নিউজ পোল ব্যুরো: রবিবার বাংলা তথা দেশজুড়ে পালিত হতে চলেছে রাম নবমী (Ram Navami)। তার আগে বৃহস্পতিবার আরও একবার রাম নবমী নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এবং রাজ্যের শাসক দল তৃণমূলকে (TMC) নিশানায় রাখলেন প্রাক্তন সাংসদ তথা রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। রোজকার মত এদিনও সকালে নিউটাউনের ইকোপার্কে প্রাতঃভ্রমণে আসেন দিলীপ। এসময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাম নবমী এবং একাধিক রাজনৈতিক বিষয়ে শাসকের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ Dilip Ghosh : উনি বারাবার এদিক ওদিক করেন! অর্জুন সিংকে কটাক্ষ দিলীপের
রাম নবমীকে কেন্দ্র করে অশান্তি ছড়াতে পারে রাজ্যে। এই আশঙ্কায় ইতিমধ্যেই বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা। শাসক দল তৃণমূলের তরফে বারবার দেওয়া হচ্ছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার বার্তা। এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) এদিন কটাক্ষের সুরে বলেন, “সম্প্রীতি হচ্ছে না কেন বাংলায়? বাকি দেশে তো কোনও সমস্যা নেই। আর রাম নবমী নিয়ে বিজেপি মাথা ঘামায়। তৃণমূল নেত্রী তো ঈদের দিন নামাজ পড়লেন। ওদের উৎসব তো হয়ে গিয়েছে। এবার আমাদের উৎসব করতে দিন।”
এর পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর “জুমলা পার্টি” মন্তব্যের জবাবও দিয়েছেন দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। বুধবার সাংবাদিক সম্মেলনে মমতা বলেছেন, “রামকৃষ্ণ-বিবেকানন্দকে মানব, জুমলা পার্টিকে মানব না।” এই প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা বলেন, “উনি কাউকে একজনকে তো মানবেন। উনি সংবিধান মানেন না। হাইকোর্ট, সুপ্রিমকোর্ট মানেন না। তো ওনার থেকে আর কী আশা করব আমরা? এত বড় একটা মহাকুম্ভ হল, তাকে উনি ‘মৃত্যুকুম্ভ’ নাম দিলেন। উনি আসলে শুধু রাজনীতি মানেন।”

প্রশ্ন ওঠে এসএসসিতে ২৬ হাজার নিয়োগ মামলা নিয়েও। সুপ্রিম কোর্টে যে মামলার রায় বেরোনোর কথা এদিন। এই বিষয়ে দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) বলেন, “হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছে তাতে সাধারণ মানুষ যে আশা করেছিল বা অভিযোগ ছিল তা প্রমাণ হয়েছে। যারা চাকরি পেয়েছে টাকা দিয়ে তাদের তো চাকরি যাবে। কিন্তু যারা টাকা নিয়েছে তাদের নাম বলতে হবে। দোষীদের শাস্তি দিতে হবে। না হলে নতুন করে এধরনের অপরাধ শুরু হবে। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া উচিত।” এছাড়া চাকরিতে দুর্নীতি নিয়ে তাঁর বক্তব্য, “শাসক যদি দুর্নীতিগ্রস্ত হয় তাহলে তার অধীনস্থ কর্মচারীরা দুর্নীতি করবেই। প্রশাসনের দিকে মন না দিয়ে সরকার প্রথম থেকে কেবল কাটমানিতে নজর দিয়েছে। সরকারে এসেই ত্রিফলা দুর্নীতিতে জড়িয়েছে। সরকারের দুর্নীতি মাথায় উঠে গিয়েছে। বিদায় না হওয়া পর্যন্ত দুর্নীতি কমবে না।”
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব চ্যানেলের লিংক: https://youtube.com/@newspolebangla?si=Ygy6shQubNhWstbr
অন্যদিকে তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ূন কবিরের ছেলের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ এবং পাথরপ্রতিমায় বাজি কারখানায় লাইসেন্স বিতর্ক নিয়েও আক্রমণ শানিয়েছেন বিজেপির প্রাক্তন সাংসদ। হুমায়ূন কবিরের ছেলের প্রসঙ্গে বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর ভাইয়ের ছেলে পুলিশকে পিটিয়েছে। মুকুল রায়ের ছেলে পুলিশের উপর অত্যাচার করেছে। এই ধারা তৃণমূল, সিপিএম, কংগ্রেস সব দলেই আছে।” পাশাপাশি বাজি কারখানার লাইসেন্স প্রসঙ্গে তাঁর দাবি, “পুলিশ কিছু করতে পারে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উপর থেকে জল ঢেলে দেন। পুলিশের হাত বেঁধে দিয়ে সন্ত্রাসবাদীদের সুযোগ করে দিচ্ছে সরকার।”