Dilip Ghosh : উনি বারাবার এদিক ওদিক করেন! অর্জুন সিংকে কটাক্ষ দিলীপের

breakingnews কলকাতা জেলা রাজনীতি রাজ্য

নিউজ পোল ব্যুরো: বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) এক বছর আগে স্বমহিমায় দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। রোজকার মত বুধবার সকালেও নিউটাউনের ইকোপার্কে প্রাতঃভ্রমণে এসেছিলেন প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ তথা বঙ্গ বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি। সেখানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অর্জুন সিংয়ের (Arjun Singh) বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা থেকে শুরু করে রাম নবমী (Ram Navami) এবং আরও একাধিক রাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে মুখ খুলেছেন তিনি। পাশাপাশি পাথরপ্রতিমার বাজি কারখানায় বিস্ফোরণ প্রসঙ্গেও শাসককে তুলোধুনা করেন দিলীপ ঘোষ।

আরও পড়ুনঃ Dilip Ghosh:পাথরপ্রতিমায় বিস্ফোরণের নেপথ্যে কি আতঙ্ক ছড়ানোর রাজনীতি? প্রশ্ন দিলীপ ঘোষের

মঙ্গলবারই বিজেপি নেতা (BJP Leader) অর্জুন সিংয়ের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে ব্যারাকপুর এসিজেএম আদালত (Barrackpore ACJM Court)। প্রথমেই এই প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে রাজ্যের শাসক দলের পাশাপাশি অর্জুনকেও কটাক্ষ করেছেন দিলীপ। বলেন, “যেদিন থেকে অর্জুন সিং বিজেপিতে এসেছেন সেদিন থেকে তাঁর পিছনে লেগে আছে। একবার এসপি ৫৬টি গাড়ি নিয়ে তাঁর বাড়িতে হামলা চালিয়েছিল। ওটা ঠিকই আছে, বিরোধীকে রাখতে দেবে না। যার একটু তাগদ আছে তাকে শেষ করবে। তবে অর্জুন সিংকেও স্ট্যান্ড ঠিক করতে হবে। উনি এদিক ওদিক করেন। সমস্যা হয়ে যায় কর্মীদের পক্ষেও। ওঁর নামে ১০০টা কেস আছে, সমন এসেছে আগে। কোর্টে তিনি লড়ছেন। বাকিটা পার্টি লড়বে।”

এরপরই সরাসরি রাম নবমীর পোস্টার প্রসঙ্গে চলে যান দিলীপ (Dilip Ghosh)। তাঁর কথায়, “এটা একটা অরাজনৈতিক ইস্যু। যে কোনও ইভেন্ট হলে রাজনৈতিক পার্টি সেখান থেকে লাভ নিতে চায়। রাম নবমীর (Ram Navami) সঙ্গে প্রথম থেকে বিজেপি ও হিন্দু সংগঠন যুক্ত। তৃণমূল (TMC) বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে। হিন্দুদের কোনও সুরক্ষা নেই। তাই তারা একত্রিত হতে চাইছে।” এরই সঙ্গে যোগ করেছেন, “রাম মন্দির নিয়ে আন্দোলন শুরুর সময় থেকে রাম নবমীর হাওয়া লেগেছে গোটা হিন্দু সমাজে। মন্দির প্রতিষ্ঠা হওয়ায় আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। হিন্দু বিরোধী রাজনীতি যারা করছে তারা ভয় পাচ্ছে। তাই আটকানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু এতে বিপরীত হতে পারে।”

Dilip Ghosh

আগামী ৬ এপ্রিল দেশজুড়ে পালিত হবে রাম নবমী নিয়ে। এদিকে তার আগেই বাংলায় রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে। রাম নবমীকে কেন্দ্র করে বিজেপি (BJP) কি এরাজ্যে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করছে? বঙ্গ বিজেপির (BJP Bengal) প্রাক্তন রাজ্য সভাপতিকে এই প্রশ্ন করা হলে তিনি জবাব দেন, “আমরা খোলাখুলি হিন্দুদের পক্ষে কথা বলি। হিন্দুরা যখন আক্রান্ত হয়েছে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে বিজেপি। বাকিরা কার সঙ্গে আছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাষণে বোঝা যায়। নামাজে গিয়ে মুসলমান সমাজকে উসকাবেন হিন্দু সমাজকে ধমকাবেন।” আক্রমণের ধার বাড়িয়ে তিনি আরও যোগ করেন, “পশ্চিমবঙ্গকে বাংলাদেশ বানানোর চেষ্টা চলছে। ওপার বাংলার পরিণাম দেখে ভয় পাচ্ছে এপারের মানুষ। এখন তাই রামনবমীর শোভাযাত্রা হাতিয়ার হয়েছে। মানুষ পথে নামছে যে আটকানোর চেষ্টা করবে তার উপর দিয়ে হেঁটে যাবে মানুষ।”

রাম নবমী উপলক্ষ্যে রাজ্যে নিরাপত্তা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই বাতিল করা হয়েছে পুলিশের (West Bengal Police) ছুটি। এদিন এই প্রসঙ্গেও প্রশ্ন করা হলে দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) জানান, “এত বড় ইভেন্ট হবে। পুলিশকে সতর্ক থাকতে হবে। বাংলায় তো পুলিশের সংখ্যা কম বাড়ানো উচিত। যেখানে প্রয়োজন সেখানে পুলিশ থাকুক। হিন্দুরা জানে কিভাবে শান্তিপূর্ণভাবে তাদের অনুষ্ঠান করতে হয়।” পাশাপাশি তাঁর এও বক্তব্য, “শান্তি নষ্ট করে যদি অশান্তি করা হয় তাহলে তার দায় থাকবে পুলিশের। একটা সম্প্রদায় হলে তার গায়ে হাত দিতে পারে না পুলিশ। হিন্দুদের কিছু শেখাতে যাবেন না। যারা বিরক্ত করছে তাদের আটকান।” অন্যদিকে রাম নবমীতে বামেদের রাত পাহারার কর্মসূচি নিয়ে তিনি বলেন, “রাত জেগে দেখুক যাতে কোনও অশান্তি না হয়। রাম নবমী এলে সবার টেনশন বাড়ে কেন?”

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব চ্যানেলের লিংক: https://youtube.com/@newspolebangla?si=Ygy6shQubNhWstbr

এছাড়া ওয়াকফ বিল নিয়েও সরব হয়েছেন দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। তাঁর কথায়, “মুসলিম তোষণের রাজনীতি হয়ে আসছে এতদিন। মুসলিম নেতা আর যে পার্টি এতদিন ধরে এটা করেছে তাদের লাভ হয়েছে। সম্প্রদায়ের কোনও লাভ হয়নি। ১ লক্ষ ৪৮ হাজারের বেশি সম্পত্তি রয়েছে বাংলায়। কিন্তু তার কত সুবিধে পেয়েছে গরিব মুসলমান? গরিব মানুষের নাম করে তৃণমূল নেতারা এই সুবিধে নিচ্ছে।” অন্যদিকে পাথরপ্রতিমায় বাজি কারখানায় বিস্ফোরণ প্রসঙ্গে পুলিশের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন বিজেপি নেতা। তাঁর দাবি, কে কীভাবে লাইসেন্স পাচ্ছে তা পুলিশ জানে না সেটা হতেই পারে না। পাশাপাশি গুজরাটে বিস্ফোরণের ঘটনা প্রসঙ্গে তাঁর দাবি, সেই রাজ্যে অপরাধ করেও কেউ বেঁচে গিয়েছে এমনটা হয়নি কখনও।