নিউজ পোল ব্যুরো: হাওড়ার গঙ্গাতীরে অবস্থিত বেলুড় মঠ (Belur Math) বরাবরই তার আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্য পরিচিত। প্রতি বছর দোল উৎসব (Holi Festival) উপলক্ষে এখানে অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ পূজা ও আচার-অনুষ্ঠান, যা ভক্তদের এক অনন্য ভক্তিময় পরিবেশের স্বাদ দেয়। অন্যান্য জায়গায় দোল উৎসব সাধারণত রঙের খেলা, গান-বাজনা ও আনন্দের মাধ্যমে উদযাপিত হলেও, বেলুড় মঠের এই উৎসব মূলত ভক্তি, সাধনা ও আধ্যাত্মিকতার ওপর গুরুত্ব দেয়। দোলযাত্রার (Belur Math Dol Utsav) আগের দিন, অর্থাৎ বৃহস্পতিবার, বেলুড় মঠে অনুষ্ঠিত হয় হোলিকা দহন (Holika Dahan) বা ন্যাড়া পোড়া (Nera Pora)। এই প্রথা মূলত পুরাতন জীর্ণতার অবসান ঘটিয়ে নতুন জীবন, নব বসন্তকে আহ্বান জানায়। সন্ধ্যার সময় গঙ্গার তীরে (Ganges River Bank) ভক্তরা একত্রিত হন এবং ধর্মীয় আচার ও পূজা-পাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।
আরও পড়ুন:- Dilip Ghosh: শান্তিনিকেতনে হোলি নিষিদ্ধ! প্রকাশ্যে ক্ষোভ দিলীপ ঘোষের

প্রথা অনুসারে, প্রথমে মূল মন্দিরে শ্রীরামকৃষ্ণ দেবের (Sri Ramakrishna) মূর্তির সামনে সন্ধ্যারতি (Evening Aarti) সম্পন্ন হয়। এরপর স্বামীজীর বাসভবনের (Swami Vivekananda’s House) পাশে গঙ্গার তীরে ঠিক সন্ধ্যা ৭টার সময় হোলিকা দহন শুরু হয়। পুরোহিতদের (Priests) নেতৃত্বে বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের (Vedic Chanting) মধ্য দিয়ে আগুনকে পবিত্রতার প্রতীক হিসেবে স্থাপন করা হয়। কাঠ, খড় ও অন্যান্য দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করে হোলিকার প্রতীকী দহন করা হয়, যা অশুভ শক্তির বিনাশের প্রতীক (Symbol of Victory Over Evil) হিসেবে বিবেচিত হয়। এই বিশেষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত সন্ন্যাসী মহারাজরা (Monks) ভক্তিমূলক গান, হারমোনিয়াম, খোল (Khol), করতাল (Kartal) ও অন্যান্য বাদ্যযন্ত্রের সহযোগে বিভিন্ন ভজন ও সংকীর্তন পরিবেশন করেন। তাঁদের সুমধুর কণ্ঠে গাওয়া ভজন ও সংগীত পরিবেশকে এক অপার্থিব রূপ দেয়। ভক্তদের কণ্ঠে “হরে কৃষ্ণ, হরে রাম” (Hare Krishna, Hare Rama) ধ্বনিতে গোটা মঠ চত্বর মুখরিত হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠান শেষে ভক্তরা হোলিকার ভস্ম (Sacred Ash) সংগ্রহ করেন, যা শুভ শক্তির প্রতীক (Symbol of Auspiciousness) হিসেবে বিবেচিত হয়। অনেকে এই ভস্ম কপালে পরেন, আবার অনেকে পবিত্রতার নিদর্শন হিসেবে বাড়িতে নিয়ে যান।(Belur Math Dol Utsav)
নিউজ পোল বাংলা ফেসবুক পেজের লিঙ্ক:- https://www.facebook.com/share/164mWXbsyp/

হোলিকা দহনের পরের দিন, অর্থাৎ আজ শুক্রবার, দোলপূর্ণিমায় (Dol Purnima) বেলুড় মঠে শুরু হয় মূল দোল উৎসব। (Belur Math Dol Utsav) ভোর থেকেই ভক্তরা মঠে সমবেত হন এবং শ্রী শ্রী ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ দেবের মূর্তির সামনে প্রণাম নিবেদন করেন। এরপর শুরু হয় আবির খেলা (Playing with Abir)। সন্ন্যাসী মহারাজরা খোল, করতাল হাতে নিয়ে গানে-নৃত্যে আবির ছড়িয়ে আনন্দে মেতে ওঠেন। একে একে ভক্তরাও তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন এবং এক অনন্য ভক্তিস্নাত পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এরপর মঠ চত্বরের সমস্ত মন্দির প্রদক্ষিণ (Circumambulation of Temples) করে এই বিশেষ রঙের উৎসব পালন করা হয়। বেলুড় মঠের এই দোল উৎসব শুধুমাত্র রঙের খেলা নয়, এটি এক আধ্যাত্মিক মিলনোৎসব (Spiritual Gathering)। ভক্তি, সাধনা ও ভ্রাতৃত্ববোধের এক অপূর্ব সংমিশ্রণে এই দিনটি ভক্তদের কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকে।