Annapurna Puja: মা অন্নপূর্ণার কৃপা পেতে চান? এই ছোট্ট কাজটিই যথেষ্ট!

জেলা রাজ্য

শ্যামল নন্দী, বারাসাত: শুরু হয়েছে চৈত্র নবরাত্রি (Navaratri)। এই নবরাত্রির (Navaratri) শুক্লপক্ষের অষ্টমী তিথিতে মা অন্নপূর্ণার পুজো (Annapurna Puja) অনুষ্ঠিত হয়। মা অন্নপূর্ণাকে সমৃদ্ধির দেবী হিসেবে পূজিত করা হয়। বাংলার প্রতিটি বাড়িতে পরিবারের সুখ-সমৃদ্ধি ও মঙ্গল কামনার জন্য মা অন্নপূর্ণার পুজো (Annapurna Puja) করা হয়। কাশী ভ্রমণকালে বিশ্বনাথ মন্দিরে (Kashi Vishwanath Temple) দর্শন করার সময় মা অন্নপূর্ণার পুজো অতি জরুরি। কথিত আছে যে, বাবা বিশ্বনাথ কাশি ধামের (Kashi Dham) প্রতিষ্ঠাতা, আর মা অন্নপূর্ণা হলেন কাশী ধামের মূল অধিষ্ঠাত্রী দেবী।

আরও পড়ুন: Basanti Puja Protest: আগুনে ছারখার বাসন্তী পূজোর প্যান্ডেল

মধ্যযুগে ভারতচন্দ্র রায় রচিত ‘অন্নদা মঙ্গল কাব্য’-এর দেবী অন্নদা (যিনি অন্ন দান করেন) হচ্ছেন আমাদের প্রিয় দেবী অন্নপূর্ণা। যিনি খাদ্যের মাধ্যমে সারা পৃথিবীকে পুষ্ট করেন। চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষের অষ্টমী তিথিতে অনুষ্ঠিত অন্নপূর্ণা পুজো (Annapurna Puja), ২০২৫ সালে ৫ এপ্রিল পড়ছে। বাংলা তারিখ অনুযায়ী এটি ২২ চৈত্র, ১৪৩১। এই পুজো চৈত্র নবরাত্রির (Navratri) অষ্টম দিনে অনুষ্ঠিত হয় এবং বিশেষত ভারতের পূর্বাঞ্চলে এটি “বাসন্তী পুজো” নামেও পরিচিত।

অন্নপূর্ণা পুজোটি মূলত মহিলাদের দ্বারা পালন করা হয়। কারণ দেবী অন্নপূর্ণা হলেন পার্বতীর এক রূপ। তিনি সারা পৃথিবীকে খাদ্যের মাধ্যমে পুষ্ট করেন এবং আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠেন। ভারতের পূর্ব ও উত্তরাঞ্চলে এই পুজোর বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে, যেখানে মা অন্নপূর্ণার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।

পুজো চলাকালীন মহিলা ও শিশুরা অন্নপূর্ণা স্তোত্র পাঠ করে। পুজোস্থলে দেবী অন্নপূর্ণার বিশেষ মূর্তি স্থাপন করা হয় এবং তার সামনে নানা ধরনের খাবার, ফল, শস্য ও মরসুমি সবজি সাজানো হয়। প্রথমে গণেশ পুজো (Ganesh Puja) করে পুজো শুরু হয়। তারপর দেবী অন্নপূর্ণার মূর্তির সামনে মন্ত্রপাঠ ও প্রার্থনা করা হয়। এই দিনে বিশেষ করে খাবারের নৈবেদ্য প্রস্তুত করা হয়। যা পরে পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক: https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT

বিশ্বাস করা হয় কাশী তীর্থে ভগবান শিব দেবী পার্বতীর কাছ থেকে ভিক্ষার পাত্রে খাবার গ্রহণ করেছিলেন। সেই ঘটনার স্মৃতিতেই অন্নপূর্ণা পুজো পালিত হয়। দেবী অন্নপূর্ণা, যিনি মানুষকে অন্ন দান করেন। সেই কারণে এই পুজোর সময় খাদ্যের অপচয় থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। বিশেষ করে এই দিনে শিশুদের অন্নদান বা খাদ্য দান করলে অত্যন্ত শুভফল মিলবে। পশুদেরও খাওয়ানো শুভ লক্ষণ হিসেবে দেখা হয়। দিনটিতে সারা ভারতেই হিন্দু ধর্মের মানুষেরা সাড়ম্বরে দেবী অন্নপূর্ণার উপাসনা করেন।