নিউজ পোল ব্যুরো: নিউটাউনে টোটো চালক সুশান্ত ঘোষ খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর মোড় (Newtown Case)। প্রথমে তার প্রেমিকা ও তার স্বামীর দিকে অভিযোগ উঠলেও, সিসিটিভি ফুটেজ হাতে আসার পর তদন্তের মোড় ঘুরে যায়। পুলিশের হাতে আসা ফুটেজে দেখা যায়, দুই নাবালক সুশান্তর টোটোতে চড়ে যাচ্ছে। এরপরই তাদের সন্ধানে নামে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, রাস্তার একটি সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ে দুই নাবালকের গতিবিধি। এই সূত্র ধরেই তদন্ত এগোতে থাকে। অবশেষে সোমবার সকালে পুলিশ অভিযুক্ত দুই নাবালককে শনাক্ত করে আটক করে। তাদের থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। দীর্ঘ জেরার পর তারা স্বীকার করে, তারাই সুশান্ত ঘোষকে হত্যা করেছে।
আরও পড়ুন:- Newtown Case: টোটো চালকের রহস্য মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য!
খুনের পরিকল্পনা একেবারে ঠান্ডা মাথায় করা হয়েছিল। প্রথমে হাতুড়ি দিয়ে পিছন থেকে মাথায় আঘাত করা হয় সুশান্তকে। এরপর একের পর এক আঘাত চালানো হয় সুশান্তর ওপর। শুধু হাতুড়ি নয়, হত্যার সময় আরও একটি ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল বলে অনুমান পুলিশের। সুশান্ত লম্বা ও শক্তসমর্থ ছিল। তাই পুলিশের সন্দেহ, শুধুমাত্র এই দুই নাবালকের পক্ষে তাকে হত্যা করা সম্ভব নয়। ঘটনাস্থলে অন্য কেউ উপস্থিত ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারীরা। উল্লেখ্য, (Newtown Case) পুলিশ ও পরিবারের দাবী, সুশান্ত ঘোষের সঙ্গে মামনি নামে এক মহিলার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। সেই সূত্রে সে মামনির বাড়িতে নিয়মিত যাতায়াত করত। তবে সম্প্রতি সে মামনির মেয়ের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ে এবং তার সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে চায়। এই বিষয় জানতে পেরে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে ওই মেয়ের প্রেমিক, যে এই ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত নাবালক। সুশান্তের এই ব্যবহারে তার রাগ বাড়তে থাকে। এরপরই ওই নাবালক হত্যার পরিকল্পনা করে।
নিউজ পোল বাংলা ফেসবুক পেজের লিঙ্ক:- https://www.facebook.com/share/1XhiZuM5DK/
সূত্রের খবর, অভিযুক্ত নাবালক ও তার বন্ধু দু’জনে মিলে ঠান্ডা মাথায় এই হত্যার পরিকল্পনা করেছিল। শনিবার অভিযুক্ত প্রেমিক নাবালক সুশান্তের টোটো ভাড়া করতে যায়। তবে সুশান্ত (Newtown Case) তখন বাড়িতে ছিল না। সে তার ফোন নম্বর সংগ্রহ করে নিয়ে আসে। এরপর রবিবার রাত সাড়ে দশটা নাগাদ ফোন করে সুশান্তকে বাইরে ডেকে পাঠায়।সুশান্তকে বের করে আনার পর, ওই অভিযুক্ত তার এক বন্ধুকে নিয়ে পরিকল্পনা অনুযায়ী আক্রমণ চালায়। সুশান্তকে একাধিকবার হাতুড়ি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। এই খুনের ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা, তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে পুলিশের। কারণ, একজন সুস্থ-সবল প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিকে শুধুমাত্র দুই নাবালক কীভাবে হত্যা করল, সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। পুলিশ দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে যাচ্ছে। অন্য কেউ কি আগে থেকেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল? নাকি হত্যার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অন্য কারও সাহায্য নেওয়া হয়েছিল? এই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ইকো পার্ক থানার পুলিশ ওই দুই নাবালককে গ্রেফতার করেছে। আজ মঙ্গলবার, ওই দুই নাবালককে বিধান নগর জুভেনাইল কোর্টে তোলা হবে।