Aparajita Adhya: দোল উৎসবেই সর্বনাশ! যা ঘটেছিল অপরাজিতার পরিবারের সঙ্গে

পেজ 3

নিউজ পোল ব্যুরো: দোল (Holi) মানেই রঙ, হাসি, আনন্দ, আর উৎসবের মেজাজ। “খেলবো হোলি, রং দেব না— তা কি হয়?” এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলেই সামনে আসে এক ভিন্ন বাস্তবতা। অনেকের কাছে দোল সত্যিকারের আনন্দের উৎসব হলেও, বহু মানুষের জন্য এই দিনটা এক তিক্ত অভিজ্ঞতার নাম। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে অনেকেই রঙের উৎসবে অংশ নিতে ভয় পান, কারণ রঙের আড়ালে লুকিয়ে থাকে নানা অপ্রত্যাশিত ঘটনা। এই প্রসঙ্গে অভিনেত্রী অপরাজিতা আঢ্য (Aparajita Adhya) তাঁর নিজের পারিবারিক এক ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছেন।অপরাজিতা বরাবরই অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর। ঠিককে ঠিক, ভুলকে ভুল বলতে তিনি দ্বিধা করেন না। দোলের দিনে ঘটে যাওয়া অপ্রীতিকর ঘটনাগুলো নিয়ে তিনি বললেন, “এই দিনটায় মেয়েদের খুব সচেতন থাকতে হয়। কারণ অনেকের কাছে এই দিনটা যেন ‘গায়ে হাত দেওয়ার’ গ্রিন সিগন্যাল (Green Signal)। রঙ মাখানোর অজুহাতে অনেকে শালীনতার সীমা অতিক্রম করেন। তাই বহু নারীই দোলের উৎসব থেকে নিজেকে দূরে রাখেন। সত্যিই কি দোল নারীদের জন্য রঙিন?”

আরও পড়ুন:- Arijit-Babul: রবীন্দ্রসঙ্গীতের পারিশ্রমিক বিতর্কে জলঘোলা!

এমন অনেক ঘটনা প্রায় প্রতি বছরই ঘটে, যেখানে নারীদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে রঙ মাখানোর নামে হেনস্থা করা হয়। অপরাজিতা মনে করেন, শুধুমাত্র উৎসবের আনন্দে মেতে ওঠা যথেষ্ট নয়, বরং এর সঙ্গে প্রয়োজন সতর্কতা ও সচেতনতা। যদিও ব্যক্তিগতভাবে অপরাজিতার সঙ্গে কোনো খারাপ ঘটনা ঘটেনি, তবে তার পরিবারের এক সদস্য ভয়ংকর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলেন। দোলের সময় শুধু মেয়েরাই যে বিপদের শিকার হন, তা নয়। তার দাদার সঙ্গেও ঘটেছিল এক ভয়ংকর দুর্ঘটনা। একবার তারা শান্তিনিকেতনে (Santiniketan) দোল উৎসবে অংশ নিতে গিয়েছিলেন। শান্তিনিকেতনের বসন্ত উৎসব (Basanta Utsav) রঙ, গান, নৃত্য আর সংস্কৃতির মিলনক্ষেত্র। কিন্তু সেখানেই ঘটে গিয়েছিল এক অপ্রত্যাশিত ঘটনা। অপরাজিতার দাদাকে দোল খেলার সময় এমন এক রং মাখিয়ে দেওয়া হয়, যার মধ্যে বিশেষ এক ধরনের কেমিক্যাল (Chemical) মিশ্রিত ছিল। কিছুক্ষণ পরই তিনি তীব্র চুলকানি ও জ্বালা অনুভব করতে শুরু করেন। পরিবারের কেউ প্রথমে বুঝতে পারেননি যে কী হচ্ছে। পরে দেখা যায়, ওই কেমিক্যাল মিশ্রিত রঙের কারণে তাঁর শরীরের একাধিক অংশ পুড়ে গিয়েছে! চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে দ্রুত চিকিৎসা করানো হয়। তবে সেই দোল তার জন্য এক দুঃস্বপ্ন হয়ে রয়ে গিয়েছে।

নিউজ পোল বাংলা ফেসবুক পেজের লিঙ্ক:- https://www.facebook.com/share/164mWXbsyp/

এই অভিজ্ঞতা থেকে অপরাজিতা মনে করেন, দোল শুধু নারীদের জন্য নয়, বরং সকলের জন্যই নিরাপদ হওয়া উচিত। রঙের উৎসব মানেই আনন্দ হওয়া উচিত, আতঙ্ক নয়। তাই তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান, দোল খেললেও নিরাপত্তার বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। অপরাজিতা বিশ্বাস করেন, দোল উৎসব (Holi Festival) অবশ্যই আনন্দদায়ক। তবে তার মানে এই নয় যে, এই আনন্দের মোড়কে অন্যের ব্যক্তিগত পরিসরে অনধিকার প্রবেশ করা যায়। তিনি বলেন, “দোলের আনন্দ শুধু আবির, মিষ্টি খাওয়া, গান-বাজনায় সীমাবদ্ধ থাকলে সত্যিই সেটা সুন্দর মুহূর্ত তৈরি করে। কিন্তু নিরাপত্তাহীনতার কারণে যদি কেউ আতঙ্কে থাকে, তাহলে সেই উৎসবের মানেই থাকে না।” তাই এবছর দোল হোক শুধুই রঙিন আনন্দের উৎসব, কোনো কালো ছায়া যেন এই উৎসবের রঙ নষ্ট না করে!