নিউজ পোল ব্যুরো: কলকাতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলাশয় রবীন্দ্র সরোবর (Rabindra Sarobar) আবারও বিতর্কের কেন্দ্রে। সম্প্রতি, দোলযাত্রা (Holi Festival) উপলক্ষে কিছু ক্লাবের জন্য সরোবরের দরজা খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কলকাতা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (KMDA)। কিন্তু এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন পরিবেশপ্রেমী সংগঠন এবং স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকলেও কিছু নির্দিষ্ট ক্লাবকে বিশেষ অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যা পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের পরিপন্থী। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে লেক লাভার্স ফোরাম (Lake Lovers Forum) সহ অন্যান্য সংগঠন সরাসরি প্রশাসনের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছে।মঙ্গলবার সকালে, লেক লাভার্স ফোরামের সদস্যরা রবীন্দ্র সরোবরের ১২ নম্বর গেটের সামনে বিক্ষোভ দেখান। তাদের সঙ্গে যোগ দেন বহু প্রাতর্ভ্রমণকারী (Morning Walkers), যারা প্রতিদিন লেক চত্বরে শরীরচর্চা করতে আসেন। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, কলকাতা হাইকোর্ট ও জাতীয় পরিবেশ আদালত (National Green Tribunal – NGT) বারবার নির্দেশ দিয়েছে, রবীন্দ্র সরোবরে কোনো ধরনের পরিবেশদূষণমূলক কার্যকলাপ করা যাবে না। এমনকি ছটপুজোর (Chhath Puja) মতো ধর্মীয় অনুষ্ঠানও বন্ধ করা হয়েছে পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে। কিন্তু এবার দোলের (Dol Festival) জন্য নির্দিষ্ট কিছু ক্লাবকে বিশেষ অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যা নীতিবিরুদ্ধ।

আরও পড়ুন:- AC Local Train: গরমে আর কষ্ট নয়! শিয়ালদা রুটে চালু এসি লোকাল ট্রেন
ক্লাবগুলোর জন্য সরোবরের দরজা খোলা রাখার এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীকে (Chief Minister) অভিযোগ জানানো হয়েছে। কলকাতা পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মাকেও (Police Commissioner Manoj Verma) ই-মেলের মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হয়েছে। অভিযোগকারীদের মতে, পরিবেশ রক্ষার জন্য যে কঠোর নিয়ম চালু করা হয়েছিল, তা প্রশাসন নিজেরাই লঙ্ঘন করছে। এর আগেও রবীন্দ্র সরোবর এবং উত্তর কলকাতার সুভাষ সরোবর (Subhas Sarobar) চত্বরে ছটপুজো বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় KMDA। আদালতের রায়ে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছিল, এই সরোবরের (Rabindra Sarobar) পরিবেশ যাতে কোনোভাবেই নষ্ট না হয়, সেদিকে নজর দিতে হবে। সেই কারণেই ছটপুজোর সময় লেকের দরজা বন্ধ রাখা হয়েছিল। কিন্তু এবার দোলের দিন ক্লাবগুলোর জন্য সরোবরের দরজা খোলা রাখা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।পরিবেশবিদদের মতে, সরোবর সংরক্ষণ এবং সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য প্রশাসন একদিকে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে, অন্যদিকে বিশেষ কিছু গোষ্ঠীর জন্য নিয়ম শিথিল করা হচ্ছে। এতে পরিবেশ দূষণ (Environmental Pollution) রোধের প্রচেষ্টায় বড়সড় ধাক্কা লাগতে পারে। লেক চত্বরে নির্মাণকাজ নিয়েও পরিবেশপ্রেমীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, জাতীয় পরিবেশ ট্রাইব্যুনালের (NGT) আদেশ উপেক্ষা করে সরোবরের ভেতরে নির্মাণকাজ চলছে, যা পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।
নিউজ পোল বাংলা ফেসবুক পেজের লিঙ্ক:- https://www.facebook.com/share/164mWXbsyp/

সাধারণ নাগরিকরা প্রশ্ন তুলেছেন, যদি ছটপুজোর মতো ধর্মীয় অনুষ্ঠানের জন্য লেক বন্ধ রাখা হয়, তাহলে দোলের মতো উৎসবেও একই নিয়ম কেন প্রযোজ্য হবে না? বিশেষ কিছু ক্লাবের জন্য নিয়ম আলাদা হলে সেটি স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতার পরিপন্থী বলে মত অনেকের। প্রশাসন যদি সত্যিই পরিবেশ সংরক্ষণে সচেষ্ট থাকে, তাহলে কোনো গোষ্ঠীর জন্য আলাদা নিয়ম করা উচিত নয়। রবীন্দ্র সরোবর (Rabindra Sarobar) সংরক্ষণের বিষয়ে প্রশাসনের দ্বৈত নীতি নিয়ে বিতর্ক ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। পরিবেশপ্রেমীদের দাবি, সরোবর রক্ষার ক্ষেত্রে কোনো আপস করা যাবে না। একইসঙ্গে, এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সকল পক্ষের মতামত গ্রহণ করা উচিত। এখন দেখার, প্রশাসন এই বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয় এবং সাধারণ মানুষের দাবি কতটা গুরুত্ব পায়।