নিউজ পোল ব্যুরো: সোমবার রাতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমার ঢোলাহাট থানা এলাকায় বণিক বাড়িতে মজুত বাজি থেকে ভয়াবহ বিস্ফোরণ (Patharpratima Blast) এবং অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ গিয়েছে ওই পরিবারের চার শিশুসহ আটজনের। আর এবার এই ঘটনায় গ্রেফতার করা হল বাজি ব্যবসায়ী বণিক পরিবারের বড় ছেলে চন্দ্রকান্ত বণিককে। জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। মঙ্গলবারই তাকে আটক করে ঢোলাহাট থানার পুলিশ। যদিও ছোটভাই তুষার বণিক পলাতক। তার খোঁজ চালাচ্ছে পুলিশ। এই ঘটনা শুরু থেকেই প্রশ্ন তুলে দিয়েছে পুলিশি গাফিলতি থেকে রাজনৈতিক দুর্নীতির। সূত্রের খবর যে ঘটনায় জেলা গোয়েন্দা দফতরের ব্যর্থতাকেই দায়ী করছেন রাজ্যের ডিজি রাজীব কুমার। এই ঘটনায় সুন্দরবন পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার কোটেশ্বর রাওয়ের ভূমিকায় রীতিমতো ক্ষুব্ধ হয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন: Patharpratima Blast: বাজি বিস্ফোরণে মৃত বেড়ে ৮, রিপোর্ট তলব নবান্নের
মঙ্গলবার কোটেশ্বর রাওয়ের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন রাজীব কুমার। সেখানে তিনি জানতে চান, কেন জেলা গোয়েন্দা বিভাগের কাছে বাজি মজুতের (Patharpratima Blast) কোনো তথ্য ছিল না? কেন তারা আগাম কোনো খবর পাননি? পুরো ঘটনায় সরাসরি জেলা পুলিশ সুপার তথা জেলা গোয়েন্দা প্রধানের দিকেই আঙুল তুলেছেন ক্ষুব্ধ রাজীব কুমার। একইসঙ্গে জেলায় আর কোথায় কোথায় এইধরণের কার্যক্রম চলছে তা অবিলম্বে খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবারই এই ঘটনার (Patharpratima Blast) পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছিল নবান্ন। সূত্রের খবর যে রিপোর্টে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা গিয়েছে বাড়ির মধ্যে বাজির কারখানা চালানোর কোন লাইসেন্সই ছিল না বণিক ভাইদের কাছে! পুলিশ সূত্রে খবর বেআইনি ভাবে বাড়িতে বাজি রাখার জন্য বছর তিনেক আগে এক বার গ্রেফতার করা হয়েছিল চন্দ্রকান্ত বণিককে। উদ্ধার হয়েছিল প্রায় ৬৮.৫ কেজি বাজি তৈরির মালমশলা। সেই কারণে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বাজি তৈরির লাইসেন্সের জন্য আবেদন করলেও তার অনুমোদন দেওয়া হয়নি। পঞ্চায়েতের থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিয়েই এইভাবে বাড়ির মধ্যে বেআইনি বাজি কারখানা চালাতেন তিনি। এমনকি বণিক পরিবারের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়রাও বলছেন প্রতি মাসে এসে টাকা নিয়ে যেত পুলিশ। অর্থাৎ পুলিশের প্রচ্ছন্ন প্রশ্রয়েই চলছিল এইধরণের কারবার? উঠছে প্রশ্ন।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব চ্যানেল লিংক: https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
অন্যদিকে এই ঘটনায় (Patharpratima Blast) ১৮০ ডিগ্রি ভিন্ন সুর শোনা গিয়েছে এডিজি দক্ষিণবঙ্গ সুপ্রতীম সরকারের গলায়। মঙ্গলবার ভবানীভবনে সাংবাদিক বৈঠক থেকে তিনি পুরো বিষয়টিকে ‘সচেতনতা’ ‘র অভাব বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বাড়িতে দাহ্য পদার্থ এভাবে মজুত রাখলে বিপদ ঘটবেই। সাধারণ মানুষের মধ্যে এইধরণের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা থাকলে বাড়ি বাড়ি গিয়ে পুলিশের পক্ষে নজরদারি চালানো সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে গোটা ঘটনাটি তদন্তসাপেক্ষ বলে দাবি করেন এডিজি দক্ষিণবঙ্গ। মঙ্গলবার বিকেলে বিস্ফোরণ স্থলে যায় রাজ্য ফরেন্সিক বিভাগের তিন সদস্যের একটি দল। বেশ কিছু নমুনা সংগ্রহ করেছে তারা।