫ সালে হিন্দু রাষ্ট্রের তকমাও উঠে যায় নেপালের গা থেকে। ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করা হয় দেশটিকে।