নিউজ পোল ব্যুরো: ২০১৬ সালের SSC প্যানেল নিয়ে শীর্ষ আদালতের রায়ে রাজ্য জুড়ে ঝড় উঠেছে। নির্বাচনী আবহে ২৬ হাজার জনের চাকরি বাতিলকাণ্ডে এমনিতেই চাপ বেড়েছে তৃণমূল সরকারের। এর মধ্যে বাংলার শাসক দলের অস্বিস্তি বৃদ্ধি করলেন প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ (former Trinamool Congress MP) জহর সরকার (Jawhar Sircar)। তাঁর পোস্ট ঘিরে বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন করে ঝড় তুলেছে।
প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ একটি পোস্টে লিখেছেন, ‘মানুষ আমাকে জিজ্ঞেস করে, আমি কেন তৃণমূলের সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছি। আমার বিবেক কি আমাকে এমন পচা দলের অংশ হওয়ার অনুমতি দিতে পারে? তৃণমূল সাম্প্রদায়িক বিজেপির কঠিনতম প্রতিদ্বন্দ্বী বলেই আমি সেখানে যোগ দিয়েছিলাম।” এর পরেই বিস্ফোরক দাবি করে তিনি বলেছেন, “দুর্নীতি এবং কর্তৃত্ববাদ চরমে পৌঁছে যাওয়ার কারণে” তিনি দল ত্যাগ করেছেন। বৃহস্পতিবার শীর্ষ আদালতে এসএসসি মামলার শুনানি ছিল। এদিন সকালে প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না এবং বিচারপতি পিভি সঞ্জয় কুমারের বেঞ্চ জানায় হাইকোর্টের আদেশে হস্তক্ষেপ করার কোনও কারণ তারা দেখেনি। আদালত ২৬ হাজার জনের চাকরি বাতিল করার পর জানায় এই নিয়োগগুলি প্রতারণার ফলে হয়েছিল এবং জালিয়াতি করা হয়েছে। আবার বেতন ফেরতেরও নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এর মধ্যেই রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্য বিজেপির সভাপতি সুকান্ত মজুমদার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর সরকারকে এই ঘটনার জন্য দায়ী করেছেন। তার মধ্যেই বোমা ফাটালেন জহর সরকার।
এই প্রসঙ্গে জানিয়ে রাখা ভাল, জহর সরকার (Jawhar Sircar)একজন অবসরপ্রাপ্ত আইএএস অফিসার যিনি প্রসার ভারতীর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ২০২১ সালে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন এবং রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে মনোনীত হন। তবে ২০২৪ সালে, কলকাতার আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে কর্মরত তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ-খুনের ঘটনার পর উচ্চকক্ষ এবং দল থেকে পদত্যাগ করেন। দলত্যাগের সময়ে তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) একটি খোলা চিঠিও দেন। যেখানে ক্ষমতাসীন দলের অভ্যন্তরে দুর্নীতির কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেছিলেন যে যখন তিনি প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জির বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমাণ তুলে ধরেন, তখন তৃণমূল নেতাদের একটি অংশ তাঁর নিন্দা করেছিল।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক: https://youtu.be/X-JGz5VbS4Q