শ্যামল নন্দী, বারাসাত: গোটা রাজ্য জুড়ে প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিল হওয়ায় (teacher job cancellation) দুশ্চিন্তার মেঘ নেমে এসেছে শিক্ষাঙ্গনে (2016 SSC Panel)। বিভিন্ন জেলার পাশাপাশি নদীয়াতেও (Nadia district) এর প্রভাব পড়েছে। চাকরি হারানো শিক্ষকদের চোখে জল, আর বিদ্যালয়গুলিতে (schools in West Bengal) শিক্ষাব্যবস্থা (education system crisis) এক গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।
আরও পড়ুন:- Supreme Court: সুদ সমেত সব টাকা ফেরত দিতে হবে চাকরিহারাদের
শান্তিপুরের শরৎকুমারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে (Saratkumari Balika Uchcha Vidyalaya) দুজন শিক্ষিকার চাকরি চলে গিয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা লীনা বিশ্বাস (Lina Biswas, headmistress) জানিয়েছেন, “আমাদের বিদ্যালয়ে প্রায় দুই হাজার ছাত্রী রয়েছে। আগে থেকেই শিক্ষকের সংখ্যা কম ছিল, তার মধ্যে এই দুজন শিক্ষিকা স্কুলের শিক্ষা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন। একজন ইংরেজি (English teacher) এবং অন্যজন ফিজিক্যাল সায়েন্স (Physical Science teacher) পড়াতেন। তাদের চলে যাওয়ায় কীভাবে পাঠদান চালানো যাবে, তা নিয়ে আমরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছি।” শুধু শিক্ষাক্ষেত্রেই নয়, ব্যক্তিগত জীবনেও এর গভীর প্রভাব পড়েছে। প্রসঙ্গত ওই একই বিদ্যালয় শান্তিপুরের সাথী চ্যাটার্জী (Sathi Chatterjee) নামে এক শিক্ষার্থী বর্তমানে বিএড (B.Ed) পড়াশোনা করছেন। তার স্বামী শিলিগুড়ির একটি স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। কিন্তু চাকরি বাতিল হওয়ায় পুরো পরিবার আর্থিক সংকটে পড়েছে। সাথীর শ্বশুর শিবু চ্যাটার্জী (Shibu Chatterjee) কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “আমি ব্রাহ্মণ ঘরের সন্তান, কিন্তু জাতপাতের বিচার না করে মেয়েকে বিয়ে দিয়েছিলাম কারণ ছেলে স্কুলের শিক্ষক ছিল। এখন তার চাকরি চলে যাওয়ায় (teacher job loss) আমরা দিশেহারা।”

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtu.be/X-JGz5VbS4Q
এই ঘটনার (2016 SSC Panel) জেরে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ যেমন অনিশ্চিত, তেমনই অসংখ্য পরিবারের রুটি-রুজিও বিপদের মুখে পড়েছে। এই পরিস্থিতি শুধু চাকরি হারানো শিক্ষকদের (terminated teachers) নয়, বরং গোটা শিক্ষাব্যবস্থাকে (education crisis) গভীর সমস্যার মধ্যে ঠেলে দিয়েছে। শিক্ষক সংখ্যা কমে যাওয়ার কারণে বিদ্যালয়গুলির (schools in Bengal) স্বাভাবিক শিক্ষাদান ব্যাহত হচ্ছে, ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। অন্যদিকে, এই তালিকায় দক্ষিণ দিনাজপুর জেলাও রয়েছে। জেলা উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ সূত্রে খবর, জেলার প্রায় ৫১১ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা ও ৭০ জন অশিক্ষক কর্মীর চাকরি চলে যেতে পারে।

২০১৬ সালের এসএসসি’র প্যানেল বাতিলে চাকরি হারালেন ২৫হাজার ৭৫৩ জন। যার মধ্যে নাম রয়েছে শিলিগুড়ির অনামিকা রায়ের। উল্লেখ্য,২০১৬-র প্যানেলে পরেশ চন্দ্র অধিকারীর মেয়ে অঙ্কিতা অধিকারী চাকরি পেয়েছিলেন।তবে এই চাকরি নিয়োগের মামলায় আদালতের দ্বারস্থ হন ববিতা সরকার। পরে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে চাকরি পান ববিতা সরকার। কিন্তু এখানেই থামেনি নিয়োগ প্রক্রিয়া,পাল্টা হাইকোর্টে দ্বারস্থ হন শিলিগুড়ির অনামিকা রায় এবং বিচার প্রক্রিয়া চলার পর ববিতা সরকারের চাকরি মেলে অনামিকা রায়।আমবাড়ি হরিহর হাই স্কুলে অ্যাসিস্ট্যান্ট টিচাররূপে নিযুক্ত হন অনামিকা রায়।তবে কয়েক মাস যেতে না যেতেই ফের ২০১৬ এসএসসির সম্পূর্ণ প্যানেলি বাতিল করে দিল সুপ্রিম কোর্ট।

এক কথায় কলকাতা হাইকোর্টের রাইকেই বহাল রাখল সুপ্রিম কোর্ট (2016 SSC Panel)।শুধু তাই নয় এদিন শীর্ষ আদালতে যোগ্য ও অযোগ্যদের আলাদা করে তালিকা জমা দেয় এসএসসি।এবং সেখান থেকেই অযোগ্যদের চাকরি যাবে ও ১২% সুদ সহ বেতন ফেরত দিতে হবে বলে জানিয়ে দেয় শীর্ষ আদালত।পাশাপাশি অযোগ্যরা নতুন নিয়োগ ও অংশ নিতে পারবে না বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়।