Eid: সম্প্রীতির ঈদে মানবতার জয়গান নিউটাউনে

কলকাতা জেলা শহর

নিউজ পোল ব্যুরো: সেই কবে লালন ফকির (Lalon Fakir) বলে গিয়েছিলেন, “সব লোকে কয় লালন কি জাত সংসারে!” তসলিমা নাসরিন (Taslima Nasrin) তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস ‘লজ্জা’ ‘র শুরুতেই লিখেছিলেন “ধর্মের অপর নাম হোক মানবতা।“ কিন্তু ধর্ম (Religion) আজ পরিণত হয়েছে ভেদাভেদির হাতিয়ারে। মনুষ্যত্বের (Mankind) চরম অপমানে আজ তার প্রকৃত অর্থ ভূলুণ্ঠিত। কিন্তু আজ‌ও এই মরা পৃথিবীতে কিছু মানুষ মানুষের পাশে দাঁড়ায় বলেই হয়তো টিকে আছে এই সমাজ, এই পৃথিবী। সোমবার ঈদের (Eid) বিকেলে নিউটাউনের (Newtown) ঘুনি এলাকায় যে সম্প্রীতির ছবি দেখা গেল।

আরও পড়ুন: Eid Celebration : রিষরায় এক মঞ্চে সিপিএম-কংগ্রেস-তৃণমূল! নজরে কি ২০২৬?

ঈদ (Eid) শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, ঈদ মানুষের মিলন, ভ্রাতৃত্ব এবং সম্প্রীতির প্রতীক। বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো যেরকম শুধু হিন্দুদের নয়, আপামর বাঙালির। ঠিক সেরকম‌ই যেন ঈদ‌ও। ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের শ্রেষ্ঠ উৎসবটিও সকলের। সোমবার বিকেলে উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদ সদস্য মোহাম্মদ আফতাব উদ্দিন এই বার্তায় দিলেন। তাঁর উদ্যোগে আয়োজিত হল এক অভিনব অনুষ্ঠান। যেখানে হিন্দু-মুসলিম-শিখ-বৌদ্ধ সব ধর্মের মানুষ মিলিত হয়ে সম্প্রীতির এক অনন্য নজির গড়ে তুললেন।

অনুষ্ঠানের (Eid) মূল উদ্দেশ্য ছিল সমাজের বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐক্য ও সম্প্রীতি গড়ে তোলা। মোহাম্মদ আফতাব উদ্দিন তাঁর বক্তব্যে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, “আমরা সকলে মানুষ। এটাই আমাদের একমাত্র পরিচয়। তাই বিভিন্ন ধর্মের ধর্মগুরুদের নিয়ে বিশ্ব শান্তি তথা সম্প্রীতির উদ্দেশ্য একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।” তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়ে হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান, শিখ ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মানুষ একত্রিত হয়ে একে অপরকে আলিঙ্গন করে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

নিউজ পোল বাংলা ফেসবুক পেজের লিংক: https://www.facebook.com/share/1EA79Afcw5/

এই পৃথিবীর আজ বড় অসুখ। রাজনীতির রং লেগে ধর্ম হারিয়েছে তার আসল রং। যে রং বিশ্বশান্তির ছবি আঁকে। যে রং বহুত্ববাদকে রাঙিয়ে তোলে। কিন্তু সেই বিবিধের মাঝে মিলন মহানের সুরটি গোঁড়া মৌলবাদের আস্ফালনে আজ বড়‌ই করুন। রক্তের রং লাল। যে রংয়ে মিশে যায় পৃথিবীর সব ধর্ম। যেখানে সব ধর্মকে ছাপিয়ে বড় হয়ে ওঠে মানব ধর্ম। নিউটাউনের এই সম্প্রীতির বার্তা যেন শুধুমাত্র একটি অনুষ্ঠানে (Eid) সীমাবদ্ধ না থেকে আগামী দিনে সমাজের বিভিন্ন স্তরে ছড়িয়ে পড়ে তাই প্রার্থনা এই ঘুন ধরে যাওয়া মহাবিশ্বের। আকাশের কোলে ঐ দেখা যায় একফালি ঈদের চাঁদ, সুলতানের গাঁ হতে ভেসে আসে আজানের সুর যার সঙ্গে মিশে যায় সন্ধ্যার শঙ্খধ্বনি। এই আমাদের বাংলা। আমাদের ভারতবর্ষ।